কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:৫৪ PM

Handout 7 July 2026

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৭-০৭-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৭-০৭-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ১০৪

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহযোগিতা জোরদারে যুক্তরাজ্য ও আইআরসির সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় ( জুলাই):

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আজ যুক্তরাজ্য সরকার এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (IRC)-এর সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। সমঝোতা স্মারক দুটি বাংলাদেশের দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি, মানবিক প্রস্তুতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রথম সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আওতায় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা, জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমে সমন্বয়, অনুসন্ধান ও উদ্ধার জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, মানবিক ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস, চাহিদা নিরূপণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। একই সাথে জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সহজতর করা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে এই সমঝোতা।

দ্বিতীয় সমঝোতাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (IRC)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (SPMoU)। এর মাধ্যমে দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (FDMN) ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিতকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময় এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সম্পদ আহরণে সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এই দুটি সমঝোতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরো শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বকে আরো সুসংহত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এসব অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমঝোতা স্মারক দুটিতে স্বাক্ষর করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার Sarah Cook এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন Julio E. Rank Wright ভাইস প্রেসিডেন্ট, অ্যাওয়ার্ডস ম্যানেজমেন্ট ইউনিট।

#

তুহিন/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/কনক/লিখন/২০২৬/১৯৩৪ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ১০৩

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় ( জুলাই):

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তির ওপর। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

মন্ত্রী গতকাল টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সদ্য পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছেযা গত অর্থবছরে ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারি প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়কে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন মনে করে এবং প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত হলে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার মান বিষয়ক পর্যালোচনা সভা এবং প্রতি মাসে অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করে এর ফলাফল তাঁকে অবহিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে সখিপুর বিআরডিবি প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে তিনি বাসাইল উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

#

খায়ের/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/ফেরদৌস/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/২০৩০ ঘণ্টা


Handout Number: 102

Govt to take effective steps to develop native livestock

--- Fisheries & Livestock State Minister

Savar (Dhaka), 7 July:

The government is actively implementing effective measures to develop native livestock breeds and strengthen farm management across the country, Fisheries and Livestock State Minister Sultan Salauddin Tuku said today.

The state minister made the remarks during his visit to the Central Cattle Breeding and Dairy Farm in Savar.

During the inspection, The State Minister highlighted that the farm’s reliance on its own cultivated grass for animal feed is a positive milestone. He emphasized the importance of improving farm management to boost productivity and efficiency to achieve desired outcomes.

The State Minister inspected various key units of the facility, including the calf section, dairy farm, Pabna Cattle Unit, Mirkadim Unit, Holstein-Friesian Unit, Artificial Insemination (AI) Laboratory, Breeding Bull Unit, and the 100% American Friesian Bull. He evaluated the development of indigenous breeds, fodder production, farm management, and overall infrastructure, providing necessary directives to the officials concerned.

Data on paper does not always fully reflect the reality on the ground, the State Minister remarked, adding that field-level inspections provide an accurate picture, allowing the ministry to identify existing problems and take effective measures to solve them.

Director General of the Department of Livestock Services Md. Shahzaman Khan, Director of the Central Cattle Breeding and Dairy Farm Md. Shahidul Islam, and other senior officials of the farm were present during the inspection.

#

Mamun/Kamruzzaman/Paban/Mosharaf/Konok/Joynul/2026/1810 hour

তথ্যবিবরণী নম্বর: ১০১

দেশি জাতের গবাদিপশু উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে

--- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সাভার, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশি জাতের গবাদিপশুর উন্নয়ন এবং খামারের ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

আজ সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে উৎপাদিত নিজস্ব ঘাসই এখানকার গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তিনি বলেন, উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারের উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা যায়।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারের বাছুর (ক্যাফ) সেকশন, ডেইরি ফার্ম, পাবনা ক্যাটল ইউনিট, মীরকাদিম ইউনিট, হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান ইউনিট, কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরি, ব্রিডিং বুল ইউনিট এবং শতভাগ আমেরিকান ফ্রিজিয়ান বুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশি জাতের গবাদিপশুর উন্নয়ন, পশুখাদ্য উৎপাদন, খামার ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক অবকাঠামোগত কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাগজ-কলমের তথ্যের সাথে বাস্তব চিত্র সবসময় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। তাই মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান, কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং খামারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

#

মামুন/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৭৫০ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ১০০

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও উদ্যোক্তাবৃত্তির ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই রূপান্তর এবং নাগরিকদের সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয় এবং ‘উদ্যোক্তাবৃত্তি’ (Entrepreneurship)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ ঢাকায় হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত ‘Pathways to Health Entrepreneurship in Bangladesh’ শীর্ষক প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কেবল বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বরং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। মন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি দূরদর্শী ও কার্যকর ‘পরামর্শমূলক জোট’ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আমাদের দক্ষ উদ্যোক্তা, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতাল ও শক্তিশালী ওষুধ শিল্প রয়েছে। এবারের বাজেটে ওষুধ শিল্পের এপিআই উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের সহায়তা ও আলাদা জোন তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসায় জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয়ের হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ উল্লেখ করে মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। এই ব্যয় কমিয়ে সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মেলবন্ধন জরুরি বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগোচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ না করে বেসরকারি খাতের সুযোগ ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে মেডিকেল যন্ত্রাংশ (Healthcare Equipment) উৎপাদনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে বিপুল প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং এতে ব্যাপক সাড়াও মিলছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সুযোগ ও সঠিক নীতিমালা পেলে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের অন্যতম সেরা উদ্যোক্তা হতে পারে। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক আদর্শই হলো বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধি। আমাদের নেতৃত্ব বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী এবং দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচিত সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারণী সহায়তা এবং দেশের প্রতিভাবান উদ্যোক্তাদের কঠোর পরিশ্রম একসাথে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

#

সিরাজ/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৬৩০ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৭

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অনিয়মের অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় আজ প্রকাশিত ‘স্কুল ফিডিংয়ে চরম বিশৃঙ্খলা’ শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিভাবকদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট গার্ডিয়ান কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি, আকস্মিক পরিদর্শন, অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাৎক্ষণিক তদন্ত এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

#

তানভীর/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৭০০ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৯

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের, গুরুত্ব পেল স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় ( জুলাই):

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একইসাথে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার Sarah cooke এর সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় যুক্তরাজ্যকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র আরো সুসংহত হবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

এদিকে, একইদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে United Nations Office for Project Services (UNOPS)-এর বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার Sudhir Muralidharan-এর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলও সাক্ষাৎ করে।

সাক্ষাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় UNOPS প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#

হৃদয়/কামরুজ্জামান/পবন/মোশরফ/কনক/লিখন/১৬১৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৮

হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় ( জুলাই):

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত
২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮১৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন।
১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৯০ হাজার ৫২২ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৮৬ হাজার ৮৪৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১ । গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪৯ এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

#

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/কনক/লিখন/২০২৬/১৬১৫.ঘন্টা

Handout Number: 95

Tadao Ando-designed Children’s library represents Bangladesh-Japan Friendship

Dhaka, 7 July:

The Ambassador Extraordinary and Plenipotentiary of Japan to Bangladesh, SAIDA Shinichi, paid a call on the Minister for Cultural Affairs, Nitai Roy Chowdhury, at Bangladesh Secretariat today. The high-profile meeting focused on strengthening bilateral cultural relations, renewing historical accords, and exploring new avenues of mutual cooperation and heritage preservation.

Minister Nitai Roy Chowdhury welcomed the newly appointed Ambassador and expressed deep satisfaction over the historic ties between the two nations. Japan has been a trusted, time-tested, and steadfast friend of Bangladesh since our independence in 1971. Over the last five decades, this bond has grown into a exemplary mature partnership built on mutual respect and shared values, the Minister remarked, acknowledging Japan's continuous support towards Bangladesh's socio-economic national development journey.

Highlighting the strong cultural foundations, both dignitaries reviewed the landmark Cultural Agreement of 1982 and the Cultural Exchange Programme (CEP) signed in Tokyo in 2005. The Minister proposed an update and renewal of the 2005 CEP through formal diplomatic channels to better align with the contemporary allocation of government businesses and modern institutional frameworks.

A key highlight of the discussion was the ongoing development of the Bangladesh Children’s Library at the Bangladesh National Museum premises. Recalling the MoU signed on April 27, 2023, with Tadao Ando Architect & Associates, the Minister conveyed heartfelt gratitude to the world-renowned architect Tadao Ando and the Government of Japan for this generous contribution. He emphasized that this state-of-the-art facility would serve as a lasting monument of Bangladesh-Japan friendship, nurturing the creativity of young minds, and requested the Embassy's continued facilitation for its timely completion.

Ambassador SAIDA Shinichi highly commended Bangladesh's vibrant cultural heritage, traditional arts, and literature, and assured Japan's full commitment to deepening bilateral engagement. He confirmed Japan's regular participation in the upcoming editions of the prestigious Asian Art Biennale organized by Bangladesh. Furthermore, the Ambassador expressed keen interest in extending collaboration towards the safeguarding of cultural properties, museum development, preservation of tangible and intangible heritage, archaeological site conservation, and joint library and archive capacity building.

Senior officials of the Ministry of Cultural and Foreign Affairs, and delegates from the Embassy of Japan in Dhaka were present during the meeting. The meeting concluded with a cordial exchange of corporate gifts and mementos representing the rich artistic heritage of both nations.

#

Shakiluzzaman/Khadiza/Marufa/Mitu/Tanvir/Atik/Kamal/2025/1400 Hrs.


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৬

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে

-তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬:

দেশের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বীমা খাতকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাপত্তাবোধ ও উদ্যোক্তা মনোভাব আরো বিকশিত হবে।

আজ রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এখনও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পূর্ণমাত্রায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বীমা খাত সেই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি, যা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ খাতে সুশাসন, কার্যকর নীতিমালা ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরো বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কেবল গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সংস্কার ও সমাধানের লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, অর্থ পাচার রোধ এবং অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একজন নাগরিক যখন নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করেন, তখন তিনি আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে অংশ নেন। বীমা সেই নিরাপত্তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রী দেশের আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে বীমার আওতায় আনতে আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বীমা খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অর্থমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন নীতিগত ও আইনি কাঠামো প্রণয়নে কাজ করতে হবে, যা বীমা খাতকে আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন।

#

ইমরানুল/খাদীজা/মারুফা/মিতু/তানভীর/আতিক/সাঈদা/মাহ্‌ফুজ/কামাল/২০২৬/১৫৩০ ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৩

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের সাথে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক (Sarah Cooke) সাক্ষাৎ করেছেন। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অনলাইনে সাইবার বুলিং এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নির্মূলসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং নারী ও শিশুর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা নির্মূলের মাধ্যমে সকলের জন্য একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি দেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম (ফ্যামিলি কার্ড, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, কুইক রেসপন্স টিম এবং ডিএনএ ল্যাব) তুলে ধরেন। যৌন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে ডিএনএ ল্যাবরেটরির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে আরো নির্ভরযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান। এছাড়া, চা শ্রমিক, সাঁওতাল ও পাহাড়ে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি, নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে হস্তশিল্প ও কেয়ার-গিভিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা তিনি জানান।

হাইকমিশনার ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশের অবহেলিত, অসচ্ছল, দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার নারীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারীদের নামে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করছে, যেখানে কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ মোটেও বিবেচনা করা হচ্ছে না। এছাড়া, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুদের কল্যাণে বিনামূল্যে মিড-ডে মিল ও ইউনিফর্ম প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছে।

বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করতে পারে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী সহায়তা চাইলে সারাহ কুক এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং হাইকমিশনার বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ও ফুটবল টিমের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন ।

হাইকমিশনার মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন এবং তারা যেন দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

#

রায়হান/খাদীজা/মারুফা/মিতু/তানভীর/আতিক/মাহ্‌ফুজ/সাঈদা/আমিরুল/২০২৬/১৪৫০ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯৪

জাতীয় জাদুঘরে জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় ( জুলাই):

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে আজ সচিবালয়য়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi) সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রী জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশে তাঁর সফল কর্মকাল কামনা করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান আমাদের এক বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের অবিচল ও দৃঢ় সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

১৯৮২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই টোকিওতে স্বাক্ষরিত ‘সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি’ (CEP)-এর কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, দু’দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের কার্যপরিধি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিটি যুগোপযোগী ও নবায়ন করার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বৈঠকের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর (Tadao Ando) অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা। ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি স্মরণ করে মন্ত্রী এই উদ্যোগের জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো এবং জাপান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। গ্রন্থাগারটি বাংলাদেশ ও জাপানের গভীর বন্ধুত্বের এক চিরস্থায়ী প্রতীক হিসেবে আমাদের শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি এর দ্রুত সমাপ্তিতে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প এবং চারুকলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশিয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জাপানের নিয়মিত ও গৌরবোজ্জ্বল অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সেই সাথে সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল ও শিল্পী বিনিময় এবং গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে শুভেচ্ছা উপহার ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।

#

শাকিলুজ্জামান/খাদীজা/মারুফা/মিতু/তানভীর/আতিক/সাঈদা/কামাল/২০২৬/১৫০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯২

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাতিসংঘ শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো জোরদার করার আহ্বান

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (০৭ জুলাই):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এসময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো জোরদার করার আহ্বান জানান। গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে উভয়পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান, দ্রুত নিয়োজন সক্ষমতা যাচাই, কঙ্গো মিশন থেকে বাংলাদেশি নারী এফপিইউ -এর প্রত্যাহারের প্রেক্ষিতে নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘ সদরদপ্তর ও মাঠপর্যায়ে নীতি-নির্ধারণী পদে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, আইপিও ডেপ্লয়মেন্ট এবং ভবিষ্যৎ বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধি সহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তিনি বলেন, অন্যতম শীর্ষ পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা বাড়াতে নানামুখী বিনিয়োগ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের দ্রুত সাড়াদানের সক্ষমতাকে আরও জোরদার করতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল যাচাইকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউনিট দুটি জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলে সম্পূর্ণ সুসজ্জিত। মন্ত্রী এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস -এর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে গত অক্টোবর ২০২৫-এ স্বল্প সময়ের নোটিশে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য মিশন যেমন-সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বা দক্ষিণ সুদানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আনুপাতিক হারে কমানো হলেও, কঙ্গোতে কেবল বাংলাদেশের পুরো ইউনিটটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতি পরিপন্থী। বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি (Abyei) বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে একটি নতুন বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের জন্য তিনি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

শান্তিরক্ষা মিশনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের অবদান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সদরদপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন মিশনসমূহের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিশেষায়িত পেশাদার পদে (P-Level এবং D-Level) যোগ্য ও দক্ষ বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তি মিশনের পরিবর্তিত চাহিদাকে ধারণ করতে সক্ষম এমন অত্যন্ত যোগ্য পুরুষ ও নারী কর্মকর্তা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম পরীক্ষায় ১০৭ জন কর্মকর্তা উত্তীর্ণ হলেও এখনো ৮৫ জন কর্মকর্তা নিয়োজনের অপেক্ষায় আছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে বাংলাদেশি ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার-এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, সেখানে ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ এবং অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে, বর্তমান তালিকার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলায়, আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী ‘সাট’ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে সময়োচিত সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ অবদান, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনের ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের উত্থাপিত যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো পূরণে ও বিশেষায়িত পুলিশ দল গঠনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

#

ফয়সল/খাদীজা/মারুফা/মিতু/তানভীর/আতিক/সফি/২০২৬/১২৫৫ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৯১

বিজিবি’র অভিযানে ৩০৭ কোটি টাকার অধিক মূল্যের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত জুন মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে-৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ১৫টি শাড়ী, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর, কম্বল, হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্য তেল, ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার, বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি, মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি, ইজিবাইক, অটোরিক্সা, ৩৫টি মোটরসাইকেল এবং ৫৩টি বাইসাইকেল, ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে-৮টি দেশি, বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড এবং ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এছাড়াও গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিষ্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ এবং ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ, ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১ জন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

#

শরীফুল/খাদীজা/মারুফা/মিতু/তানভীর/আতিক/সাঈদা/জোহরা/২০২৬/১২৫৬ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

ঢাকা, ২৩ আষাঢ় (৭ জুলাই):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল (ইউএসজি) অতুল খারে (Atul Khare) এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ/প্রতিপূরণ দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পর মন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিপূরণ (Reimbursement) সংক্রান্ত বিষয়সমূহ সহজতর করার ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট-এর ধারাবাহিক ও কার্যকর সহায়তার জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ডিওএস-এর পরিবেশ বিভাগকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এ খাতে বাংলাদেশের যে বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে জাতিসংঘের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরো ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর প্যানেল স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকায় নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ, উপযুক্ত এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরো বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল বা শত্রুভাবাপন্ন আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য তাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রচলিত এফপিইউ-এর তুলনায় এ ইউনিটগুলো সোয়াত (SWAT), র‍্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক অর্ডন্যান্স নিষ্ক্রিয়করণ (EOD), ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম (Riverine Operations) এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।

হাইতিতে এ বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ১৫-১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের তিনি সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ (MOU) আলোচনায় অংশ নেবে। এ আলোচনা সফল করতে এবং প্রস্তাবিত সরঞ্জামসমূহ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের স্ব-নির্ভর ইউনিটের সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ টিম বা প্ল্যাটুন মোতায়েন করতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

আলোচনার শেষভাগে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকাতলে বাংলাদেশের অবিচল ও দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষা আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

#

ফয়সল/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আতিক/সাঈদা/মিজান/২০২৬/৯৪০ ঘণ্টা

Handout Number: 88

Home Minister seeks stronger UN support for Bangladesh’s peacekeeping deployments

New York, 7 July:

Minister of Home Affairs Salahuddin Ahmed has called for stronger United Nations support for the deployment of Bangladeshi peacekeepers and police personnel to UN peacekeeping missions during separate bilateral meetings with two Under-Secretaries-General of the United Nations in New York.

In a meeting with Under-Secretary-General for Peace Operations Jean-Pierre Lacroix yesterday, the Minister reaffirmed Bangladesh’s long-standing commitment to UN peacekeeping and requested support for the early verification of Rapid Deployment Level (RDL) status for Bangladeshi Formed Police Units (FPUs), greater deployment of Bangladeshi individual police officers and consideration of a Bangladesh FPU in current or future peacekeeping missions. He also sought more leadership and professional positions for Bangladeshi officers at UN Headquarters and in field missions.

USG Lacroix appreciated Bangladesh’s sustained contribution to UN peacekeeping and its readiness to provide trained and capable police personnel for evolving mission requirements. He also commended Bangladesh’s active and constructive role in multilateral diplomacy.

In a separate meeting with Under-Secretary-General for Operational Support Atul Khare, the Minister discussed operational and logistical support for Bangladesh’s planned specialized police deployments to Haiti, including contingent-owned equipment, shipment and reimbursement issues.

Appreciating Bangladesh’s significant contributions to UN peacebuilding and peacekeeping operations, USG Atul Khare assured the Minister of continued operational support for Bangladeshi peacekeepers.

#

Press NYPM/Khadiza/Marufa/Tanvir/Atik/Asma/2026/1000 hours

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অধিকতর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিউইয়র্ক, ৭ জুলাই:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও পুলিশ সদস্যদের অধিকতর মোতায়েন, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য আরো নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগ এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট পাঠানোর ক্ষেত্রে জোরালো জাতিসংঘ সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে গতকাল জাতিসংঘের দুই জন আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শান্তিরক্ষা অবদান, পেশাগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে ল্যাক্রোয়ার সাথে বৈঠকে তিনি পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমের আওতায় বাংলাদেশের একটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) র‌্যাপিড ডিপ্লয়ম্যান্ট লেভেল এ উন্নীতকরণ, আরো বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি অফিসারদের মোতায়েন এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশনে একটি বাংলাদেশি এফপিইউ বিবেচনার অনুরোধ জানান। একই সাথে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও ফিল্ড মিশনে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য আরো নেতৃত্বস্থানীয় ও পেশাগত পদে নিয়োগের আহ্বান জানান।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবদানের প্রশংসা করেন এবং প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পুলিশ সদস্য পাঠাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানান। তিনি বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

পৃথক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে হাইতিতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন, সরঞ্জাম, পরিবহন, রি-ইম্বার্সমেন্ট, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো এবং লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

#

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্ক/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আতিক/সাঈদা/আমিরুল/২০২৬/১০০০ ঘন্টা

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন