কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৬:০৪ PM

তথ্যবিবরণী ৪ আগস্ট ২০২৬

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৪-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৪-০৮-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৬

মানব পাচারকারীদের প্রতারণার নতুন কৌশল মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনের ভুয়া প্রলোভনকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী আজ রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানব পাচারের শিকার সারভাইভারদের (উদ্ধারপ্রাপ্তদের) সত্য ঘটনা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ (LISTEN)-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ধ্বংস করে না, এটি সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের এই বিস্তার রুখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। ‘লিসেন’ গ্রন্থের মাধ্যমে সারভাইভারদের যে করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

চলতি বছরের ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’-এর প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’-এর প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে সীমান্ত পার করে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা প্রদান করা।

মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে এই অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশীদারিত্বই পারে এই ব্যাধি নির্মূল করতে। তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য আইওএম এবং আর্থিক সহায়তাকারী সংস্থা ‘কইকা’ (KOICA)-কে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লিসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসকে অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ হলো দেশে পাচারের শিকার ভুক্তভোগী নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর তৈরি প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।

#

ফয়সল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২২১০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৫

নদী দূষণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগষ্ট):

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তর আজ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

আজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা, নামাপাড়া, সস্তাপুর ও কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল, ঢাকা টেক্সটাইল মিলস, এম এম ডাইং, মেসার্স শাহীন টেক্সটাইল মিল এবং আই এফ এস টেক্সওয়্যার। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অধীন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের একটি পরিদর্শন দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত আজান ওয়াশিং ও আল আমিন ওয়াশিং নামের দুটি কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ এবং ইটিপি স্থাপন ছাড়াই ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই এলাকার অন্যান্য ওয়াশিং কারখানা পরিদর্শনের সময় বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

#

তোফাজ্জল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০২২ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯৩

চলতি অর্থবছরে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য

উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গ পাবেন মাসিক সম্মানি

--জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগষ্ট):

দেশে চলতি অর্থবছরে সরকার মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদান করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গঠিত সেল এর ৭ম সভা আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং সেল সভাপতি মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি প্রদানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরে দেশের মোট এর চতুর্থাংশ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন সুবিধাভোগীকে এ ভাতা প্রদান করে আগামী চার বছরে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৮২ হাজার ৬৫৬ টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন, ৩ হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন, ৭৫২ টি বৌদ্ধ বিহারের ১ হাজার ৫০৪ জন এবং ৩০১ টি গির্জার ৬০২ জন উপকারভোগীকে এ অর্থ প্রদান করা হবে।

মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ৬ হাজার ০১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানি প্রদান করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মাসিক ভিত্তিতে ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষকে ও যাজকদের ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারি যাজকদের ৩ হাজার এবং মসজিদের খাদেমদের ২ হাজার টাকা হারে এ সন্মানি প্রদান করা হবে। এছাড়া বছরে প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীর চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ এর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

#

মালেক/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০২২ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৯০

সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

সাভার, ২০ শ্রাবণ (৪আগষ্ট):

তরুণদের শুধু খেলাধুলায় নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, একটি শান্তিপূর্ণ, সুস্থ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘টাইগার রান ২০২৬’ মিনি ম্যারাথনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু উপাচার্য বা প্রশাসনের নয়; একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে যারা এই দৌড়ে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এমন তরুণদের হাত ধরেই একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ‘টাইগার রান’ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে অনুষ্ঠানে এসে এর উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য জেনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব বাঘ দিবসকে কেন্দ্র করে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আয়োজন হওয়া উচিত। এতে তরুণদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব হবে।” তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি দৌড় নয়; এটি তরুণদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক চেতনা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের অবক্ষয় দূর করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষিত বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, দেশের কোনো শিক্ষিত তরুণ-তরুণী যেন বেকার না থাকে। শুধু ডিগ্রিধারী তৈরি নয়, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

বক্তব্যে আমিনুল হক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণীসহ সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে হবে। নিজের ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ভোরবেলার অনুশীলনের অভ্যাসের কথা তাঁর মনে পড়ে গেছে। বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় আয়োজিত এই ম্যারাথন অংশগ্রহণকারীদের জন্য ভিন্নমাত্রার আনন্দ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের একটি দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠালে তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা উচিত। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

#

নূর/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/লিখন/২০২৬/১৯৫৬ ঘন্টা

Handout number: 586

US Embassy Political and Economic Counsellor calls on Energy Minister

Dhaka, 4 August 2026:

Eric Geelan, Political and Economic Counsellor at the Embassy of the United States of America in Dhaka, called on the Minister for Power, Energy and Mineral Resources, Iqbal Hassan Mahmood, at the Ministry of Power, Energy and Mineral Resources today. Geelan was accompanied by Joseph Boski, the Economic Officer of the US Embassy.

