কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৯:৫৬ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৩-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৩-০৮-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৬৫
বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে
---বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement-CEPA) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক জোট গঠনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু-ইয়ো এর সম্মানে আয়োজিত ডিনার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, ইআরডি সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জন্য দেশটির এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে শুরু হয়ে আজ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির দৃঢ় অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সিইপিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করবে।
বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পভিত্তি ও বৃহৎ বাজার দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। চুক্তির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি ব্যবসায়ী মহলকে এই চুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ আলোচনায় সংশ্লিষ্ট উভয় দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবশিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।
#
কামাল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/মোশারফ/আব্বাস/২০২৬/২১৩২ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৬৪
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ আয়োজনের লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভা আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন এর সভাপতিত্বে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একজন করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
সভায় ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এসময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতার আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সভায় জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং আহ্বান করা হয়েছে। লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
সভায় মাঠ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, প্রচারণা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
#
শিবলী/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/২১৩০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৬১
অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬ এবং ঔষধের
মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়নের পূর্বে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ব্যতীত প্রণীত হওয়ায় এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। ইতোমধ্যে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। উক্ত উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সেসব ঔষধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ঔষধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/আব্বাস/২০২৬/২০৪৭ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫৯
জাপানের সিজুওকায় ‘বাংলাদেশ-জাপান হিউম্যান রিসোর্স ম্যাচিং সেমিনার’ অনুষ্ঠিত
সিজুওকা (জাপান), (৩ আগস্ট):
জাপানের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাপানের সিজুওকা শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘গ্র্যানশিপ’ কনভেনশন সেন্টারে আজ ‘বাংলাদেশ-জাপান হিউম্যান রিসোর্স ম্যাচিং সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনি অ্যান্ড স্কিল্ড ওয়ার্কার কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (JITCO)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার ও দ্বিপাক্ষিক নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী দুই দেশের মধ্যকার সুদীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান শ্রম চাহিদা এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সংযোগ ঘটিয়ে দুটি দেশই যৌথভাবে উপকৃত হতে পারে। আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি শিল্প কাঠামোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী জাপানি ভাষা শিখছেন। এছাড়া ৭টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে দক্ষ কর্মী (SSW) খাতের মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিগত ছয় মাসে ১২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে জাপানে আগমন করেছেন।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জিটকো (JITCO)-এর সভাপতি শিনজি ওগাওয়া। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মনিষ্ঠা, সততা ও জাপানি সংস্কৃতির সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন এবং দক্ষ কর্মী (SSW) বিভিন্ন খাতে সুনামের সাথে কাজ করছেন। ভাষা ও দক্ষতার পরীক্ষায় বাংলাদেশি পরীক্ষার্থীদের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কাউন্সেলর মোঃ জয়নাল আবেদিন জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশি কর্মী গ্রহণে জাপানি কোম্পানির ক্রম বর্ধমান আগ্রহের সমন্বয়ে বাংলাদেশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাপানে কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া জোরদারকরনে সহযোগিতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি বিষয়ক একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে জাপানি তদারকি সংস্থা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন।
#
শফিউল্ল্যাহ/কামরুজ্জামান/পবন/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/১৯৩০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫৮
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর সাথে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল (Jullian Hill) সাক্ষাৎ করেন। অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা ইস্যু, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, জনশক্তি রপ্তানি, সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরো সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People links) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার মনে করে এবং দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরো বিকশিত হবে।
বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বালি প্রসেস (Bali Process)-এর রূপরেখা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী বাংলাদেশের এই নতুন মানবপাচার বিরোধী আইনের প্রশংসা করেন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের মসৃণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এসময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৪-১৮ জুন, ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (FDMN) নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল (Susan Ryle), সহকারী মন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. ডেমিয়ান অলিভার (Dr Damian Oliver, Canberra), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মিনিস্টার-কাউন্সিলর (শিক্ষা ও গবেষণা) জর্জ থিভিওস (George Thiveos, New Delhi), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্টিভেন বিডল (Steven Biddle, New Delhi) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
#
ফয়সল/কামরুজ্জামান/পবন/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/১৯২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫৫
সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী হলেই জুলাই শহিদদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে
--তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদকেই দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিনির্ধারণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংসদের বাইরে নয়, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সকল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে হবে।
আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য একই সঙ্গে বেদনার ও আত্মসমালোচনার বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই ম্যান্ডেটের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, এত রক্ত, ত্যাগ ও আত্মবলিদানের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই যখন জাতীয় সংসদ দেশের রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিকেই সমর্থন করে।
তথ্যমন্ত্রী শহিদদের স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা আবেগের বিষয় নয় উল্লেখ করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান জানাতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরো সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের শহিদদের আত্মত্যাগ একই ধারার অংশ। তাঁদের রক্তের ঋণশোধের একমাত্র পথ হলো একটি কার্যকর সংসদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিচারব্যবস্থা, সুশাসন এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে সুসংহত করা।
মন্ত্রী আরো বলেন, এসব লক্ষ্য কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জুলাই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলেও সেখানে অসহিষ্ণুতা, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে শালীনতা, যুক্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার জনগণের নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জনগণের স্বার্থবিরোধী বিভ্রান্তি, অস্থিতিশীলতা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকার সংবিধান ও আইনের আলোকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী ও ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম।
#
ইমরানুল/কামরুজ্জামান/রফিকুল/লিখন/২০২৬/১৬২৭ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫৪
টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষায় এডিবি'র সহযোগিতা প্রত্যাশা পানিসম্পদ মন্ত্রীর
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
বাংলাদেশের টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী তীর রক্ষায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি'র) অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মানসম্মত অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সরকার এডিবি'র সাথে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
আজ সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবি'র কান্ট্রি ডিরেক্টর Qingfeng Zhang সাক্ষাৎকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী । প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এডিবি' নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এডিবি আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এসময় তিনি পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিভিন্ন রূপান্তরমূলক কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এডিবিকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে এডিবিকে সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান তিনি।
এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর Qingfeng Zhang বলেন, বাংলাদেশে সংস্থাটি অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার এবং নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজি প্রণয়নে কাজ করছেন। টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভাঙণ প্রতিরোধে এডিবি কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি জানান।
এসময় পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ ও মহা. এনামূল হক উপস্থিত ছিলেন।
#
নাছির/কামরুজ্জামান/রফিকুল/আব্বাস/২০২৬/১৭০০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫৩
আইএটিএর সাথে বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন,
টিকিট সিন্ডিকেট দমন ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
মন্ত্রী আজ মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে International Air Transport Association (IATA)-এর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট Shejdon Hee এর সাথে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস-সংক্রান্ত পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সরকার টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (Sustainable Aviation Fuel-SAF) নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি, আকাশপথে অপরাধ দমনে Montreal Protocol ২০১৪- গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাক্ষাতে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আওতাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টেকনিক্যাল সেন্টার (BATC)-কে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে আইএটিএ কারিগরি সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎকালে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণ এবং বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
#
তরিকুল/কামরুজ্জামান/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/১৭২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫২
জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।
আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অংশ। এই আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের সামনে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাঙ্ক্ষাকে আরো শক্তিশালী করেছে। এখন বিভাজন ও সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সাংবাদিকদের সমস্যা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। জুলাই আন্দোলনে শহিদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারগুলোর প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই শহিদসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
#
চয়ন/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/আমিরুল/২০২৬/১৫১০ ঘন্টা
Handout Number: 551
Nature-Based Solutions Key to Sustainable Livelihoods in Coastal Bangladesh
- Fisheries and Livestock State Minister
Dhaka, 3 August:
State Minister for Fisheries and Livestock Sultan Salahuddin Tuku has said, nature-based solutions are among the most effective and sustainable pathways to safeguarding lives and livelihoods, ensuring food security, and building climate resilience in coastal communities,
He made the remarks while speaking as the chief guest at a national technical workshop titled ‘Prioritizing Nature-Based Interventions for Resilient Coastal Bangladesh,’ held at a hotel in the capital today. The event was jointly organized by Friendship and Conservation International.
The state minister noted that forests, wetlands, coastal greenbelts, and integrated agroforestry systems not only protect the environment but also boost the availability of livestock feed, enhance animal health, and reinforce the integrated ‘One Health’ framework uniting human, animal, and environmental health.
Highlighting the severity of the climate crisis, State Minister observed that while Bangladesh has earned global recognition for its climate adaptation efforts, its coastal regions remain among the most vulnerable in the world. Recurring cyclones, storm surges, sea-level rise, encroaching salinity, and coastal erosion continue to threaten the ecosystem, the local economy, food systems, and the livelihoods of millions.
Fisheries and livestock contribute significantly to the national economy and serve as the foundation of rural livelihoods. However, both sectors face immense exposure to the adverse impacts of climate change, the state minister added.
He emphasized that millions of coastal families depend on livestock-including cattle, buffalo, goats, sheep, and poultry-for steady income, nutrition, employment, and financial security. During natural disasters, livestock often serves as a family’s primary economic asset.
Reaffirming the government's commitment, State Minister stated that efforts are underway to strengthen climate resilience through sustainable natural resource management, ecosystem restoration, and evidence-based development planning. He added that the national campaign to plant 250 million trees over the next five years will play a pivotal role in restoring ecosystems and bolstering community resilience.
The workshop opened with a welcome address by Runa Khan, Founder of Friendship. Former Secretary Dr. Md. Faridul Islam, Director General of the Department of Livestock Services Md. Shahzaman Khan, and South Asia Managing Director of Conservation International Sourav Malhotra also attended as special guests.
#
Mamun/Khadiza/Marufa/Tarana/Atik/Asma/2026/1520 hours
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৫০
হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১৩ জন।
১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩।
গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৫১ এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
#
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/মনির/রোকন/সফি/২০২৬/১৫০৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪৯
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ, (৩ আগস্ট):
রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে কমিটির গঠন, কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারী করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। কমিটির সদস্য হিসেবে পুলিশ সুপার ও পাবলিক প্রসিকিউটর এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে পুলিশ সুপারের পরিবর্তে পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের পরিবর্তে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি বা আসামির পিতা/মাতা/স্ত্রী/স্বামী/ভাই/বোন/ছেলে কিংবা মেয়ের মধ্যে যেকোনো একজন সব আসামির পক্ষে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সাথে মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি, যা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী দ্বারা সত্যায়িত, তার ফটোকপি দাখিল করতে হবে।
এ প্রজ্ঞাপন জারীর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ মে ২০২৬ তারিখের ৪৪.০০.০০০০. ০৫৫.০৫.০০২.১৬.২০০ নং প্রজ্ঞাপন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
#
মনজুর/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/রোকন/সফি/২০২৬/০৯৫০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪৮
প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে
-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর ও টেকসই উপায় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘প্রায়োরিটাইজিং নেচার-বেসড ইন্টারভেনশনস ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’ -শীর্ষক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন, জলাভূমি, উপকূলীয় উদ্ভিদবেষ্টনী এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে না; এগুলো প্রাণিসম্পদের জন্য পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ায়, প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায় এবং মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে শক্তিশালী করে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনো বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার ও উপকূলীয় ভাঙন পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতি, খাদ্যব্যবস্থা এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এই দুই খাতই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগির ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিসম্পদ নিয়মিত আয়, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদও হয়ে ওঠে প্রাণিসম্পদ।
তিনি আরো বলেন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় উদ্যোগ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ড. মোঃ ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান এবং কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।
#
মামুন/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/আমিরুল/২০২৬/১৪১০ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪৪
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে
-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের সাহস, ঐক্য ও আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায়। এ আন্দোলনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও ব্যাপকতা ও শক্তি দিয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) আয়োজিত ‘জুলাই আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়:সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ছিল না বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলন সফলতার দিকে এগিয়ে যায়। দেশের প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসী অবস্থান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের শক্তি হলেও তাদের প্রধান পরিচয় শিক্ষার্থী। তাই দেশ, সমাজ ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিকতাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথিকা বিনতে হোসাইন এবং ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। এছাড়া, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
#
তানভীর/খাদীজা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/মিজান/২০২৬/৯৪৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪৩
আমরা মালিক নই, দেশের ১৮ কোটি জনগণের সেবক
-ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম), ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন, বরং তারা জনগণের সেবক বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, চেয়ারে বসলে নিজেকে দেশের মালিক মনে করার ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত সেবকের মনোভাব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েও সর্বদা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। নিজেদের স্বউদ্যোগ ও সামর্থ্যকে মানুষের সেবায় এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে।
বন্যায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রথম থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভারী বর্ষণের পর থেকেই নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি নিজে এবং দলীয় নেতাকর্মী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সেবকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরো জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলস সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ফলে মানুষের প্রাণহানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ অভূতপূর্ব কৃতিত্বের জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সকল সেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো দেশব্যাপী যদি আরও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ তৈরি হয়, তবে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা অনেক কমে আসবে। আমরা অপ্রয়োজনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করি, তার দশ ভাগের একভাগও যদি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পেছনে ব্যয় করা হতো, তবে দারিদ্র্যের হার অনেক আগেই হ্রাস পেত।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের সামগ্রিক পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রজাতন্ত্রের সকল সেবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, সবাই যেন এমনভাবে সেবাদান নিশ্চিত করেন যেন জনগণ মানসিকভাবে ও বাস্তবে অনুভব করতে পারেন যে তারাই এ দেশের প্রকৃত মালিক।
#
রেজুয়ান/খাদীজা/তারানা/মারুফা/আতিক/সাঈদা/রোকন/মিজান/২০২৬/১০০০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪২
সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে
- আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন
ঢাকা, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে এবং দেশের বিশাল যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউসেপ বাংলাদেশ -এর উদ্যোগে 'সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ' শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। এই লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির বাইরেও তৃতীয় একটি ভাষা শেখা আবশ্যক। এভাবে গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে, যেমন একদিকে তাঁদের পরিবারে সচ্ছলতা আসবে, অন্যদিকে জাতীয় রেমিট্যান্সের প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি কেয়ার গিভিং খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় সমাজের পিছিয়ে পড়া বেকার যুবসমাজ, বিশেষত দরিদ্র যুব-যুবমহিলা, প্রতিবন্ধীতা সম্পন্ন ব্যক্তি, সুবিধাবঞ্চিত নৃ-জনগোষ্ঠী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, হিজড়া জনগোষ্ঠী, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, উপকূলীয় এলাকার লোকজন, অসহায় জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী, সরকারি শিশু পরিবার, কিশোর-কিশোরী কেন্দ্র, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমন্বিত শিশু পরিবার কেন্দ্রের কিশোর কিশোরী এবং 'জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন'-এ অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দরিদ্রতা দূর করা এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭৫০০ জনকে ১৯ টি জেলায় ১৭টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব, ইউসেফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আবদুল করিমসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসেফ বোর্ড অফ গভর্নরস -এর সদস্য ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।
#
রায়হান/খাদীজা/মারুফা/তারানা/আতিক/রোকন/সফি/২০২৬/০৯৫০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৫৪১
আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাঁতশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে
-বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
টাঙ্গাইল, ১৯ শ্রাবণ (৩ আগস্ট):
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতি, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁতিদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাঁদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক। টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য-ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম ও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতিদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মোঃ শরীফুল আলম বলেন, তাঁতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর ব্যবহারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতিরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁতিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতিরা আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, তাঁতিদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
#
আশিক/খাদীজা/তারানা/আতিক/সাঈদা/আসমা/২০২৬/৯৩০ ঘন্টা