কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৯:৩৪ PM

Handout 5 August 2026

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৫-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৫-০৮-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০৬

শহিদদের ত্যাগে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি

-- তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসতে সক্ষম হয়েছে।

আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সহকর্মী, ভাই-বোনেরা অকাতরে সংগ্রাম করেছেন। আজকে আমরা যে সরকার গঠন করতে পেরেছি, তা তাদেরই মহান ত্যাগের ফসল।

নিজের রাজনৈতিক কর্মপন্থা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমি নীরব ও নিভৃতে নান্দাইলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ফ্যাসিবাদের কঠিন সময়ে যখন কেউ নান্দাইলে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস পায়নি, তখন আমি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। এসময় মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তাতে সায় দেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ১৭ বছরের যুদ্ধে অনেকে কারাবরণ করেছেন, অনেকে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং অনেকে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। আজ সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো।

সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তালিকাভুক্ত জুলাই শহিদ পরিবারকে আগামী ২ মাসের মধ্যে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এছাড়া শহিদ পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হবে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া নান্দাইলের শহিদ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নান্দাইলের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখা হচ্ছে এবং এগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহিদ জুবায়ের ইসলামের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী, শহিদ হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, জুলাই যোদ্ধা শেখ সাদী, জুলাই যোদ্ধা রানা হোসেন, ছাত্রদল নেতা পিয়াস হোসেন, যুবদল নেতা হাকীকুজ্জাম নওফেল এবং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদের। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবারের সদস্যগণ, সংবর্ধিত জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌঁছে শহিদ মিনার চত্বরে জুলাই শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর উপজেলা পরিষদের সামনে জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য গ্রাফিতিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

বিকেলে অডিটরিয়ামের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ছবিতে জুলাই শিরোনামে ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় জুলাই নিয়ে বিশেষ বই মেলারও উদ্বোধন করেন তিনি।

এরপর একই স্থানে স্মৃতির ক্যানভাসে নিজের অভিজ্ঞতা লিখে স্বাক্ষর করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে অন্যরাও ক্যানভাসে জুলাই নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা লিখেন।

পরে তিনি উপজেলা পরিষদে স্থাপিত ‘জুলাই কর্নার’ উদ্বোধন করেন।

#

ইমরানুল/শাহাদাত/সঞ্জীব/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২১০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০৫

জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ কোনো অর্থ বা বস্তুতাত্ত্বিক প্রাপ্তি দিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়

-- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করা হবে, সে যেই হোক না কেন। এটাই আমাদের সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা।

আজ চট্টগ্রামে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও বীর জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের সূচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শহিদদের মহান আত্মত্যাগ কোনো অর্থ বা বস্তুতাত্ত্বিক প্রাপ্তি দিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়। তাদের রক্তের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; বরং এটি দীর্ঘ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ দেশের আবালবৃদ্ধবনিতার এক অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একসূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।

মীর হেলাল বলেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন গঠনমূলক মতামত প্রদানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালক ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

#

রেজুয়ান/শাহাদাত/সঞ্জীব/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২১০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০৪

দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কার্যক্রম

ঢাকা, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা-৬টি, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ। জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম কর্তৃক বন্যা চলাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই। কোনো হতাহত হয়নি এবং জেলায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫.৫০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস হবিগঞ্জ কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়ি জেলায় অতিবৃষ্টি নেই। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনো ফিরেনি। নদ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস খাগড়াছড়ি কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ মি.মি.বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্তমানে রামুর বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২.৪৪ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। চকরিয়ার চিরিঙ্গার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩.৬৬ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা এখন ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস কক্সবাজারের পক্ষ থেকে বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে জরুরি বার্তা নিয়ে মাইকিং প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা তথ্য অফিস রাঙামাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।


জেলা তথ্য অফিস বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস বান্দরবান কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস মৌলভীবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজার কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তথ্য অফিস লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তথ্য অফিস লামা কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তথ্য অফিস রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রামগড়ে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে দেখা যায়। ভারী বৃষ্টি না থাকায় বর্তমানে ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কোনো আশংঙ্কা নেই। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে পাহাড়ধসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রামগড় জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক বন্যা/ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং করা হয়েছে।

