কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৭:৫৯ PM

Handout 25 August 2026

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ২৫-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ২৫-০৮-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭৯

পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেছেন, অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে এমন সব প্রকল্প গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়ি মাটি কিছু বিশেষ প্লান্টেশনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জুম চাষাবাদের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের দেশের কৃষিতেও এ ধরনের বিপ্লব ঘটাতে হবে।

আজ ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কাজু বাদাম ও কফি চাষের উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ভূমির গুণগত মান নির্ণয়ে পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ঠিক রেখে মাটির অবস্থান বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল, উন্নতমানের মাশরুম ও ভালো জাতের লটকন চাষের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গাড়ল বা ভেড়া ও মেষ পালনের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং অধিগ্রহণকালে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসন করতে হবে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রথাগত বিধি অনুযায়ী সমাধান করার তাগিদ দেন তিনি। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক চাষ সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা পরিহার করতে হবে। এর পরিবর্তে কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করতে হবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় পানির সংকট দূর করা, অর্গানিক ফল উৎপাদনে বাগান বৃদ্ধি, রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ এবং কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা ও সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী পুরস্কার গ্রহণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

#

রেজুয়ান/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/মোশারফ/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৯৪০ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭৮

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি এবং ৪র্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

-- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জ, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে ডিভাইস ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে এবং যুবসমাজের মাঝে নীতি-নৈতিকতা ছড়িয়ে দিতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিমন্ত্রী আজ মুন্সীগঞ্জের শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সেই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তারই হাত ধরে আজ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় খেলাধুলাকে পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ৮টি ইভেন্টের ওপর বই লেখার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী বছর থেকেই স্কুলে চালু করা হবে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের নানান পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের ডান পাশের গ্যালারি নির্মাণসহ প্রেস বক্স ও ড্রেসিং রুম সংস্কারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। সেখানে ইনডোর সুবিধা ও জিমনেসিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করা হবে এবং সকল জেলার সুইমিংপুলগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ, কে, এম, ইরাদত।

#

নূর আলম/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৯৩০ ঘন্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭৭

দেশে কেউ যাতে বৈষম্যের শিকার না হয় সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে

-- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে কেউ যাতে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন রয়েছে।

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব)’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যখাতে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

মন্ত্রী বলেন, যারা সেবা খাতের সাথে সম্পৃক্ত তাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ সেবা পাবে; তাই সরকার নিজ অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রদানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যথাযথ ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ছাড়া কোনো পেশা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না; তাই সংগঠন ও পেশার মানোন্নয়নে সবার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। স্বাস্থ্যসেবায় ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখা এবং রোগীরা যেন সঠিক ওষুধ পান তা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের সতর্ক ভূমিকা পালন করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের পক্ষ থেকে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করা হলে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য সেবা বা পেশার ন্যায় ফার্মাসিস্টদেরও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সকল খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

#

রায়হান/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৯০০ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭৪

প্রাথমিক শিক্ষায় রিপোর্টনির্ভর নয়, ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে

-- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহী, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু রিপোর্ট ও কাগুজে তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীর প্রকৃত উপস্থিতি, শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা সরাসরি যাচাই করা হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। কাগজে ভালো রিপোর্ট নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব শিখনফলই হবে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড।

আজ রাজশাহী পিটিআই অডিটোরিয়ামে রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় (প্রাথমিক শিক্ষা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের আটটি বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামত গ্রহণ করা। তিনি বলেন, বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য বাথরুম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও আসবাবপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, No Child Out of School & Every Child Gets the Right Education এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#

তানভীর/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৮৩০ ঘন্টা

টিভি স্ক্রল নম্বর: ২৪

টেলিভিশন চ্যানেলে স্ক্রল আকারে প্রচারের জন্য

সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিম্নোক্ত বার্তাটি জনস্বার্থে স্ক্রল আকারে প্রচারের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো:

মূলবার্তা:

‘জরুরি আইনি পরামর্শ ও তথ্য সেবা পেতে কল করুন জাতীয় লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন নম্বর-১৬৬৯৯ (টোল ফ্রি), এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১২৩১৬৬৯৯ নম্বরে –আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।’

#

মঞ্জুরুল/মারুফা/তারানা/সাঈদা/জোহরা/২০২৬/১৫০২ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর:৮৭৩

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

আজ মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর ‘Accelerating Drought Resilience’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি খরা মোকাবিলায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিতভাবে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব এ সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে। তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশন-এর আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ দেশের কাজে লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (National Adaptation Plan)-এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের BAMIS-এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরো জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। তিনি একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিনিধিদলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

#

তোফাজ্জল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/পবন/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬১৬ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭১

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ

সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যৌথ বিনিয়োগে গুরুত্ব

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরের সাথে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে আলোচনা সভায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এই খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরো বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

#

কামাল/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/কামাল/২০২৬/১৩১৫ ঘন্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৭০

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১২-১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। এই আয়োজনকে কেবল একটি মেলা বা প্রদর্শনী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের একটি টেকসই জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের বেসরকারি খাত, শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

গতকাল ঢাকায় একটি হোটেলে এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শীর্ষ শিল্পপতি এবং নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘Developing Innovation Ecosystem Towards a Trillion-Dollar Economy’ শীর্ষক নেটওয়ার্কিং সভায় প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করলেও প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer), রেগুলেটরি অনুমোদন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (IP) সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে তা সফলভাবে ব্যবসায় রূপ নিতে পারছে না। সরকার এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড (End-to-End) ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ তৈরি করছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিকভাবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, কেবল সরকারের পক্ষে উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার প্রয়োজনীয় পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ও সহায়তামূলক পরিবেশ তৈরি করবে, তবে বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি এডপশনের প্রধান দায়িত্ব বেসরকারি খাতকে নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মিত হাই-টেক ও ইনোভেশন পার্কগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো ও জমি প্রস্তুত রয়েছে। দেশীয় ব্যবসায়ীগণ যেকোনো সময় এসব পার্ক পরিদর্শন করে সেখানে নতুন শিল্প স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

ইনোভেশন ফেয়ারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি শোকেস করা, উদ্ভাবকদের মেন্টরিং ও ইনকিউবেশনে সহায়তা দেওয়া এবং বাণিজ্যিকিকরণের বাধা বা ফিন্যান্সিং গ্যাপ চিহ্নিত করে সরকারকে সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার আহবানও জানান মন্ত্রী।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ এর লক্ষ্য হল উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, শিল্প খাত, বিনিয়োগকারী এবং নীতি নির্ধারকদের এক ছাদের নিচে এনে একটি সুসংহত জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা; যাতে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হয়, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে, জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হয় এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথ সুগম হয়।

সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকার, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, শিক্ষার্থী, শিল্প খাত, বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

এ নেটওয়ার্কিং সভায় এফবিসিসিআই এর প্রশাসক ফজলুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা তপন চৌধুরী, বিজিএমইএ এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, FICCI, EuroCham, BACCO, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, ড্যাফোডিল গ্রুপ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, পিআই স্ট্র্যাটেজি, রানার গ্রুপ, এভিন্স গ্রুপ, দিপন গ্রুপ, এসএসজি বাংলাদেশ, BCMEA সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

#

মামুন/মারুফা/তারানা/আতিক/জোহরা/২০২৬/১২৫৩ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৬৯

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে

-এলজিআরডি মন্ত্রী

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত Christian Brix Moller-এর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, ডেনমার্কের অর্থায়নের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ পড়বে না।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#

চয়ন/মারুফা/তারানা/সাঈদা/জোহরা/২০২৬/১২৪০ ঘণ্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করানিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৬৮

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবি ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবি (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।

মহানবি (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবি (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবি (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

মহানবি (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি রইল আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা।”

#

আশরোফা/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/সফি/২০২৬/ ১২৩০ঘণ্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৬৭

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ১০ ভাদ্র (২৫ আগস্ট):

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“মহিমান্বিত ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই।

মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবি ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। মহানবি (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মহানবি (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে। পবিত্র কুরআনে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ বলে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’(সুরা আল-কলম, ৪)। মানবমুক্তির এই দিশারি তাঁর অনুপম চরিত্র, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের চিরন্তন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাঁর জীবন ও আদর্শ চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

মহানবি (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মার্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।

বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসিহষ্ণুতায় বিপর্যন্ত বিশ্বে মহানবি (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবির এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের উপর আল্লাহর রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক।

আল্লাহ হাফেজ।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

#

রাহাত/মারুফা/তারানা/আতিক/সাঈদা/রোকন/আসমা/২০২৬/১২০০ ঘন্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন