তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২১st মে ২০১৯

ফিচার

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি ছিল লক্ষণীয়

ফরিদ আহম্মদ বাঙ্গালী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাকৃতিকভাবেই শুরু হয়, প্রাকৃতিক নিয়মেই শেষ হয়। এটি ঠেকানোর জন্য মানুষের হাতে কোনো শক্তি নেই। যুগে যুগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, ভয়াবহ আকারে ধ্বংস করে গেছে মানুষের ঘরবাড়িসহ অসংখ্য গ্রাম। আজও সেই ধ্বংস চিহ্ন মানুষ বয়ে বেড়ায়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ সাইক্লোনের কথা ইতিহাসের ভয়াবহ সাক্ষী হয়ে আছে। ওই সালের ১২ই নভেম্বর, উপকূলবর্তী জেলা সন্দ্বীপ, নোয়াখালী, হাতিয়ার উপর দিয়ে ইতিহাসের ভয়াবহতম সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায়। এই সাইক্লোনে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ মারা যায়, বহু মানুষ নিখোঁজ হয়। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। পৃথিবীতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ কখনো মারা যাওয়ার ইতিহাস রচিত হয়নি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সাহায্য সহযোগিতা বা উদ্ধার কাজে চরমভাবে উদাসীনতা দেখিয়েছে যা ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তখন জেলখানা খেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দুর্গত মানুষের পাশে ন্যূনতম ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

এবারের সাইক্লোন ‘ফণী’ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বেশ কয়েকদিন পূর্ব থেকেই সবাইকে সর্তক করে দিয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় ছিল যে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহ সম্পূর্ণভাবে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। ফণীর ফণার আঘাতের ক্ষয়ক্ষতি যাতে হ্রাস করা যায় সেদিকে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা ছিল শুরু থেকেই লক্ষণীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে থেকেও নিজে ঘুর্ণিঝড় ‘ফণী’র সার্বক্ষণিক খবরাখবর রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে শুক্রবার সারাদেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল করা হয়, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় প্রার্থনা সভা হয়েছে। এতে করে সৃষ্টিকর্তার করুণা পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সচেতন হয়েছে, একে অপরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

উপকূলীয় ১৯ জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছিল। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ রেডিও-টেলিভিশনসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক প্রচারমাধ্যম নিজ নিজ উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য ব্যাপক প্রচার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দিনে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল। এতে করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে যথাসময়ে সাইক্লোন সেন্টারে স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রীসহ অন্যান্য উপকরণ মজুদ রাখা হয়েছিল এসব সেন্টারে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত ছিল, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।

একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো যে ‘ফণী’ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সারাদেশ একত্রিত হয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিল। ফণী তার ফনাটি উড়িস্যার পুরিতে ছোবল দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, সাতক্ষীরায় প্রবেশ করে। এতে করে গাছ পড়ে ঘর ভেঙ্গে কিছু মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, প্রায় ২ শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। এটাও কাম্য ছিল না। ইতোমধ্যে মৃতদের দাফনের জন্য সরকার থেকে ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ফণীকে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকায় ‘ফণী’ তেমন কিছুই করতে পারেনি। বুদ্ধি, পরিকল্পনা, সমন্বয় ও সফল নেতৃত্বের গুণে তেমন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আক্রান্ত প্রত্যেক জেলার ক্ষেত্রভেদে ১০০-২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে রাখা হয়েছিল।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, খরা, ভূমিধস, টর্নেডো, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর জান ও মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতন করার জন্য সরকার সবসময়ই তৎপর থাকে। কেননা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জনগণের করণীয় বিষয়গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে।

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ বাংলাদেশে মূলত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এইসব দূর্যোগ প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা মানুষের হাতে থাকে না, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি কিছু করণীয় আছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সময় উপকূলের নিচু এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিচু এলাকায় পাকা দালানে থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। সুতরাং কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে দেরি না করে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া উচিত। ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও গতিপথ অনুযায়ী বন্দরগুলোতে জারী করা হয় বিপদ সংকেত। এসব সংকেত মেনে চলা উচিত। অবহেলা করলেই বড়ো ধরনের বিপদ হতে পারে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের আগে পাঠাতে হয়। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় টর্চলাইট, দেয়াশলাইসহ মোমবাতি, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নিতে হবে। দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখা হয়। জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখতে হবে। এসব এলাকার জেলেদের সকাল, দুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করা হয়। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে, তা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া ও বিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরেও কিছু করণীয় রয়েছে। যেমন- রাস্তা বা ঘরবাড়ির উপর উপড়ে পড়া গাছপালা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করা এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিতে সহায়তা করে। অপেক্ষাকৃত ভাল পানি ফিটকারি বা ফিল্টার দিয়ে খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যাতে পানিবাহিত রোগ না হয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। যেহেতু ঝড়-বাদলা এ সময়ে ঘটতেই পারে তাই খেয়াল রাখতে হবে ঝড় একটু কমলেই যেন ঘর থেকে কেউ বের না হয়। কেননা পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঝড়ের পূর্বেই কিছু শুকনো খাবার সংরক্ষণে রাখতে হবে। এসময় যেটা জরুরি তা হলো অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা। নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বণ্টন (আলাদা লাইনে) করতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ৪ ক্যাটাগরির শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল। একই ক্যাটাগরির ঘুর্ণিঝড় ছিল ১৯৭০ সালের। ১৯৭০ সালে যেখানে ১০ লাখ লোক মারা গিয়েছে সেখানে ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১২ জন লোক মারা গেছে। এখানেই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সফলতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো দুর্যোগে মৃত্যুর হার একক সংখ্যায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। তারপরও কিছু সময় প্রশাসনের নাগালের বাইরে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায়। এ একই ঘূর্ণিঝড় কিন্তু ভারতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আমরা আশা করছি সরকারের আন্তরিকতা আর জনগণের সচেতনতায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও কমে আসবে, দুর্যোগে বাংলাদেশ রোল মডেল এ তকমা আরও সুসংহত হবে।

#

০৯.০৫.২০১৯                                                                                                     পিআইডি প্রবন্ধ

অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক

মো. জাহাঙ্গীর আলম

স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে হলে সমষ্টিকেন্দ্রীক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। এটা সর্বজনবিদিত যে, দীর্ঘকাল তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হলেও সামগ্রিকভাবে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র খুবই হতাশাব্যঞ্জক। সমষ্টি পর্যায়ে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে একটি মাইলফলক। দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা গ্রামপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদান করছেন। তারা দেশের তৃর্ণমূল পর্যায়ে দরিদ্র মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এক কথায় বলা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিক হচ্ছে সরকারের সর্বনিম্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো।

জনবান্ধব কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমটি ১৯৯৬ সালে গৃহীত হয় এবং ১৯৯৮ এ বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ ২০০৯ সাল থেকে ২৬ এপ্রিলকে ‘জাতীয় কমিউনিটি ক্লিনিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। সরকারি অর্থায়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রকল্পটি পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮ এর সূচনার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে এখন থেকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্থাৎ সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

কমিউনিটি ক্লিনিক যাতে সচল থাকে, সে জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের চিন্তা করছে বর্তমান সরকার, সেটি খুবই শুভ উদ্যোগ। বাংলাদেশ সরকার ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮’ পাস করে। এই আইনের ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল কর্মী তাদের চাকুরি স্থায়ীকরণের পাশপাশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, পদোন্নতি, অবসর ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবে সরকারি চাকরির মতো। এ ছাড়াও এই ট্রাস্ট আইনের ফলে গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো। এই ট্রাস্ট আইনের আরও একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ১৯৭৮ সালের ৬-১২ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তানের আলমা-আতা শহরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (Declaration of Alma-Ata) যে সকল বিষয়ে গুরুত্ব দেয় সেগুলোর অনেকগুলো অনুসরণ করা হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকল স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কর্মীকে সুরক্ষার আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যা এই ট্রাস্ট আইনের আওতায় করা হবে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে পূর্বের তুলনায় অনেকাংশেই উন্নয়ন ঘটেছে। স্বাস্থ্যসেবা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর সুবিধা জনগণ ভোগ করছে। বর্তমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার যে অগ্রগতি তা কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য সাধিত হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৩ হাজার ৮১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক সচল রয়েছে। একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কাজ করছেন। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে মোট ভিজিটের সংখ্যা ৭৪ কোটিরও অধিক। সুবিধাবঞ্চিতসহ প্রান্তিক/গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ৩২ ধরনের ওষুধ। সরকারের আরও এক হাজার ২৯টি ক্লিনিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এ সকল কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদানসহ সপ্তাহে তিনদিন পুষ্টি বিষয়ে এবং তিনদিন পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সেবার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক পরামর্শও প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে আপামর জনসাধারণকে সস্পৃক্ত করা দেশের স্বাস্থ্যখাতে এই প্রথম। এ আইনের দশম ধারায় ট্রাস্টের দায়িত্ব ও কার্যাবলীতে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাভুক্ত এলাকাসমূহে জনগণের মাঝ থেকে মনোনীত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটি গ্রুপকে কার্যকর ও গতিশীলকরণসহ ট্রাস্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার নিশ্চিত করাও ট্রাস্টের অন্যতম দায়িত্ব।

কমিউনিটি ক্লিনিক প্রত্যন্ত গ্রামের নারীকে সন্তান প্রসবের জন্য তাৎক্ষণিক দক্ষ সেবা দিচ্ছে ও এতে করে মাতৃমুত্যু, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস পাচ্ছে। অদক্ষ দাইয়ের হাত দিয়ে সদ্যোজাত শিশুর কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বেড়েছে। প্রচণ্ড দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সমস্যায় মানুষ এখন হাতের কাছের কমিউনিটি ক্লিনিকে ভরসা পাচ্ছে। এসব ক্লিনিকের পরামর্শ সেবাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাবার, গর্ভকালীন তথ্য, জন্মনিয়ন্ত্রণ পরামর্শ ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা জনসচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করছে।

স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা-উপজেলার হাসপাতালে যাওয়ার আগে ছোট খাটো অসুখে কমিউনিটি হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করুন। এখানেও যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে করে আপনার সময় ও অর্থ বেঁচে যাবে এবং দ্রুত চিকিৎসা লাভের সুযোগ হবে। নিজে নিজে কোনো রোগের ঔষধ গ্রহণ না করে হাতের কাছে যে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে সেখানকার ডাক্তারের সাথে একবার পরামর্শ করুন। তাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করুন যাতে কোন কোন বিপদে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবাটা পেতে পারেন। যে কোনো অসুখের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা আপনাকে অসুখটার ক্রমবৃদ্ধি ঠেকাতে সহযোগিতা করবে। তারপর প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা উপজেলায় যেতে পারেন। দুর্ঘটনায় আপনার কোনো অঙ্গ কেটে গেছে। জেলা উপজেলায় যেতে যেতে আপনার প্রচুর রক্তক্ষরণে সমস্যা বাড়তে পারে। আবার আপনার প্রেসার কমে বা বেড়ে গেছে আপনি বুঝতে পারছেন না। এ সময়ে কাছের ডাক্তারই আপনার পরম বন্ধু হতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মাঠপর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিককে জনবান্ধব করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ বজায় রাখতে হবে।

আমরা জানি, সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। একটি উন্নত জাতি গঠনে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জাতির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অংশগ্রহণে গঠিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাই পারবে আগামীতে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে। অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আসুন সবাই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করি।

#

০৮.০৫.২০১৯                                                                               পিআইডি প্রবন্ধ

নিশ্চিত হোক প্রত্যাগত নারীকর্মীর পুনর্বাসন

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান

শাহিনূর বেগম, ত্রিশের কাছাকাছি বয়সের এক নারী লেবাননে কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে পাচার হয়ে সিরিয়ায় চলে যায়। অবর্ণনীয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে সৌভাগ্যক্রমে সে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা আর গণমাধ্যমের সহায়তায় দেশে ফিরে আসতে পারে। আর দেশে ফিরে শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। পারিবারিক-সামাজিক লাঞ্ছনার সাথে খাপ খাওয়ানো, নিঃস্ব অবস্থায় দিনপাত করা, সম্মান নিয়ে বাঁচার যুদ্ধ। এ অবস্থায় কিছু সহানুভূতিশীল ব্যক্তির কল্যাণে সে জানতে পারে ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কথা। যে বোর্ড প্রবাসীকর্মীদের কল্যাণে নিয়োজিত। সেখানে আবেদন করে সম্বলহীন শাহিনূর এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পায়। যে টাকা দিয়ে সে নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টা করছে।

বহুকাল আগে থেকেই অধিক উপার্জন আর উন্নত জীবনের আশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও প্রবাসে বিভিন্ন কর্মে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। বিপুল জনগোষ্ঠীর এদেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখেরও বেশি নারী ও পুরুষ যুক্ত হচ্ছে। তার তুলনায় কর্মসংস্থানের হার একেবারে কম। তাই এর বিরাট একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়ে। কর্মহীন থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজে নানারকম সমস্যার সূত্রপাত হয়। তখন একরকম বাধ্য হয়েই ভাবতে হয় অভিবাসনের কথা। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশে নারীকর্মী প্রেরণ শুরু করে। এরপর থেকে সরকার প্রায় ২০-২৫টি দেশে মোট ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৫ জন নারীকর্মীকে বিদেশে চাকুরির জন্য প্রেরণ করেছে। এতে রেমিটেন্সও এসেছে প্রচুর। তাদের প্রেরিত রেমিটেন্সই বাংলাদেশের বিকাশমান অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

বাংলাদেশের নারীকর্মীদের অভিবাসনের ইতিহাস অতটা সুখকর নয়। যেসব নারীকর্মী বিদেশে যায় তাদের অধিকাংশই অদক্ষ। অনেকেই দেশের অভ্যন্তরে নিয়মিত কর্মে নিযুক্ত নয়। অনেকে সমাজ সংসারের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে পাড়ি জমায় বিদেশে। এদের  মধ্যে কেউ কর্মস্থলে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে, আবার কেউ শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে দেশে ফিরে এসেছে। কেউ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। কেউ কেউ হাসপাতালে শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছে।

প্রবাসে কর্মীরা সফল হোন আর বিফল হোন তাদেরকে সরকার দেশের মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করে। সরকার তাদের প্রেরিত অর্থ আর অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকার ওয়েজ আর্নার্স আইন-২০১৭ নামে একটি আইন পাশ করেছে। এতে বলা আছে- ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড বিদেশে কর্মরত কোনো নারী অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্যকোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে তাদের উদ্ধার ও দেশে আনয়ন, আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়া, এছাড়া দেশে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং দেশে-বিদেশে সেফহোম ও হেল্প ডেস্ক পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়াও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের পুনর্বাসনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের সবধরনের সামাজিক নিরাপত্তাসহ দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ থেকে ২,১৮৯ জন নারীকর্মী বিদেশে গমন করে। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সংখ্যা কোনোভাবেই দুই হাজারকে অতিক্রম করতে পারেনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চার বছরে মোট ২,৪১৮ জন নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এই সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে। প্রসঙ্গত ২০১৫ সালের পূর্বে বাংলাদেশের নারীকর্মীদের সৌদি আরবে কর্মসংস্থান প্রায় বন্ধই ছিল। ২০১৫ সালে সৌদির শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার ফলে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নারীকর্মীর বিদেশ গমনের সংখ্যা রাতারাতি লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই ৪ বছরে মোট ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৩২ জন নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গিয়েছে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার নারীকর্মী। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৯৫ জন নারীকর্মী বিদেশে গমন করেছে। বাংলাদেশ সরকার নতুন করে হংকং, জর্ডান, লেবানন, ওমানসহ কয়েকটি দেশের সাথে বিভিন্ন সেক্টরে নারীকর্মী প্রেরণের চুক্তি করেছে। অন্যান্য দেশেও নারীকর্মী প্রেরণের জন্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সেইসাথে জোর দেওয়া হচ্ছে দক্ষ নারীকর্মী প্রেরণের বিষয়টিতেও।

