কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:০৬ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ২০-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ২০-০৮-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতের তাগিদ জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতের তাগিদ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। এআই ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্যের যথাযথ সম্মতি এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজ ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে “AI and Governance: Global Technology Architecture, National Digital Public Infrastructure and Policy Directives” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা একথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতা, সুশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। জনগণের সম্মতি, সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে AI গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরো দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে মেধাবী ও দক্ষ মানুষের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল জনসংখ্যা এবং অপার সম্ভাবনা। তবে শুধু মেধা থাকলেই জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে প্রযুক্তিতে, প্রযুক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত AI ecosystem.
জনপ্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের AI রূপান্তরের প্রথম বড় ক্ষেত্র হওয়া উচিত জনপ্রশাসন। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে একজন কর্মকর্তাকে কোনো তথ্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাইল খুঁজতে বা অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে না। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সময় সাশ্রয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারি সেবার দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। যুক্তরাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও এ বিষয়ে আর অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি ব্যয়, ক্রয়, নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, করব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা ও ফাইল ব্যবস্থাপনাসহ জনপ্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগ প্রকল্প প্রণয়ন, ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবহার করলে সময় ও সরকারি অর্থের অপচয় কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক ও জেলা পর্যায়ের সেবাকে আরো দ্রুত, সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতেও AI ব্যবহার করা যেতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি তুলে ধরে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে যেমন রান্না করা যায়, তেমনি একটি ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া যায়- AI ঠিক তেমনই। AI সরকারি সেবার মান বাড়াতে পারে, আবার নতুন ঝুঁকি ও বৈষম্যও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী।
অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসম রিদওয়ানুর রহমান, এডব্লিউসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি এবং আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট আশফাক জামান একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ এমদাদ উল বারী, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি, টিই (অব.) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
#
মালেক/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২১৪০ ঘণ্টা
Handout Number: 835
Students Must Lead in Sports, Science-Technology, and
Co-Curricular Activities Alongside Academics
-- Housing & Public Works Minister
Dhaka, August 20:
The Minister for Housing and Public Works, Zakaria Taher, has stated that students must actively take leadership roles in sports, science, technology, robotics, scouting, and other
co-curricular activities alongside their standard academic studies.
Speaking as the chief guest at a voluntary blood donation and blood grouping campaign held today at Dhaka Residential Model College, Minister Zakaria Taher—an alumnus of the institution—recollected fond memories of his school days. Standing on this school campus after nearly ten years brings back countless memories. Unforgettable memories of our childhood and adolescence are intertwined with every corner of this school, he remarked.
The Minister added, Our single greatest expectation is to see the past tradition, glory, and excellence of Model School fully restored. Once known as one of the country’s finest educational institutions, we want it to be re-established as one of Bangladesh's premier schools once again.
The Public Works Minister highlighted the unique atmosphere of the campus, noting that despite being situated in the heart of the city, the serene environment and unique characteristics of our school were truly exceptional. He also proudly praised a student of the college who earned national and international acclaim through outstanding achievements in the field of robotics.
The blood donation drive took place at the college basketball ground, witnessing active participation from current students, alumni, and faculty members alike.
The event was presided over by Mashiur Rahman, President of the Old Remain Welfare Association. Ahammad Sohel Manzoor, State Minister for Housing and Public Works, and Md. Salimuzzaman Salim, Member of Parliament—both alumni of the college—attended as Special Guests and shared memories of their student life in their speeches.
Brigadier General Mohammad Jaber Hossain, Principal of Dhaka Residential Model College, was present as a Special Guest of Honor. Members of the Old Remain Welfare Association and former students of the college were also present at the event.
#
Alamgir/Kamruzzaman/Shahadat/Sanjib/Rafiqul/Konok/Salim/2026/2015 Hrs.
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩৪
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে
-- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবটিক্স, স্কাউটিং ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রায় দশ বছর পর এই স্কুল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আজ পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই স্কুলের প্রতিটি জায়গার সঙ্গে আমাদের
শৈশব-কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো—মডেল স্কুলের সেই পুরোনো ঐতিহ্য, গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব যেন আবার ফিরে আসে। একসময় এই স্কুল দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। আমরা চাই, আবারও এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
মন্ত্রী বলেন, শহরের মধ্যে অবস্থিত হয়েও আমাদের স্কুলের এই অনন্য পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য ছিল সত্যিই ব্যতিক্রমী। আমাদের একজন শিক্ষার্থী রোবটিক্স নিয়ে অসাধারণ কাজ করে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে।
ওল্ড রিমেইন ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং সংসদ সদস্য মোঃ সেলিমুজ্জামান সেলিম।
কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই রক্তদান কর্মসূচিতে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন। রক্তদান কর্মসূচিতে ওল্ড রিমেইন ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সদস্যবৃন্দ ও কলেজের সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
আলমগীর/কামরুজ্জামান/শাহাদাত/সঞ্জীব/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৯৪০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩৩
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ পুনর্গঠন
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯; তিন জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৭-এর ১৬ক(৪) উপধারা এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর ৪(২) ও ২(২) উপধারার ক্ষমতাবলে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়।
পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ম্রাসা থোয়াই মারমা এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মাম্যাচিং-কে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ১৪ জন করে সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী নিজ নিজ জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের ২৯.০০.০০০০.২১৪.১৮.০০২২.২৪-১১৯ নম্বর প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পূর্বের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিন জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। আজ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
#
রেজুয়ান/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/সঞ্জীব/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৮৩০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩০
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা জাতীয় স্বার্থমুখী হতে হবে
-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের দক্ষতা, জ্ঞান ও মেধাকে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
আজ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে এবং বেসরকারি সহযোগিতা সংস্থা চোরগউসান ফর চিল্ড্রেন ও এডুকো’র সহায়তায় এ মেলার আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে একই সাথে মনে রাখতে হবে, শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং চাকরির বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘জব ক্রিয়েশন’, ‘জব এক্সটেনশন’ বা ‘জব মার্কেট এক্সপানশন’-যে নামেই বলা হোক, এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও উৎপাদননীতি। আর এসব নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধান করতে হলে শুধু দক্ষতা উন্নয়নের দিকে তাকালে হবে না; চাকরির বাজারের ‘সুইচ’ কোথায়, সেটিও বুঝতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী এসময় তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সাথে যুক্ত করার মানসিকতা তৈরির উপর জোর দেন।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে এসে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আধুনিক পোশাকশিল্পের দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সেসময় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাংকঋণ, বিদেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি নতুন শিল্পখাতের ভিত্তি তৈরি করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের এ ধরনের নীতিগত সহায়তার সুফল শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি উৎস পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন শিল্প ও উৎপাদন খাত গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী চাকরিপ্রার্থী তরুণদের নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিকুলাম তৈরির সময় তাদের নৈতিকতা, দর্শন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কেও ধারণা দেয়ার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী তরুণদের দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরির পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় স্বার্থমুখী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একদিকে যেমন দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অর্থনীতি, শিল্প ও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চাকরির বাজারকে সম্প্রসারণ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে রাষ্ট্র, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ও ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ শহিদ উজ জামান।
#
ইমরানুল/মারুফা/তারানা/তানভীর/সাঈদা/রোকন/কামাল/২০২৬/১৫৩০ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮৩১
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা জারি
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
দেশে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ১৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন ও বলবৎ করেছে।
নির্দেশিকাটি বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সকল প্লাস্টিক পণ্য এবং তালিকাভুক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে কেবল রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ এর আওতা-বহির্ভূত থাকবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী প্লাস্টিক পণ্যকে কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম/ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য (স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, সিগারেট ফিল্টারসহ)-এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নির্দেশিকায় উল্লেখকৃত ‘অবলাইজড এনটিটি’-দের ধাপে ধাপে (অর্থাৎ, প্রথম দুই বছরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান) তালিকাভুক্ত করবে, যাদের তালিকাভুক্তির ৬ মাসের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। প্রতিষ্ঠানসমূহ এককভাবে অথবা প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন (পিআরও)-এর মাধ্যমে যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী বর্ণিত অবলাইজড এনটিটিগণের জন্য প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫% বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭.৫% বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ৩০% বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫% বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তিন বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে হালনাগাদ করা হবে। লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগৃহীত বর্জ্য সরকার-অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, যাতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন নবায়ন হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তথ্য যাচাই করবে এবং অসত্য তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
এ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন, যা বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণ, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং চক্রাকার অর্থনীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে এটি সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও প্লাস্টিক দূষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রয়াসকে আরও জোরদার করবে।
নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, নিবন্ধন ফরম ও প্রতিবেদন ছক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ গেজেটে (https://share.google/kFGJm0ZuxwWB082L0) পাওয়া যাবে।
#
তোফাজ্জল/মারুফা/তারানা/তানভীর/সাঈদা/রোকন/আমিরুল/২০২৬/১৪১০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৯
বিজ্ঞানের আলোয় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ
ঢাকা, ৫ ভাদ্র (২০ আগস্ট):
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১২-১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের এক ছাদের নিচে এনে একটি সমন্বিত উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং দেশের অর্থনীতিকে ‘ট্রিলিয়ন-ডলার’ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়াই এ মেলার মূল লক্ষ্য। ‘Innovate to Market’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ মেলার দ্বার উন্মোচন হতে যাচ্ছে।
আয়োজনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মেলার মূল আকর্ষণ ও ফিচারসমূহ হচ্ছে- ১৫০ টিরও অধিক ইনোভেশন শোকেস থাকবে, যেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটবে। ১৫ টিরও অধিক সেশন ও ডায়ালগে খাত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং ১টি বিশেষ ইনোভেশন হাব তথা নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির কেন্দ্রস্থল হবে এ ইনোভেশন ফেয়ার এছাড়া, ৫০ টিরও অধিক দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ থাকবে এ মেলায়।
মেলায় ৫০ টিরও অধিক ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টস এর উপস্থিতি তথা ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, ৫০ টিরও অধিক কর্পোরেট, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে এ মেলায়।
ইন্ডিভিজুয়াল/শিক্ষার্থী/গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট/ইন্ডাস্ট্রি/এমএনসি, সরকারি সংস্থা/ আইএনজিও/এনজিও, এসএমই/সার্ভিস প্রোভাইডার, স্টার্ট-আপ/আইডিয়া ইনকিউবেটর এবং গ্রিন এন্টারপ্রেনারদের মেলার প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। মেলার প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ আগস্ট। নিবন্ধনের জন্য www.innovationfairbd.orgএ ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।
#
আবদুল্লাহ/মারুফা/তারানা/তানভীর/রোকন/জোহরা/২০২৬/১৩৪৪ ঘণ্টা