কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:২৬ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৬-০৭-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৬-০৭-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৬
আইনমন্ত্রীর সাথে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সাক্ষাৎ
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সুপ্রীম কোর্টে কর্মরত আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আইনমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আইনজীবীদের দাবির যৌক্তিকতার প্রতি একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর একটি। এ লক্ষ্যে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন,
সহ-সভাপতি মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মো. জিয়াউর রহমান, সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ সামসুল ইসলাম (মুকুল) ও মাকসুদ উল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য এইচ.এম. সানজিদ সিদ্দিক, এ.কে.এম. আজাদ হোসেন, ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসাইন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, মো. টিপু সুলতান এবং আজিজ উদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইনজীবীদের পেশাগত পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিচারপ্রার্থীদের আরো উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনজীবী সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
#
রেজাউল/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০৩১ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৫
নাসা মেইনল্যান্ডের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত, ১২ জুলাইয়ের মধ্যে মিলবে বেতন-ভাতা
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
নাসা মেইনল্যান্ড গার্মেন্টসের শ্রমিকদের চলমান সংকট নিরসনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সব ধরনের বকেয়া বেতন ভাতা এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের বকেয়া অর্জিত ছুটির অর্থ পরিশোধ করা হবে।
আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নাসা মেইনল্যান্ডের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সাথে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এই ঘোষণা দেন।
এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নাসা মেইনল্যান্ড গ্রুপের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আজ সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে নাসা মেইনল্যান্ডের শ্রমিকদের সকল প্রকার বকেয়া ভাতা এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের সকল বকেয়া অর্জিত ছুটির অর্থ শতভাগ পরিশোধ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উভয় পক্ষ। নাসা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জন চৌধুরী এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সচিবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে, শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাস্তা অবরোধ বা জনদুর্ভোগ হয় এমন কোনো আন্দোলনে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শ্রমসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তৃবৃন্দ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। নাসা মেইনল্যান্ড গার্মেন্টসের মলিকের পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জন চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ এবং শ্রমিকদের পক্ষে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, বিগত ঈদুল ফিতরের পর থেকে আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে নাসা মেইনল্যান্ডের কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। নাসা মেইনল্যান্ডের আওতাধীন নাসা নিট, নাসা অ্যাপারেলস ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসেসের সাধারণ শ্রমিকরা মে মাসের বকেয়া মজুরি, ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বকেয়া ও নোটিশ পে বিল নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। পাশাপাশি শ্রম আইন অনুযায়ী ১২০ দিনের সমপরিমাণ মজুরি-ভাতা এবং শতভাগ সার্ভিস বেনিফিটের দাবিও ছিল তাদের। আজকের এই ফলপ্রসূ বৈঠকের পর নাসা মেইনল্যান্ড গ্রুপের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
#
বোরহান/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/আব্বাস/২০২৬/২০৪৩ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৪
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদান
লন্ডন, ৬ জুলাই:
বাংলাদেশ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে (Maritime Liability Conventions) যোগদানের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আজ লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মোঃ শফিউল বারী।
বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থনকৃত তিনটি কনভেনশন সমূহ হলো - আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক , ১৯৯২ প্রোটোকল) (CLC Protocol ), বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, ২০০১ (Bunker Convention) এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন, ২০০৭ (Wreck Removal Convention)।
প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরসমূহে আগমন করে। এই নৌযান চলাচলের সঙ্গে তেল নিঃসরণ, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকিও যুক্ত থাকে, যা নৌচলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে । এসব কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বীমা নিশ্চিত করবে । এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভবপর হবে ।
এই অনুসমর্থন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সফলতা বয়ে আনবে । বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না, ফলে সময় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে এসব কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরসমূহে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শন হ্রাস পাবে।
#
আরিফ বিল্লাহ/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/আব্বাস/২০২৬/২০৪২ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩
বিগত আওয়ামী সরকারের অধিকাংশ প্রকল্পে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে
--- বিদ্যুৎমন্ত্রী
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পে জনকল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বিষয়ক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরো দক্ষ, টেকসই ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের দায় দেনা কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। তবে এ লক্ষ্যে কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বা উৎপাদন করে তার অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। মন্ত্রী রুফটপ সোলার প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করে কোনো প্রকল্প করা হবে না; পতিত জমি ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে, তাও উচ্চমূল্যে। তিনি জানান, আর্থিক অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করে গেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার; এজন্য বর্তমান সরকারকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।পূর্ববর্তী সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির কারণে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিগত সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে; সেই বকেয়ার পাশাপাশি একইসঙ্গে নতুন দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে; এজন্য প্রতি মাসে ভরতুকি দিতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলে জ্বালানি আমদানি খরচ কমবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এজন্য সম্ভাব্য সকল অপশন নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের শক্তি জনগণ; জনগণকে সাথে নিয়েই বিশাল ঋণের বোঝা থেকে উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার; নাগরিক সন্তুষ্টির দিকেও সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হয়।
আলোচনা সভায় ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পেশ করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।
#
আরিফ/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/২০২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশনের বৈঠক
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আইওএম বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড। আজ মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসীদের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের মন্ত্রী আইওএম-এর নতুন চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানান। তিনি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আইওএম-এর ধারাবাহিক সমর্থন ও পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসন নীতি প্রণয়ন এবং গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগামীতে জাতীয় ডায়াসপোরা নীতি এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের পুনঃএকত্রীকরণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, ওআইডিএফ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সাথে সমন্বিত অভিবাসী তথ্য ও সেবা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সামগ্রিক অভিবাসন সেবাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আইএফএডি-এর অর্থায়নে 'ডায়াসপোরা প্রকল্প' এবং বিশ্বব্যাংক ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ‘রেইজ প্রকল্প’-এর সফল বাস্তবায়নসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। ভবিষ্যতে নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম-এর মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড-এর সুবর্ণ সময় পার করছে। আমাদের বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তবে দক্ষ রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে তাদের পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমাদের আরো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই বিশাল জনশক্তিকে বৈশ্বিক চাহিদার উপযোগী করে গড়ে তুলতে আইওএম-এর কৌশলগত এবং কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে শীর্ষস্থানীয় চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সফল পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচি, নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রগতি প্রদর্শন করছে, তা ধরে রাখতে আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ২০টি সুনির্দিষ্ট ধারা আইওএম-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যের সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইফুল হক চৌধুরী ও জিনাত আরাসহ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
শরীফুল/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/লিখন/২০২৬/১৯৩৩ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মহান সৈনিক
-ডা. জুবাইদা রহমান
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
প্রখ্যাত চিকিৎসক, সমাজসেবক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, “তোমরা জাতির ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ এবং দেশ গড়ার মহান সৈনিক। তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে লেখাপড়া করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে, পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করবে।”
আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান একথা বলেন।
পরবর্তীতে, তিনি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, ভূমি ভবন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, পানি ভবন পরিদর্শন করেন। এরপর পানি ভবনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে কেয়ার সেন্টার) সম্পর্কিত কার্যক্রমের আওতায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
মানসম্মত, সার্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ, আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে শিশুর জ্ঞান এবং সামাজিক বিকাশ শক্ত ভিত্তির উপর গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “শৈশব জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, এই সময়েই বিভিন্ন জিনিসের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শুধু নিরাপদে থাকার স্থান নয়, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ায় সহায়ক।” এ সময় তিনি সকল কেয়ার গিভার মা-বোনদের, তাদের মানবিক এবং অত্যন্ত কঠিন কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯২ সালে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ৬ টি ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে ডে কেয়ার সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মোতাবেক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। ‘আমি নয় আমরা’, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
#-
রায়হান/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/লিখন/২০২৬/১৮২৭.ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০
ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে দেশকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে
--- অর্থমন্ত্রী
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে, স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং খরচ ও সময়ের সাশ্রয় করতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পুরো দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিকসহ প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত করতে হবে।