নারীকর্মীর নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিএমইটিতে নারী অভিবাসী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রায় সব জেলা/উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে যথাযথ ভাষা ও ট্রেড প্রশিক্ষণ প্রদান করে নারীকর্মীদের যোগ্য করে তুলছে। নারীকর্মীর অধিকার রক্ষায় আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীকর্মীদের জন্য সেফহোম নির্মাণ, শেল্টার হাউজ স্থাপন, দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, নারীকর্মীর সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তাসহ বেতন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ নেগোসিয়েশন করছে। প্রত্যাগত নারীকর্মীরা বিমানবন্দরে আসার সাথে সাথে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মেডিকেল সুবিধাসহ নানা সহায়তা ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চালু রয়েছে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’ যার নম্বর (+৮৮ ০১৭৮৪ ৩৩৩ ৩৩৩ , +৮৮ ০১৭৯৪ ৩৩৩ ৩৩৩ এবং +৮৮ ০২৯৩৩৪৮৮৮)। সরকার বিদেশ গমনেচ্ছু নারী-পুরুষ সকলকে জেনে, বুঝে, ভাষা শিখে ও যথাযথ ট্রেনিং নিয়ে অভিবাসনে পরামর্শ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের একটি বড়ো শ্রমবাজার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ। আমাদের শ্রমিকেরাও সেখানে যেতে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমরা সৌদি আরবকে যে শ্রদ্ধার অবস্থানে রেখেছি নিশ্চয় সৌদি আরব সে সম্মানের মূল্যায়ন করবে। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। সৌদি আরবসহ হোস্ট দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। এতে করে কর্মীদের প্রবাস জীবন স্বস্তির হবে।

প্র্রায়ই বিভিন্ন দেশ থেকে নারীকর্মীরা ফিরে আসছেন। দেশের অনেক মহল থেকেই নারীকর্মীদের বিদেশে প্রেরণের ব্যাপারে নেতিবাচক মতামত আসছে। তবে অভিবাসন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কাজের খোঁজে মানুষ স্ব উদ্যোগেই বিদেশে যায়। বাংলাদেশের নারীসমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই সামাজিক অবস্থান সৃষ্টি করতে নারীকর্মীর অভিবাসন অত্যন্ত জরুরি। লক্ষণীয় যে, বিগত সময়ে নারীকর্মীর অভিবাসন বিভিন্ন কারণে ব্যাহত হওয়ায় নারী পাচারের ঘটনা ঘটতো। অভিবাসন ও মানব পাচার একে অপরের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অভিবাসন ব্যাহত হলে মানব পাচার বেড়ে যাবে -এটাই স্বাভাবিক।

শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিগ্রহের শিকার হয়ে প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নারীকর্মীরা জেনে, বুঝে, ভাষা শিখে, বেসিক আইনকানুন জেনে, যে এজেন্সির মাধ্যমে যাবে সেই এজেন্সির সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে, যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে, দেশীয় প্রশিক্ষণের মান ও মেয়াদ বাড়ালে, তাদের প্রত্যেকের হাতে স্মার্ট ফোন দেওয়া হলে, পাসপোর্ট ও ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আরো নজরদারি বাড়ালে এবং সরকার ও দূতাবাসের মাধ্যমে নারীকর্মীর খোজ নিলে, সময়ে সময়ে মালিকের সাথে কর্মীর ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হলে, মাঝেমধ্যে ছুটি-অবসর-বিনোদনের ব্যবস্থা করা হলে, সুষ্ঠু ডাটাবেইস ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হলে, নির্যাতন ও প্রতারণাকারীকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারলে নারীকর্মীর শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই লাঘব হতে পারে। সকল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে জয় হোক সকল নারীকর্মীর, জয় হোক বাংলার শ্রমজীবী মানুষের।

#

০৫.০৫.২০১৯                                                                            পিআইডি প্রবন্ধ

Feature weabsite (1).pdf Feature weabsite (1).pdf

Share with :

Facebook Facebook