কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৯:৫৭ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৭-০৮-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯৫
মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকসমূহে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ) এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)। মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে ৩১ জুলাই ২০২৬ মেয়াদে সর্বমোট ৪৩টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মেয়াদে ৭টি নীতি/কর্মকৌশল/কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রতিবেদনাধীন মেয়াদে ৩টি আন্তর্জাতিক চুক্তি/প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১টি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ২টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (মে-জুলাই) প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/২১৫০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯৪
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে
ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাব
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এ ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরো উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় করবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/২১৪০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯৩
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো: (ক) বিদ্যমান Rapid Action Battalion বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় Special Response Battalion (SRB) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে; (খ) নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে; (গ) RAB -সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ SRB -এর নিকট স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে; পাশাপাশি, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান RAB -সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/২১১৫ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯২
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কাঁচা মরিচ (HS Code-0709.60.19) ও টমেটো (HS Code-0702.00.19) দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১% থেকে হ্রাস করে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫% এবং পরের মাসে ৩১% নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০২৯
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯১
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই হতে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সকল কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০২৯
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৯০
National Strategy and Multi-Year Action Plan for
a Lead-Free Bangladesh (2026-2035)’-এর খসড়া অনুমোদন
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
সীসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক)-এর সুরক্ষা এবং সীসা দূষণ/বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সীসা (Lead) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সীসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি যেমন: স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর অধীনে পরিচালিত Multiple Indicator Cluster Survey (MICS) ২০২৫ জরিপে দেখা গেছে, ১২ হতে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৩৪% এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭.৫৪%-এর রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সীসা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সীসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫.২% শিশুরা সীসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া, ICDDRB-এর সম্প্রতি গবেষণায় ঢাকার ২ হতে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮% শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সীসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি (Green Growth) নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সীসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সীসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘National Strategy and Multi-Year Action Plan for a Lead-Free Bangladesh (2026-2035)’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কৌশলপত্রে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সীসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সীসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানের লক্ষ্যে Institutional Capacity Building, Surveillance and Identification, Policy and Regulation, Monitoring and Enforcement, Private Sector Engagement, Awareness, Behavior Change and Education, Research and Innovation, Multisectoral Engagement, Coordination and Collaboration-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনদের দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৫০ শতাংশ শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা হ্রাস এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৯৫% শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে (ভিত্তিমান: MICS ২০২৫ জরিপ অনুসারে ৩৮.৩৪ শতাংশ)।
মন্ত্রিসভায় ‘National Strategy and Multi-Year Action Plan for a Lead-Free Bangladesh (2026-2035)’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।
#
কুতুব/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/লিখন/২০২৬/২০২৯
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৯
সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে নিয়মিতই জবাবদিহি করবে। আগামী ৫ বছরের সরকারের ১ হাজার ৮২৫ দিনের মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিনকে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ভিত্তি তৈরির পর্ব।
আজ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং ফ্যাসিবাদের শিখণ্ডীরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
জনগণের সেই ক্ষোভ থেকে উৎসারিত গণঅভ্যুত্থান ৫ আগস্টকে একটি ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশা ছিল সেই ক্ষোভের বিপরীতের আরেকটি প্রতীক। একদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ছিল জনগণের প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের প্রকাশ। আবার ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা, শ্রদ্ধা সম্মান প্রদর্শন করেছেন সেটিও ছিল জনগণের আরেকটি প্রতীকী বার্তা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর, এই তিনটি ঘটনাই বাংলাদেশের জনগণের ফ্যাসিবাদের প্রতি ক্ষোভ, তারেক রহমানের প্রতি আস্থা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়ে তারেক রহমান সরকার পরিচালনা করছেন। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। অবশ্যই সরকার জনগণের সামনে এসে নিয়মিত তার কর্মকাণ্ড তুলে ধরবে এবং যথাযথ প্রশ্নের উত্তর দেবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত আমাদের দলের পরিকল্পনা এবং নির্বাচনি ইশতেহার জনগণের জানা। ইশতেহারের কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, সেটিও ধারাবাহিক ভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষোভের বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে সরকারকে একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজকে জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিস্কার করতে হয়। একইভাবে অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গকে প্রথমেই এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা ও ক্ষত চিহ্নিত করে সেগুলো মেরামত ও কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরির এই কঠিন পর্ব সরকারকে অতিক্রম করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সময়কালে সব কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়নের চেয়ে রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী করে তোলার কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের মেয়াদ যত এগিয়ে যাবে, প্রাথমিক পুনর্গঠনের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পরিকল্পনা আরো মসৃণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সামনে যত এগোব, ততই যথাযথভাবে আমাদের নেতার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সামনে সরকারের জবাবদিহিতার এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
#
ইমরানুল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/রফিকুল/জয়নুল/২০২৬/১৮২০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৮
একটি গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও জবাবদিহিমূলক
রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে
---প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়, এটি ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও অংশগ্রহণের ফসল। গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ ঢাকায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জুলাইয়ের কন্ঠস্বর : তারুণ্য, প্রত্যয়, প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যাবে না। বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া একাধিক আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি অভিন্ন জায়গা তৈরি হয়েছিল রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা যেন জনগণের জন্য পরিচালিত হয় এবং নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়।
তরুণদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং সরকার গঠনের পর তাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। কেউ একটি দলকে সমর্থন করতে পারেন, অন্য কেউ অন্য দলকে সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু দল বা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। দল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সরকারব্যবস্থা যেন সবসময় জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
#
তানভীর/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/আব্বাস/২০২৬/১৭১২ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৭
সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের নতুন যাত্রা
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে সবুজ রূপান্তর ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে স¦াক্ষর হলো এমওইউ
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরো টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।
আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘MoU Signing on Co-oparation in the Field of Circular Economy’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের Ministry of Economic Affairs and Climate Polic -এর মধ্যে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির Climate and Green Growth বিষয়ক মন্ত্রী Stientje van Veldhoven । দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা যেহেতু বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত, তাই এই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।
মন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারিত্বকে আরো সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে।
চলমান পাতা - ২
-- ২ –
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, শিল্পখাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকে বহু-পক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব টেকসই শিল্প উন্নয়ন এবং জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে।
নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ মন্ত্রী Stientje van Veldhoven বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এই রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলাজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এসব আলোচনাকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল (Joris van Bommel)।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতকে জলবায়ু সহনশীল ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#
কামাল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/জয়নুল/২০২৬/১৮১০ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৬
বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে 'বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরো সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। তিনি আরো বলেন, বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের নিকট প্রশংসিত হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ উক্ত সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানি প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
#
ফয়সল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/লিখন/২০২৬/১৬৫৪
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৫
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের ভিত্তি
---তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, নৃগোষ্ঠী বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দর্শনই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল শক্তি।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটেছে। এসব দলের রাজনৈতিক দর্শন বিশ্লেষণ করলে জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র ও নাগরিক পরিচয় নিয়ে তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব মানুষের পরিচয় ও মর্যাদাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন গড়ে উঠতে হবে।
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি আর গণতন্ত্রের সংস্কৃতি এক নয়। একটি রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীরও সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহসহ তার বিভিন্ন পরিণতি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়- বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ করতে হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুসলিম-অমুসলিম, বাঙালি-অবাঙালি পরিচয়কে ঘিরে রক্তাক্ত ইতিহাস ও বিভাজনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে রাজনৈতিকভাবে কাঠামোবদ্ধ করেন। ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি করার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দর্শনের সূচনা করেন।
স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক গভীর সংকটের মধ্যে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, একদলীয় শাসনের বিপরীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং একক পরিচয়ের বিপরীতে বহু পরিচয়, বহু মত ও বহু সংস্কৃতির সহাবস্থান - বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল জায়গা এখানেই।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এই রাজনৈতিক দর্শনকে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন। আজ সেই ধারাবাহিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে গভীরভাবে বুঝতে পারলে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্তর্নিহিত শক্তিও আরো স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারাবাহিক বিকাশ। শহীদ জিয়াউর রহমান যে আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বহন করে এনেছেন; এখন সেই আলোকবর্তিকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এডভোকেট নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
#
ইমরানুল/কামরুজ্জামান/পবন/ফেরদৌস/মোশারফ/রফিকুল/আব্বাস/২০২৬/১৯৫৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮২
দ্রুত কার্গো পণ্য খালাসের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বিমানবন্দরে কার্গো হান্ডলিং সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ বিষয়ে আজ ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরো নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
AI model তৈরি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা অনুসরণকারী নয় বরং নেতৃত্বের অবস্থানে আসতে চাই। তাই সেবার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্গো পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এসময় মন্ত্রী দ্রুত স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বিমানবন্দরে কার্গো হান্ডলিং সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচন করা হয় এবং বিমানবন্দরে ওষুধ আমদানি রপ্তানি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Cold Storage অবকাঠামো নির্মাণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নির্দেশিকা তৈরি, কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ আমদানিকারকের নিকট দ্রুততম সময়ে প্রেরণ এবং আমদানিকৃত পণ্য খুজে বের করার জন্য AI model তৈরি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#
তরিকুল/খাদীজা/মারুফা/আতিক/সাঈদা/আলী/আমিরুল/২০২৬/১৪৪০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৮৪
কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রস্তাব
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
দেশের বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরিভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।
আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রফতানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রফতানি কার্যক্রমের সাথে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন।
অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।
সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এলক্ষ্যে বিমান বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
#
কামাল/খাদীজা/মারুফা/আতিক/সাঈদা/আলী/কামাল/২০২৬/১৫২০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৭৭
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে
-স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সাথে পরবর্তী ধাপে অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারসংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অফিসগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। সংসদ ভবনে ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি অফিসেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকারের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার চালু করা হলে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ কার্যক্রম শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি অফিসে ধাপে ধাপে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের দপ্তর-সংস্থার সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের রাজস্ব আহরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরো জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্রও তুলে ধরেন এবং জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সভায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবসহ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
#
আশরাফুল/খাদীজা/মারুফা/আতিক/সাঈদা/আলী/কামাল/২০২৬/১৩৫৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৭৮
চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতায় বস্ত্র ও পাট খাতের আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনা
-বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ ঢাকার জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘Costume, Culture, and Connection: A Bilateral Symposium on Traditional Attire and Cultural Exchange’ শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়নে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টিদের চীনে পাঠানোর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সাথে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্প সংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ম্যান-মেড ফাইবার ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাথে সাথে অনেক দেশ এখাত থেকে অন্যখাতে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এই রূপান্তরকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
পাটখাত প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সাথে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। চীনের সাথে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, কাঁচা পাটের পরিবর্তে পাটকে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিক ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা গেলে এ খাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি হলে কৃষকরাও উপকৃত হবেন এবং পাট চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
#
আশিকুর/খাদীজা/মারুফা/আতিক/জোহরা/২০২৬/১৩৩৮ ঘন্টা
Handout Number: 779
Strict Quality Assurance Essential to Boost Fisheries Exports
-Fisheries, Livestock and Agriculture Minister
Dhaka, 17 August,
Fisheries, Livestock, and Agriculture Minister Mohammed Amin Ur Rashid has said standardised quality control across all stages of fish production is crucial to tapping the growing global demand for safe food and expanding Bangladesh's export footprint.
Speaking as the chief guest at a national seminar titled "Fisheries Resources in Building a Self-Reliant Bangladesh: Present Context and Future Action Plan," the Minister highlighted that global market dynamics have shifted from sheer food availability to strict safety and quality benchmarks.
"We must align our production strategies with international market demands and current local challenges. Identifying key bottlenecks and resolving them on a priority basis will accelerate sector growth," the Minister said during the event organized by the Bangladesh Fisheries Research Institute (BFRI) at the Bangladesh Agricultural Research Council (BARC) today.
The Minister underscored the need to expand natural fish sanctuaries, adopt eco-friendly farming practices, and embrace modern technology to maximize yield in limited space. He noted that heavy reliance on chemical fertilizers and pesticides continues to pollute natural breeding grounds.
Addressing export diversification, Amin Ur Rashid urged producers to look beyond the traditional non-resident Bangladeshi diaspora. "While our diaspora provides a steady market for freshwater species, earning higher foreign exchange requires catering to the tastes and preferences of local consumers in destination countries," he added, citing high-potential items such as shrimp, crab, and eel.
Speaking as the special guest, State Minister for Fisheries and Livestock Sultan Salauddin Tuku, MP, raised concerns over aquatic habitat loss driven by river encroachment, siltation, and industrial pollution.
The State Minister announced plans to restore aquatic ecosystems through large-scale dredging projects. "Under the leadership of Prime Minister Tarique Rahman, the government has launched an initiative to re-excavate nearly 20,000 kilometres of silted rivers and canals to restore natural breeding habitats," State Minister stated.
He also voiced alarm over the indiscriminate use of antibiotics in aquaculture, warning that it inflates production costs and compromises food safety. The ministry plans to launch district-level awareness campaigns to educate fish farmers on safe practices.
Chaired by BFRI Director General Dr. Md. Latiful Islam, the seminar featured a keynote presentation by BFRI Senior Scientific Officer Dr. Md. Mashiur Rahman. Fisheries and Livestock Secretary Md. Delwar Hossain, Director General of the Department of Fisheries Dr. Md. Khaled Kanak, Director General of the Department of Livestock Services Md. Shahjaman Khan, alongside senior officials, scientists, and academics, were present at the event.
#
Mamun/Khadiza/Marufa/Atik/Saida/Ali/Amirul/2026/1330 Hrs.
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৭৭৬
মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে
-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী
ঢাকা, ২ ভাদ্র (১৭ আগস্ট):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে।
আজ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) কতৃক আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়'- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য খাতে বর্তমানে কী সমস্যা আছে, আগামী দিনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, মানুষের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের চাহিদা-এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে পারলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের জন্য পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজননকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ খায় তা নয়, যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে সে দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।
চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়া সহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খননকাজ হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।
মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিএফআরআই এর বিজ্ঞানীবৃন্দ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআই এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।
#
মামুন/খাদীজা/মারুফা/আতিক/সাঈদা/আলী/আমিরুল/২০২৬/১৩২০ ঘণ্টা