কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৮:০১ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১৯-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৯-০৮-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৮
শহর থেকে গ্রাম—প্রতিটি মানুষের কাছে উন্নত, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে
-- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়েও উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরো উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।
গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরো কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি টেলিকম খাতে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আরো সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বৈদেশিক বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বিনিয়োগ অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উৎসাহিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে।
উপদেষ্টা আরো জানান, মোবাইল ফোনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমিয়ে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক মোবাইল ব্যবহারকারী এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করেন উল্লেখ করে তিনি তাদের স্মার্টফোন ও ডেটা ব্যবহারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের তরুণদের AI-ভিত্তিক দক্ষতার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, উন্নত নেটওয়ার্ক, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও AI টুল ব্যবহারের সুযোগ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে তরুণ প্রজন্ম বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আরো এগিয়ে যাবে। তিনি মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য AI প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।
রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#
জসীম/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/সেলিম/২০২৬/১৮৩০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৭
পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপের সাক্ষাৎ
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিসহ অপরিহার্য সামাজিক সেবাগুলোকে জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, শিশু ও তরুণেরাই আজ ও আগামী দিনের জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশের কারিগর। তাই, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুসারে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ ‘সীসামুক্ত বাংলাদেশের জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষী কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩৫)’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ইউনিসেফের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সীসাদূষণের পাশাপাশি অন্যান্য দূষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সৃষ্টিতে শিশুদের কোনো দায় না থাকলেও তারাই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু কোনো না কোনো জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯ জন একইসাথে তিন বা ততোধিক দুর্যোগঝুঁকির সম্মুখীন।
সরকার অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক শিশু জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (CCRI) এবং শিশুদের জন্য জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ (CLAC) প্রণয়নে মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে অভিযোজনসহ জলবায়ু পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ত করতে ইউনিসেফ সহযোগিতা করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে এ সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়েও ইউনিসেফ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পরিবেশবান্ধব ও দুর্যোগসহনশীল বিদ্যালয়ের মডেল গড়ে তোলার উদ্যোগে ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে পাঠ্যক্রমে জলবায়ু ও পরিবেশ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, ইয়ুথ ক্লাইমেট নেগোশিয়েটরস ফেলোশিপ ও ইয়ুথ ক্লাইমেট সামিট আয়োজন এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের নেটওয়ার্কের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এসময় মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ সাইদুর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
#
তোফাজ্জল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮০০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের
কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন, শহিদ পরিবারগুলোর উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকার পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
আজ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই মন্ত্রণালয় এবং নবগঠিত জুলাই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধার কল্যাণে কাজ করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ থাকবে না।
জুলাই’২৪ এর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আহতদের সেবায় সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
সভায় উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আহতদের চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের ও শহিদ পরিবারদের পুনর্বাসন এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।
অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহিদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।
বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহিদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যান্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার কর্তৃক মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।
সভায় জুলাই শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
#
শাকিলুজ্জামান/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/সঞ্জীব/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৭০০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৫
২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপনে জাতীয় কর্মসূচি
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপন করা হবে। এ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।
গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। এদিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া, ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক-জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানারে সজ্জিত করা হবে এবং সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে এবং সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজস্ব অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠসহ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এছাড়া, স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বই মেলার আয়োজন করবে এই প্রতিষ্ঠান।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেশের সকল সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
#
আবুবকর/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৯৩০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৪
কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সব প্রাথমিক বিদ্যালয় আসছে সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায়
-- প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
চট্টগ্রাম, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
আজ চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা (FLN)-এর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্যের গরমিল দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করতে হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরো শক্তিশালী হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে কার্যকর ও নিয়মিত পরিচালিত হতে হবে, শিক্ষকের উপস্থিতি হতে হবে বাস্তব ও নিশ্চিত, শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে এবং তারা কী শিখছে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি সব ধরনের সুবিধা প্রকৃত শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখা এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নন-নেগোশিয়েবল’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিশুর প্রায় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার কথা, সেটিই মূলত প্রাথমিক শিক্ষা। সেই শিক্ষা সরকারি, বেসরকারি কিংবা ইংরেজি মাধ্যম যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের আয়তন, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ, পাঠ্যবই ও কারিকুলাম অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অপর্যাপ্ত বা অনিরাপদ স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আছে কি না, তা মনিটরিং কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত কারিকুলাম ও মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি অঙ্গীকার পরিষ্কার-আনট্রেইনড কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
উল্লেখ্য, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
তানভীর/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/সঞ্জীব/কনক/সেলিম/২০২৬/১৭৩০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২৩
সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে
--দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ‘প্রোমোটিং পারসন উইথ ডিজেবিলিটি ফ্রেন্ডলি ইনক্লুসিভ ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলেন্স প্র্যাকটিসেস (আইসিজেআরপি)’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রান্তিক অংশীজন হিসেবে নয়, বরং সমান অধিকারসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে সামনে রেখে আমাদের অবকাঠামো, পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের সব সাইক্লোন সেন্টার ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে। সেখানে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী র্যাম্প, প্রশস্ত প্রবেশপথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগার, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, পৃথক ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও শ্রবণ, দৃষ্টি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতার ধরন বিবেচনায় নিয়ে সহজবোধ্য ও বহুমাধ্যমভিত্তিক করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মোঃ শামসুদ্দোহা প্রমুখ।
#
মাহবুবুর/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/সঞ্জীব/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬২৬ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২২
টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে নবীন প্রকৌশলীদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার
সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সবার জন্য উন্নত মানের যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে হবে।
মন্ত্রী আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগদানকৃত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরো গতিশীল করতে দক্ষ মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
মন্ত্রী যোগদানকৃত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি দায়িত্ব শুধু চাকরি নয়, এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে নিয়মিতভাবে সমৃদ্ধ করার জন্যও মন্ত্রী তাদের আহ্বান জানান।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগসেবা পৌঁছে দিতে হবে। একইসাথে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও জনবান্ধব টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
পরিচিতি সভার শুরুতে মন্ত্রী টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে অবস্থিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) সেন্টার এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নবনিযুক্ত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
#
জসীম/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৬৫০ঘণ্টা
Handout Number: 819
Halal Food Culture and Values Can Become an Asset for Humanity
-Information Minister
Dhaka, 19 August,
Information and Broadcasting Minister Zahir Uddin Swapon has said that halal food culture and values can become an asset and a source of strength not only for the Muslim world but also for the entire human civilization.
He made the remarks as the chief guest at a seminar titled ‘Think Halal, Grow Global,’ organized by the Malaysian High Commission at the Radisson Blu Hotel in the capital today.
The Information Minister said halal food, halal culture and halal values would not only become a source of strength for the Muslim community; they would also become a source of strength for humanity. Referring to the large global market for halal food, he said the development of halal products and culture is not merely a religious or cultural matter; it is also linked to the global economy and human welfare.
Highlighting the shared values of Bangladesh and Malaysia in religious and social spheres, the Information Minister said Bangladesh and Malaysia can jointly leverage their shared values, culture and experiences to play an important role in developing the halal industry and expanding the global market for halal products.
The Information Minister said demand for halal products is steadily increasing in the global market. People are waiting for access to more quality halal products. At the same time, investors are also looking for opportunities to capitalize on the potentials of this sector. Therefore, the right concepts, information, knowledge and a business framework need to be developed for entrepreneurs involved in the halal industry.
He remarked that if the right concepts and knowledge can be brought together, this will develop into a large market and further increase the acceptance of halal products among the consumers.
The Minister called upon entrepreneurs, investors, businesspeople and relevant institutions to work together in a coordinated manner in this regard.
Referring to the recent visit of the Prime Minister Tarique Rahman to Kuala Lumpur, Zahir Uddin Swapon said that the way Malaysian Prime Minister Anwar Ibrahim welcomed the Prime Minister of Bangladesh during the visit, and the way the Malaysian authorities made excellent arrangements for the Bangladesh Prime Minister, were a shining example of the friendly relations between the two countries. For this, he expressed gratitude to the Government of Malaysia and its Prime Minister on behalf of the Prime Minister and the Government of Bangladesh.
He said the foundation of the friendly relations between Bangladesh and Malaysia is not limited to state-level communication; the relationship can be further strengthened through the values, culture and mutual cooperation of the peoples of the two countries. He remarked that the halal industry could emerge as an important new area of such cooperation.
Malaysian High Commissioner Mohd Shuhada Othman and President of the Bangladesh-Malaysia Chamber of Commerce and Industries Anwar Shahid addressed the seminar.
Businesspeople, investors, entrepreneurs and representatives of relevant sectors attended the event.
#
Imranul/Khadiza/Marufa/Tanvir/Rokan/Amirul/2026/1330 Hrs
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২০
সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯১তম সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
আজ ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। জনগণের স্বার্থরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। তাই জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং দরিদ্র মানুষের জীবিকা রক্ষার স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে এগোতে হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্বপ্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে।সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি যথাযথ অনুসরণের নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ইজারা মূল্যগুলোকে যুগোপযোগী এবং সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন।
সভায় কিশোরগঞ্জ জেলার ১২টি জলমহালের প্রস্তাবের ৯টি, খুলনা জেলার ১২টির মধ্যে ৬টি, হবিগঞ্জ জেলার ৩০টি থেকে ২০টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৫৪টির মধ্যে ৪৩টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো অধিকতর যাচাইপূর্বক পরবর্তীতে উপস্থাপন করতে এবং যেখানে প্রস্তাবিত ইজারা মুল্য যথাযথ নয় সেখানে পুনঃইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া, পাবনা জেলার ২৩টি জলমহাল উন্মুক্ত করার প্রস্তাব সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
#
আসাদুজ্জামান/মারুফা/তারানা/রোকন/কামাল/২০২৬/১৫৪০ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮২১
হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৩১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য এবং সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪। গত ১৫ মার্চ হতে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৮২৩ এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
#
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর/মারুফা/তারানা/তানভীর/রোকন/জোহরা/২০২৬/১৫৩১ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৮
দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি ২০২৬
সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তর কতৃক বাস্তবায়নাধীন ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী নৌযান শুমারির তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
নৌপরিবহন খাতকে আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং একটি সমন্বিত ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যৌথভাবে এ নৌযান শুমারি পরিচালনা করবে।
২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী নৌযান শুমারি পরিচালিত হবে। এ শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ডাটাবেজ দেশের নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাত সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর ফলে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো কার্যকর করা, নৌ নিরাপত্তা জোরদার করা, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সহজ হবে।
এ শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিকসহ অন্যান্য অংশীজনদের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক নিয়োজিত শুমারি কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুমারি কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নৌযান শুমারি ২০২৬ কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
দেশের নৌপরিবহন খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক করার ক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
#
আরিফ/মারুফা/তারানা/রোকন/কামাল/২০২৬/১৪৫০ ঘন্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৭
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে জাইকা'র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের সাথে আজ ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় জাইকা'র প্রতিনিধিত্ব করেন জাইকা'র বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো (TAKAHASHI Junko)।
সাক্ষাৎকালে মায়ানমার হতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান, নারী শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা অর্জন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ, কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন এবং ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম শক্তিশালীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী শুরুতেই জাপান এবং জাইকাকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে সকল ধরনের উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়, এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাইকার কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হলে জাইকার প্রতিনিধি দলও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি সিগনেচার প্রজেক্ট। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো খরচ নয়, এটি মূলত একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থকে নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটানোসহ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের কাজে লাগাতে পারছেন।
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে দক্ষ কেয়ার গিভারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়; এ লক্ষ্যে তিনি জাপানের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প জাপানের বাজারে রপ্তানির বিষয়েও সহায়তা চান তিনি।
জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশে জাইকার সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে জানান, জাইকা নারী ও শিশুর কল্যাণ, কক্সবাজার অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সহায়তা, নারীদের কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাইকার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
#
রায়হান/মারুফা/তানভীর/সাঈদা/রোকন/আমিরুল/২০২৬/১৪১০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৬
হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের নয়, মানবসভ্যতার জন্যও সম্পদ
-তথ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও একটি সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
আজ রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘Think Halal Grow Global’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল খাদ্য, হালাল সংস্কৃতি এবং হালাল মূল্যবোধ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই শক্তি হয়ে উঠবে না; এটি মানবসভ্যতার জন্যও শক্তি হয়ে উঠবে। হালাল খাদ্যের বড় বৈশ্বিক বাজার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সাথেও সম্পর্কিত।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে নিজেদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ও হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হালাল পণ্যের সম্ভাবনার কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক বাজারে হালাল পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। মানুষ আরো মানসম্পন্ন হালাল পণ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সাথে বিনিয়োগকারীরাও এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ খুঁজছেন। তাই হালাল শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও একটি ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বড় বাজারে রূপ নেবে এবং ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য চমৎকার আয়োজন করেছে, তা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জনগণের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েও এ সম্পর্ক আরো গভীর হতে পারে। হালাল শিল্প সেই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার Mohd Shuhada Othaman ও বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সভাপতি আনোয়ার শাহিদসহ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
#
ইমরানুল/তারানা/রোকন/কামাল/২০২৬/১৩০০ ঘন্টা