During the meeting, the two sides held cordial and constructive discussions on strengthening bilateral cooperation in the energy sector. The discussion covered the following key areas: scope of Energy Cooperation, signing a Memorandum of Understanding (MoU) between the two countries, enhancing mutual business cooperation, and any other potential areas of mutual concern.

Both sides explored avenues to broaden and deepen energy sector cooperation between Bangladesh and the United States, including in the areas of LNG and LPG. The areas have been discussed in detail for clarification by both parties. The possibility of formalising bilateral cooperation through a Memorandum of Understanding was also discussed, with both sides expressing interest in identifying priority areas for collaboration.

The discussions also focused on ways to encourage greater participation of US businesses in Bangladesh’s energy sector and to promote government-to-government (G2G) cooperation, particularly in the context of the Prime Minister’s upcoming visit to the United States.

Both sides candidly discussed existing challenges to bilateral energy cooperation and exchanged views on practical measures and a potential roadmap to address these concerns going forward for greater mutual benefit and enhancing the energy security of Bangladesh. The Energy Minister, Iqbal Hassan Mahmood, has requested that further meetings with potential parties be arranged at the earliest convenience to discuss the issues in detail and enhance the process.

The Minister reaffirmed the Government of Bangladesh’s commitment to strengthening energy partnerships with the United States and welcomed continued engagement between the two countries on matters of mutual interest. Geelan thanked the Minister for the productive discussion and expressed the US Embassy’s continued interest in supporting the development of Bangladesh’s energy sector.

Senior officials of the Ministry of Power, Energy and Mineral Resources were also present at the meeting.

#

Arif/Kamruzzaman/Paban/Shahadat/Mosharaf/Rafiqul/Konok/Likhon2026/1717 hours



তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৮৪

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই-অগাস্ট গণহত্যা মামলার আসামি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে ইতোপূর্বে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

আইসিটির এই নিষেধাজ্ঞা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইসিটি পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করা ও দণ্ডিত আসামির পূর্বে দেওয়া সব বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরাতে ও বন্ধ করতে এবং প্রচার ও প্রকাশ না করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও (NCSA) দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে আইনের সুস্পষ্ট ধারা উল্লেখ করে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গণমাধ্যমের একটি অংশ জুলাইয়ের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আদালতের নির্দেশনা মানলেও কিছু গণমাধ্যম এখনো দন্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান করে। যেসব গণমাধ্যম পতিত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছেন, তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

সরকার জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখতে দেশের সকল প্রকার গণমাধ্যমকে (টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া) পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।

জাতীয় ঐক্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় দেশের সকল গণমাধ্যম পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে সরকার আশা করে।

#

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/মোশারফ/কনক/রেজাউল/২০২৬/১৮০৬ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৮০

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদ্‌যাপন কর্মসূচি

রাজধানীতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান ট্রাক সংগীতের আয়োজন

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে আজ গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ট্রাকযোগে ভ্রাম্যমান সংগীত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নিজস্ব সংগীত দল দুটি উপদলে বিভক্ত হয়ে ট্রাকযোগে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সংগীত পরিবেশন করে।

আজ রাজধানীর গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে ট্রাকযোগে ভ্রাম্যমান সংগীত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সামাজিক ও নাগরিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান। বিশ্বের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যায়, অনিয়ম, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণরাই যুগে যুগে সোচ্চার হয়ে সমাজে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে এবং জনগণের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার-সংক্রান্ত একটি রায়কে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অনেক প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রচিত হয় ইতিহাসের এই স্মরণীয় অধ্যায়, যা পরবর্তীতে জনগণের ক্ষমতায়নের আকাক্সক্ষাকে আরো সুদৃঢ় করেছে। তরুণদের এই ঐতিহাসিক লড়াই আগামী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মহাপরিচালক আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও মর্মবাণী ধারণ করে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নিজস্ব শিল্পীরা জাগরণমূলক সংগীত রচনা ও পরিবেশন করেছেন। এসব গান মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চেতনা, দেশপ্রেম ও ভালো কিছু করার আকাক্সক্ষা জাগিয়ে তুলবে এবং যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবে।

ট্রাকযোগে ভ্রাম্যমান সংগীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, তরুণদের সামাজিক ও নাগরিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ মু’মেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

#

আসলাম/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/মোশারফ/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮৪৫ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৭৯

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনগ্রসরতা দূর করতে আঞ্চলিক সমন্বয় ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

আজ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকায় কর্মরত বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেতৃত্বস্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য সমন্বিত প্রয়াস জরুরি। ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এক্সপ্রেসওয়ে বা ফ্লাইওভারকে ভালুকা পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৪ জন সংসদ সদস্যের অনুস্বাক্ষরসহ (ডিও লেটার) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে, যা বর্তমানে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের সাথে দ্রুতগতির ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়নের বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা চলছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সেবা নিশ্চিতকরণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি কেবল আর্থিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, সেবাবঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলোকেও দুর্নীতির আওতায় এনে লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। এছাড়া সারা দেশের জেলা পর্যায়ে আধুনিক সুবিধা সংবলিত ও কমিউনিটি সেন্টারভিত্তিক সুনির্দিষ্ট একটি করে মানসম্মত প্রেস ক্লাব নির্মাণের প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচনা সভার শুরুতে উপস্থিত সাংবাদিকগণ নিজেদের পরিচয় দেন এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন এরফানুল হক নাহিদ, মাসউদুল হক, রফিক মুহাম্মদ, আনিসুর রহমান খান, উবায়দুল্লাহ বাদল, হামিদুল হক মানিক, শফিউল আলম দোলন, মাসুদ করিম, মোঃ গোলাম কিবরিয়া, মাহমুদুল হাসান এবং বাহারাম খানসহ অন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

#

ইমরানুল/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/মোশারফ/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮১০ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৭৮

দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কার্যক্রম

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা-৬টি, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ। বন্যায় প্লাবিত ইউনিয়ন ১৭৬টির মধ্যে ২৪টি চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ড (মোট ইউনিয়ন ১৯১) অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন- ৬৩টি। জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম কর্তৃক বন্যা চলাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই। কোনো হতাহত হয়নি এবং জেলায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪.৫০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস হবিগঞ্জ কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়ি জেলায় অতিবৃষ্টি নেই। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনো ফিরেনি। জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ি কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ মি.মি.বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্তমানে রামুর বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২.৪৪ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। চকরিয়ার চিরিঙ্গার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২.৬৭ মিটার নীচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা এখন ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস কক্সবাজারের পক্ষ থেকে বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে জরুরি বার্তা নিয়ে মাইকিং প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা তথ্য অফিস, রাঙামাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।

জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস বান্দরবান কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজার কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তথ্য অফিস, লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো এবং সারাদিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তথ্য অফিস লামা কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তথ্য অফিস, রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রামগড়ে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে দেখা যায়। ভারী বৃষ্টি না থাকায় বর্তমানে ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কোনো আশংঙ্কা নেই। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে পাহাড়ধসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রামগড় জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক বন্যা/ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং করা হয়েছে।

তথ্য অফিস, পটিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পটিয়া উপজেলায় পাহাড়ধস বা ভূমিধস হয়নি। বন্যা পরবর্তী করণীয়সহ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য অফিস, কাপ্তাইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া আজ স্বাভাবিক থাকবে। মাঝে মাঝে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হলেও তাতে পাহাড়ধস/ভূমিধস ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।

#

গণযোগাযোগ অধিদপ্তর/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/মোশারফ/কনক/লিখন/২০২৬/১৬৫২ ঘন্টা

আজ বিকালপাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৭০

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পলাতক স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা- ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।


হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। রক্তে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা, ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সে ব্যাপারে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এইসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনো ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।”

#

আশরোফা/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/আলী/আসমা/২০২৬/১১৪৫ ঘন্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধআজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৬৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ২০ শ্রাবণ (৪ আগস্ট):

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আগামীকাল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

আজ মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় বিজয়ের দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। প্রবল গণরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ফ্যাসিস্ট সরকার। জাতি অর্জন করে এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আমি বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি-আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহীদকে। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত এবং হাত-পা-চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও জানাই গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা। তাঁদের এই বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ। দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও কারাগারের দুঃসহ জীবন, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য গায়েবি মামলা-হামলা, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন, মিথ্যাচার, নির্বিচার দমন-পীড়নের ফলে মানুষের মনে তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল তীব্র ক্ষোভ। এরই সঙ্গে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাংক-বিমাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছিল দুর্বল, অচল ও জনবিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্রকে পরিণত করা হয়েছিল ভঙ্গুর, তাবেদার আর মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত। এসব অনাচারের ফলে জনমনে সঞ্চিত হয়েছিল ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ। ফলে কোটা সংস্কারের আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এই ঘনীভূত ক্ষোভ ও জনরোষ দ্রুত রূপ নেয় সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে।

এই গণঅভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী; শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী মানুষ, অভিভাবক, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া-জননী-সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ও সমবেত শক্তিতে রাজপথে নেমে আসেন। এঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। মানবজাতির ইতিহাসে এমন গণজাগরণ বিরল। জাতি জনমানুষের এই ভূমিকা ও অবদান চিরকাল স্মরণে রাখবে, গর্ববোধ করবে, হবে উজ্জীবিত ।

আমার বিশ্বাস, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে-যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান ঘটবে। যেখানে ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হবে।

চলমান পাতা-

আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্র শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘঠিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।

আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার তাওফিক দান করুন।

আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের রূহের মাগফেরাত ও চিরশান্তির জন্য প্রার্থনা করি।

#

রাহাত/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/আলী/মিজান/২০২৬/ ১১২৫ ঘন্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন