কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৯:৪৮ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১৮-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৮-০৮-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৫
লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
--- আইনমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজিয়ে দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে এমন একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম এই পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এজন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ রাজধানীর রমনা এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের নতুন
সাব-ব্রাঞ্চ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য পেশাজীবীর মতো আইনজীবীদেরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এবছর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ আরো বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে প্রবেশের পর প্রশিক্ষণ নেন, বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে; কিন্তু আইনজীবীদের জন্য এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর একজন আইনজীবী মূলত সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞানকে আরো পরিশীলিত করার জন্য বার কাউন্সিলের কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ঋণের সব শর্ত পূরণ করার পরও কোনো উদ্যোক্তাকে সময়মতো ঋণের অর্থ ছাড় না করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অথচ ব্যাংক ওই ব্যক্তির সম্পত্তি মর্টগেজ হিসেবে রেখে দেয় এবং চেকও নেয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষ কোথায় যাবে-এ প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে যারা বিদেশে অর্থ পাচার করে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে এ ধরনের আইন বা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আইনমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা ফাইল ইনিশিয়েট করেন। পরবর্তীতে ঋণ বা আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় মামলা হলে ওই জুনিয়র কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকার কারণে তাকেই আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। চাকরি রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করা কর্মকর্তাদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে।
বার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের আর্থিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছতার আওতায় আনতে অভ্যন্তরীণ অডিটের পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বার কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালী করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ‘রুলস অব বিজনেস’-এর আওতায় বার কাউন্সিলের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের লিগ্যাল প্রফেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বার কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে যা কিছু করা সম্ভব, সরকার তা করবে। তিনি বলেন, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বা দুর্নীতির জায়গা করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে বার কাউন্সিলকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যা আগামী প্রজন্মের কাছে আইন পেশায় আসার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, গতিশীল ও দক্ষ। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বার কাউন্সিলকে আইন শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
#
রেজাউল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/২১০৪ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৪
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের পথচলা
--- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
নারায়নগঞ্জে, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণ—এই অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের পথচলা। আগামী দিনগুলোতে জনগণকে সাথে নিয়ে এই পথচলা আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।
আজ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের ১১টি উপকূলীয় জেলার জন্য ১১টি রেসকিউ বোট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা প্রায়শই আছড়ে পড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে। দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে এ অঞ্চলের মানুষদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। সেই সংকটকালে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রণালয় উপকূলবাসীর পাশে আছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শাইদা শিনিচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো।
#
তুহিন/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/২০৪০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১৩
তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সুরক্ষা ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল
ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
বাংলাদেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, জনআস্থা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করতে সরকার, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রজন্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে অপতথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর কনটেন্টের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘Information Integrity and Social Cohesion in Bangladesh: Policy, Platform Accountability and Collective Action’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে একটি আস্থাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা শুধু অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জনআস্থা, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিকদের অর্থবহ অংশগ্রহণও সরাসরি সম্পর্কিত। একটি বিশ্বাসযোগ্য, নিরাপদ ও আস্থাভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরো বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য পরিবেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং প্রচলিত ও ডিজিটাল উভয় মাধ্যমে মানসম্মত কনটেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সমাজে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ওপর। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আরো নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এলক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকেরও বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ করেছে এবং এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি কনটেন্টে অও-নির্ভর কারসাজির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ তথ্য ডিজিটাল তথ্য পরিবেশে উদীয়মান ঝুঁকির ক্রমবর্ধমান জটিলতা তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, ইউএনএফপিএ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
‘Information Integrity and Social Cohesion in Bangladesh: Policy, Platform Accountability and Collective Action’ শীর্ষক এ নীতি সংলাপটি ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে এবং জার্মান সরকারের সহযোগিতায় আয়োজিত হয়।
#
জসীম/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৯৪০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১২
টেকসই উন্নয়নের জন্য সমতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে
--- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিজ্ঞান ও ইতিহাসের শিক্ষা থেকে আমরা দেখতে পাই, সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পথই একটি সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জার্মান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা জিআইজেড ও নরওয়ে সরকার ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও তথ্যের জগৎ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রবাহের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে তথ্যের পরিসর যেমন বিস্তৃত হচ্ছে, তেমনি ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলাও বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রযুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন একটি দানবীয় জগৎ তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ধ্বংস করে দিতে পারে।
গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ডেটা-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন স¦পন আরো বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার - এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। একইসাথে গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ইউএনডিপির এ ধরনের আয়োজন দেশের গণমাধ্যম খাতে নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে ইউএনডিপি-এর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
#
ইমরানুল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৯০০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১১
শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো গড়ে খেলতে খেলতে শেখার পরিবেশ তৈরিতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে
--- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে খেলাধুলা, আনন্দ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে বিদ্যালয়ে খেলনা, শিক্ষা উপকরণ এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ‘জিরো আউট অব স্কুল চিলড্রেন’। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির বয়সসীমার কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি বিস্কুট বা এক প্যাকেট দুধ দেওয়ার বিষয়টিকে বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনে ততটাই বিস্তৃত পরিকল্পনা ও গবেষণা রয়েছে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তদারকি আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মাঠে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছেন, সেগুলো আমাদের জানান। কেন্দ্র থেকে বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বাস্তবে আপনারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে এর সমাধান করা যায় এবং কর্মসূচিকে আরো কার্যকর করা যায়—সে বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত আমরা জানতে চাই।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। একইসাথে বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে এবং কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি সবগুলো উদ্যোগ একই লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।
#
তানভীর/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/২০০০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮১০
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে
ফার্মা গ্রেড ওয়্যারহাউজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ওষুধাগার তথা সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (CMSD), জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (UNOPS) এবং গ্লোবাল ফান্ডের অংশীদারিত্বে ঢাকার তেজগাঁওয়ে সিএমএসডি প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আজ একটি নতুন ফার্মা গ্রেড ওয়্যারহাউজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
নতুন এই স্থাপনাটি প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী নিরাপদ, দক্ষ ও মানসম্মতভাবে সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত অবকাঠামো প্রদান করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরো জোরদার হবে।
প্রকল্পটি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত ওয়্যারহাউজটির আয়তন হবে ১৪ হাজার বর্গফুট এবং এতে এক লাখ ঘনফুট সংরক্ষণ সক্ষমতা থাকবে। স্থাপনাটিতে আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, HVAC এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকবে। এটি ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত হবে।
গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকার এবং UNOPS-এর সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আধুনিক ফার্মা গ্রেড ওয়্যারহাউজ নির্মাণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিরাপদ, মানসম্মত ও দক্ষ সংরক্ষণ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এমন একটি ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করছি, যা আমাদের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। সংরক্ষণ সক্ষমতা, পরিচালন দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং মানদণ্ড অনুসরণ আরো উন্নত করার মাধ্যমে নতুন ওয়্যারহাউজটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর আরো কার্যকর ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখবে এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্থিতিস্থাপক করে তুলতে সহায়তা করবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS); কিউ কুই, সিনিয়র ফান্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার, গ্লোবাল ফান্ড; নামিরা বসনজাক, অফিসার ইন চার্জ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার, UNOPS বাংলাদেশ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ।
#
মাহমুদুল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬৫৪ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০৯
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্ব
--শেখ রবিউল আলম
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, শুধু বাসে ওঠার পর নয়, বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নারীদের জন্য নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে মহিলা চালক ও মহিলা কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত শুধু নারী যাত্রীদের জন্য এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে সরকার কাজ করছে। ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাসের ব্যবহার বাড়ানো হবে। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ইভি বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, নারী যাত্রীদের জন্য ১০০টি পিংক কালারের ইলেকট্রিক বাস ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি এবং পর্যায়ক্রমে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সেবা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যেই সীমিত পরিসরে এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে বিআরটিসি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আরো জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি বাস নিয়ে এ সেবা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে ২টি এবং বগুড়ায় ২টি বাস চলাচল করবে। ঢাকায় ১০টি রুটে পরিচালিত ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দোতলা বাস। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দোতলা বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দোতলা বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিশেষ বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি—সর্বমোট ১৩৪টি স্টপেজে নারী যাত্রীদের পরিবহন সেবা দেওয়া হবে।
চলমান পাতা ২
---২---
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ সার্ভিসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-শুধু নারী যাত্রীই নন, বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও নারী। এসময় তিনি আরো বলেন, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব বাসে ই-টিকিটিং, সিসি ক্যামেরা এবং ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
মহিলা বাস সার্ভিসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ডিপো, বাস ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিআরটিসি। সম্প্রতি বিআরটিসি ও ‘সহজ’ ডটকমের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত মহিলা বাস সার্ভিসে ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাসে ওঠার আগে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সময় ও কাউন্টার নির্ভরতা কমবে।
এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি বাসে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং ১টি বাসে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সংযোজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রযুক্তি সব বাসে সম্প্রসারণ করা হবে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা যায়, নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা ও রুট পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, মহিলা বাস সার্ভিসের যাত্রী ও সেবাগ্রহীতা এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন অংশীজন।
#
নোবেল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬২৫ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০৮
১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ক্রমে আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে দেশ
--- কৃষিমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট): কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।
আজ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুতও বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হবে।
কৃষিভিত্তিক দেশ হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বাইরে থেকে আমদানি করতে না হয়। সে লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এই জাতটি হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। সেচের জন্য ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
#
জাকারিয়া/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০৭
চীনের সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় রেশম খাতকে
আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করা হবে
--- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
রাজশাহী, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম খাতকে আধুনিক, উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় সহযোগিতা আরো জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।
আজ রাজশাহীতে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড ও চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘Conference on Sericulture Research and Development in the Context of Strategic Cooperation between China and Bangladesh’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি চীন-বাংলাদেশ সিল্ক রিসার্চ সেন্টার (CBSRC)-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেশম বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিশেষ করে রাজশাহী ঐতিহাসিকভাবে ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে পরিচিত। রেশম খাত গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো তুঁত চাষ, রেশম পোকা উৎপাদন, গুটি উৎপাদন, রেশম সুতা তৈরি, বয়ন, পণ্য উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণসহ রেশমের সম্পূর্ণ মূল্য শৃঙ্খলাকে আধুনিক, উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা।
মোঃ শরীফুল আলম বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের রেশম গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও শিল্প উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের রেশম উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল তুঁত জাত, উন্নত রেশম পোকা জাত, রোগ ও পোকা ব্যবস্থাপনা, আধুনিক রেশম সুতা উৎপাদন, গুণগত মান পরীক্ষা এবং মূল্য সংযোজনমূলক রেশম পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেশম খাতে গবেষক, কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন প্রয়োজন, যাতে গবেষণার ফল মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা যায় এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে রেশম শিল্পকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজশাহী সিল্ক ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এর গুণগত মান, পণ্যের বৈচিত্র্য, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ভাইস ডিন ও অধ্যাপক শু কিউজি বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়নে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিল্ক রেশম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রেশম খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চীনে রেশম উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্মার্ট রিলিং, রেশম পণ্যের মান নির্ধারণ এবং নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে রেশম খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ তৌফিক আল মাহমুদ, চীন-বাংলাদেশ সিল্ক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক নুসরত জাহান নিপা, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#
আশিকুর/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮০০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০৬
সরকারি চাকরি জনগণের সেবা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
--- আইনমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি চাকরি শুধু একটি পেশা নয়; এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আজ সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আয়োজনে সম্প্রতি পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, একটি মন্ত্রণালয়ের সফলতা শুধু মন্ত্রী, সচিব বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একার ওপর নির্ভর করে না; প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই একটি মন্ত্রণালয় সফলভাবে পরিচালিত হতে পারে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মচারী যিনি মন্ত্রীর জন্য চা পরিবেশন করেন বা তাঁর দরজা খুলে দেন, তিনিও নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে তাঁর অবদান থাকে। তাই প্রত্যেকের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কর্মকর্তাদের জন্য যেমন আনন্দ ও গৌরবের বিষয়, তেমনি এর সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। নতুন পদে কর্মকর্তাদের আরো বেশি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের কর্মনিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসসহ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#
রেজাউল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৬৫৪ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০৫
মৎস্য খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার রপ্তানি বাড়াতে হবে
--- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ ঢাকায় মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’ -এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সাথে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে খাল খনন, নদী সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসাথে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারো পক্ষে কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও আন্তরিক টিম থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরো আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
#
মামুন/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৮১০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০২
উপজেলাতেই মিলবে চোখের উন্নত চিকিৎসা, আসছে জাতীয় পরিকল্পনা
-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণাধীন ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য আলাদা আউটডোর, ইনডোর ও অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সাথে দেশে প্রায় ১০ লাখ চোখের ছানি অপারেশন, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান চূড়ান্ত করছে সরকার।
আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘WHO SPECS 2030 Initiative’- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। এই উদ্যোগের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে। প্রায় ৫০০টি উপজেলায় চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীতে ছুটতে না হয়।
তৃণমূলের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে ‘প্রাইমারি আই কেয়ার’ বা প্রাথমিক চক্ষু সেবা একটি আবশ্যক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সমন্বয় করে খুব দ্রুত অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন ও রিফ্রাকশন সেবা জোরদার করা হবে।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এনআইওএইচ-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের চক্ষু সেবার সাফল্য তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ছয় মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চক্ষু সেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তৎপরতায় বাংলাদেশ একটি গ্লোবাল সামিট আয়োজনের বড় প্রতিশ্রুতিও অর্জন করেছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে দেশের চক্ষু চিকিৎসাখাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম.এম. কাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডা. তাশি তবগে এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।
#
মাহমুদুল/মারুফা/তানভীর/আতিক/মনির/সাঈদা/আলী/আমিরুল/২০২৬/১৫১০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯৭
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত
বাণিজ্য স্বাভাবিকীকরণ, ভিসা সহজীকরণ ও অবকাঠামো-উচ্চপ্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব
ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
আজ ঢাকায় সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতা পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
বৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন ভিসার আবেদন বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে সিআইআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এরমধ্যে একটি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) উন্নয়নে এবং অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।
সিআইআই জানায়, ভারতে গতবছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।
এনার্জিপ্যাকের সাথে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে এক প্রতিনিধি জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে।
এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিআইআই। ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার ইনসেক্টিসাইড ও ফ্র্যাগ্রেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ জানানো হয়। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বানও জানানো হয়। সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, তাদের স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্য শিল্পে ১০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।
বৈঠকে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
#
কামাল/মারুফা/তানভীর/আতিক/মনির/সাঈদা/আলী/আমিরুল/২০২৬/১৩৪০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৮০০
প্রাথমিক শিক্ষায়, মুখস্থনির্ভরতা কমানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের
ঢাকা ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):
প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, খেলায় খেলায় শেখার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
আজ রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আনন্দময় পরিবেশে খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা হলে শিশুদের শেখার সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি আরো বিকশিত হবে। এজন্য স্থানীয় খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্য বইয়ের সাথে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও শিশুবান্ধব ও খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি জানান, নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাধুলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। ইতোমধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে।
চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে আরো কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না; এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ এবং অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের জন্য একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
#
তানভীর/মারুফা/তানভীর/আতিক/আলী/জোহরা/২০২৬/১৩৪৪ ঘণ্টা