আজ ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হলরুমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আমরা যে বাজেট প্রণয়ন করেছি, তাতে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষকে-এমনকি সাধারণ কারিগর, শিল্পী ও গায়কদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রাকে সফল করতে হলে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে সরকার বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ এস্তোনিয়ার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং মডেল যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম সেখানে অবস্থান করছে। এক মুহূর্ত সময় অপচয় না করে আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলো দেশের আর্থিক খাতে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।
উপস্থিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ইনোভেশন শোকেসিংয়ে যেসব চমৎকার উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে, তা প্রশংসনীয় হলেও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আরো ধারাবাহিক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট গ্রাহকের কত শতাংশ এই ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। একইসাথে, গ্রাহকদের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করে অনলাইন সেবায় অভ্যস্ত করতে প্রতিটি শাখার কর্মকর্তাদের তৎপর হতে হবে এবং আকর্ষণীয় চিঠির মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবার সুবিধাগুলো অবহিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ব্যাংক, বীমা কিংবা পুঁজিবাজারসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত ডিজিটাল সেবাগুলোর কাভারেজ ও আউটরিচ বাড়াতে হবে। জনগণ যেন ঘরে বসে, রিকশায় বা গাড়িতে বসে অনায়াসে সেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মূল্যবান সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমানোর মাধ্যমেই দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী এ ধরনের আয়োজনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেস ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান। এতে সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতন হবে এবং দেশ দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
#
সিরাজ/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/১৯২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে অর্থনীতি ও রাজনীতির সমন্বয়ের ওপর জোর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ তখনই জনগণের কল্যাণে বাস্তব ফল বয়ে আনবে, যখন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে যদি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞদের সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নেয়। কারণ জনগণের কল্যাণে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামো অপরিহার্য। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির প্রধান দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক নীতির সফল বাস্তবায়নও সেই দায়িত্বেরই অংশ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ কমবে না, বরং আরো বাড়বে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় চাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো সমস্যা থেকে পালানো নয়; বরং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেশের অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের পর বাংলাদেশ এই অতিরিক্ত সময় পাবে এবং সেই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আগামী তিন বছর কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করলে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এজন্য রপ্তানির পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিবিদরা গবেষণার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলার উপর জোর দেন মন্ত্রী।
র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
#
ইমরানুল/কামরুজ্জামান/ফেরদৌস/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/১৮৩০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮
প্রাণী চিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে
--মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, হাসপাতালে ব্যবহৃত কোনো ওষুধের মেয়াদ যেন কোনোভাবেই উত্তীর্ণ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রাণী চিকিৎসায় সর্বদা মানসম্মত ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ ঢাকায় বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্হিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণীর চিকিৎসার জন্য মানুষের ভরসার অন্যতম প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পোষা প্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় প্রাণিসম্পদ খাতের এ চিকিৎসাসেবাকে আরো সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, প্রাণীর চিকিৎসাসেবাকে আরো যুগোপযোগী, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোষা প্রাণীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের শাখা সম্প্রসারণ এবং সেবার পরিধি বাড়াতে হবে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের প্রাণীর সহজেই উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়।
প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের পরিচালক ডা.আব্দুল আজিজ আল মামুন, কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারের পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, টক্সিকোলজি ও জুরিসপ্রুডেন্স অনুবিভাগের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মোঃ আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার কর্তৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্রয়কৃত ঔষধ, কেমিক্যালস, যন্ত্রপাতি ও শৈল্য চিকিৎসার সরঞ্জামাদি মাঠ পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বিতরণের জন্য ৯০ প্রকারের ঔষধ ও কেমিক্যালস এবং ৪০ প্রকারের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শৈল্য চিকিৎসার সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়।
#
মামুন/কামরুজ্জামান/ফেরদৌস/মোশারফ/লিখন/২০২৬/১৭৫০ ঘন্টা
Handout Number:77
Ensure Quality Medicine and Modern Care in Animal Treatment
-- State Minister for Fisheries & Livestock
Dhaka (6 July, 2026):
State Minister for Fisheries & Livestock Sultan Salauddin Tuku today laid strict emphasis on ensuring quality medicines and modern healthcare services in animal treatment across the country, warning that no expired drugs should be used under any circumstances.
State Minister was speaking as the chief guest at a view-exchange meeting with officials of institutions based at the Central Veterinary Hospital campus, held at the Bangladesh Veterinary Council conference room in the capital.
"The Central Veterinary Hospital is a core institution for animal healthcare. As the country's population grows, the number of pets is also rising significantly. Given this reality, there is no alternative to expanding and modernizing our livestock health care services," the state minister said.
"We will give maximum priority to increasing hospital capacity, ensuring quality treatment, and expanding necessary infrastructure to make animal healthcare more up-to-date, effective, and people-friendly," State Minister added.
Noting the rising pet population across different regions, Sultan Salauddin Tuku also directed officials to expand the branches and service scope of the Central Veterinary Hospital so that advanced treatment can easily reach every corner of the country.
Prior to the meeting, the state minister inaugurated the field-level distribution of medicines, chemicals, and surgical equipment procured by the Livestock Dispensary for the 2025–2026 fiscal year. A total of 90 types of medicines and chemicals, alongside 40 types of modern medical and surgical instruments, were handed over for distribution.
Chaired by Md Shahzaman Khan, Director General of the Department of Livestock Services (DLS), the event was attended by Fisheries and Livestock Secretary Md Delwar Hossain as the special guest.
Among others, DLS Director (Administration) Dr Md Boyjar Rahman, Central Veterinary Hospital Director Dr Abdul Aziz Al Mamun, Central Livestock Dispensary Director Dr Rafiqul Islam Talukder, Toxicology and Jurisprudence Chief Scientific Officer Dr. Md. Abu Sufian, and Bangladesh Veterinary Council Registrar Dr Gopal Chandra Biswas were also present.
#
Mamun/Kamruzzaman/Ferdous/Mosahraf/Likhon/2026/1642 hours
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৬
হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত
২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫৯ জন।
১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৮৬ হাজার ৬২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ । গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪৮ এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
#
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর/কামরুজ্জামান/মোশারফ/লিখন/২০২৬/১৬১৫.ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৫
গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমেই টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব
-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমেই টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।
মন্ত্রী আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের যে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-সমন্বিত জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমবায়ী, সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
#
ফয়সাল/খাদীজা/মারুফা/মিতু/আতিক/সাঈদা/আমিরুল/২০২৬/১৫০০ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৪
সর্বশেষ আবহাওয়ার পরিস্থিতি
সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
সর্বশেষ আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযয়ী, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঊদ্ভুত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর (০৩) স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্রগ্রাাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় নদীবন্দরসমূহকে দুই (০২) নম্বর নৌ হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে এক নম্বর সর্তক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের দুর্যোগ সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনে এসকল তথ্য জানানো হয়েছে।
#
হাসান/খাদীজা/মারুফা/তারানা/মিতু/আতিক/আসমা/২০২৬/১৪৪০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৩
বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে বড় সংস্কারের ঘোষণা
-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ঘাটতি দূর করা এবং বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ, নতুনভাবে পুনর্বিন্যাসকৃত কারিকুলাম, শিক্ষক উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে একযোগে কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত চার মাস ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। বর্তমানে ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চলমান "দৃষ্টিনন্দন” প্রকল্পের আওতায় ঘাটতি চিহ্নিত করা ও তা সরেজমিনে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে গল্প ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি তাদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো করছে, তবে কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ নজর দিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন (CPD), কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (KPI), দায়িত্ব, তদারকি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভিডিও লেসন, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে পুনরায় শেখানোর আধুনিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; শিক্ষার গুণগত মানে মৌলিক পরিবর্তন আনা। সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর এবং দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আধুনিক, মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা,ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন থানার থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
তানভীর/খাদীজা/মারুফা/মিতু/আতিক/সাঈদা/জোহরা/২০২৬/১৪০২ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭২
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা
প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
ঢাকা, ২২ আষাঢ় (৬ জুলাই):
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করার অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারী করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যালয়ে উদ্ভূত ঘটনার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সহিংসতা, অসদাচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনায় দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রশাসনকে আরো জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হতে সহায়তা করে। গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম, সহিংসতা বা দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
#
তানভীর/খাদীজা/মারুফা/মিতু/আতিক/সাঈদা/মিজান/২০২৬/১০১৫ ঘণ্টা