তথ্য অফিস পটিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পটিয়া উপজেলায় পাহাড়ধস বা ভূমিধস হয়নি। বন্যা পরবর্তী করণীয়সহ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য অফিস কাপ্তাইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া আজ স্বাভাবিক থাকবে। মাঝে মাঝে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হলেও তাতে পাহাড়ধস/ভূমিধস ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।

#

গণযোগাযোগ অধিদপ্তর/শাহাদাত/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৯২৩ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০৩

জুলাই বিপ্লব ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ

--- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারীবিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো জুলাইয়ের গণবিপ্লবও আমাদের অর্জনের এক অনন্য প্রতীক। জুলাইয়ের আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ সালের পর থেকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ফলে মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, তা অগ্ন্যুৎপাতের মতো জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা চোখ, হাত, পা হারিয়েছেন কিংবা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের এ আত্মত্যাগ ও অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনো নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।

স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ খারশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

#

মাহমুদুল/শাহাদাত/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/২০১৫ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০২

জনআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

-ভূমি প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

আজ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে দেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সমাজ থেকে সকল ধরনের বৈষম্য চিরতরে দূর করা। বর্তমান সরকার জনগণের সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঘোষিত 'জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫'-এর আলোকেই বিএনপি সরকার যাবতীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে সরকারের গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। সকল অংশীজন ও সাধারণ মানুষের সাথে পরামর্শ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন গ্রহণ করা হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সিএমপি পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা রেঞ্জের ডিআইজিসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

#

রেজুয়ান/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬২৯ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০১

হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন

ঢাকা, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৫৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২৪ জন।

১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জন।

গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৫৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬ জন।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

#

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর/তানভীর/আতিক/আলী/মিজান/২০২৬/১৫৩০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৬০০

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাইগণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ইসলামাবাদ, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

ইসলামাবাদস্থবাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানদিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যেবাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সপ্রাঙ্গণে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ ইকবাল হোসেন খান হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতেরসাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারেরসদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণ ও পাকিস্তানি নাগরিকবৃন্দউপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনেরসম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকরা হয়।

হাইকমিশনেরকর্মকর্তাগণ, সার্ক চেম্বার্স উইমেন এন্টারপ্রেনার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন হিনা মনসাব খান এবং রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন চৌধুরী আলোচনায়অংশ নেন।

হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট গৌরবের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। তিনি রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকেবৈষম্যমুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপকরেন।

আলোচকগণজুলাই পুণর্জাগরণে ছাত্র-জনতার ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন যে, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, বৈষম্যমুক্ত ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

আলোচনাশেষে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

#

তৈয়ব/তানভীর/আতিক/আলী/জোহরা/২০২৬/১৫০৪ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৯

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের পোর্টফোলিও থেকে প্রথম সফল এক্সিট সম্পন্ন করল পালসটেক লিমিটেড

ঢাকা, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের পোর্টফোলিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান পালসটেক লিমিটেড-এর মাধ্যমে প্রথম সফল এক্সিট সম্পন্ন করেছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম সফল রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এক্সিট, যা দেশের উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

গতকাল ঢাকায় আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা-এর উপস্থিতিতে এক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই, পালসটেক লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরেফীন রাফী আহমেদ, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আশিকুর রসুলসহ স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইসিটি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের প্রথম সফল এক্সিট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক মাইলফলক এবং এটি বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন।

দেশের অন্যতম পথিকৃৎ প্রাতিষ্ঠানিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টার্টআপ বাংলাদেশ এই এক্সিটকে শুধু একটি আর্থিক অর্জন হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে একটি সম্ভাবনাময় অ্যাসেট ক্লাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সফল এক্সিট স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্ভাবনী স্টার্টআপে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত করবে এবং দেশের উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্টার্টআপ বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতের ৩৬টি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্যোক্তাদের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে। এই সফল এক্সিট উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল্য সৃষ্টির পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোর প্রবৃদ্ধির যাত্রায় প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ কেবল বিনিয়োগই নয়, বরং কৌশলগত ভিশন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, ফলো-অন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে দেশের উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে।

২০২৪ সালে স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগের পর থেকে পালসটেক লিমিটেড বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল হেলথকেয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ফার্মাসিউটিক্যাল বিতরণ, এমবেডেড ফাইন্যান্সিং, সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস সমাধান এবং ওয়ান ফার্মেসি ফ্র্যাঞ্চাইজি নেটওয়ার্ককে একীভূত করে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও খণ্ডিত শিল্পখাতকে আধুনিকায়ন করেছে।

এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক অবস্থান বজায় রেখে বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্জন করেছে। গত ১৮ মাসে কোম্পানিটি গড়ে প্রতি মাসে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং বর্তমানে ১৪ হাজারের বেশি ফার্মেসিকে সেবা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে ঢাকার প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য ওষুধ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে পালসটেক সিরিজ-এ ফান্ড সংগ্রহ, দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশের এই সফল এক্সিট বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।

উল্লেখ্য, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবনী ও উচ্চ-প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মূলধন ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করে। উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

#

জসীম/তানভীর/আতিক/আলী/মিজান/সফি/জোহরা/২০২৬/১২৫০ ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৮

জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

টোকিও, ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদ ও আহতদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দিবসের শুরুতে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভায় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন এবং তাঁদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণমূলক সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত আবশ্যক।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় বর্তমান সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নাগরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুশাসিত ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রবাসীদের অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রবাসীদের নাগরিক সুবিধা আরো সহজতর করতে ইতোমধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স। ফ্যাসিস্ট আমলের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে সেটি ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। এসময় তিনি প্রবাসীদের প্রতি অফিশিয়াল ও বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে জাপানে বসবাসরত সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

#

শফি উল্লাহ/তানভীর/আতিক/আলী/জোহরা/২০২৬/১২২১ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৭

প্রযুক্তি উদ্ভাবনেই অর্জিত হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব

-প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ওসাকা (জাপান), ২১ শ্রাবণ (৫ আগস্ট):

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, একটি দেশ যদি শুধু প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করে, তবে সেদেশ সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু যেদেশ স্টেম বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল , শিল্পকলা এবং গণিত শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বুঝতে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করতে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, সেই দেশই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। জাপান ইতিহাসের সেই পথ দেখিয়েছে, আর বাংলাদেশও প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই স্টেমভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তুলে একই পথ অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আজ জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি STEAM (Science, Technology, Engineering, Arts and Mathematics) শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শেখানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং শিশুদের প্রশ্ন করতে শেখানো, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করা, ধারণাকে গভীরভাবে বোঝা, সমস্যা বিশ্লেষণ করা এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি সাত কোটিরও বেশি এবং বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষায় অধ্যয়ন করছে। একটি বহুমুখী, জ্ঞানভিত্তিক ও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম শিক্ষার শক্ত ভিত নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের ইতিহাস এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। মেইজি পুনর্গঠনের সময় কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর উভয় ক্ষেত্রেই জাপান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক শিখন সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিশুদের সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান এবং মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি দৃঢ় শিক্ষাভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্টেম শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয়বহুল প্রযুক্তি সবসময় প্রয়োজন হয় না। একটি শিশুর লাগানো একটি গাছই হতে পারে জীববিজ্ঞান শেখার ল্যাবরেটরি। স্থানীয় পানির মান পরীক্ষা করা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা, কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা কিংবা নিজ এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার সহজ প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খোঁজা, এসবই শিশুদের জন্য কার্যকর স্টেম শিক্ষার অংশ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব এবং মৌলিক রোবোটিক্স শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে চায়। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে STEAM শিক্ষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, আরটেক জেনারেল এক্সিবিশনে প্রদর্শিত শিক্ষা উপকরণ ও শেখানোর পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত সহজ, মডুলার, ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী। এসব উদ্ভাবনী মডেল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সহজেই অভিযোজিত করা সম্ভব। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী ও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য শিক্ষাসমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করাবে না বরং সমস্যাকে শনাক্ত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে সক্ষম করে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, দ্রুত নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তবে এসব শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই এসব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই।

বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী আরটেক, অক্টোব্রেইন, অনুষ্ঠানের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আরো সহনশীল, উদ্ভাবনী এবং সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।

অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#

তানভীর/তানভীর/আতিক/আলী/মিজান/শফিক/২০২৬/১১০০ ঘন্টা

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন