কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ১০:১৮ PM

Handout 15 July 2026

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৭-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৫-০৭-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৩৯

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি

ঘরে ফিরছেন মানুষ, ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে জোর সরকারের

-- বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন।

এ অঞ্চলের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন, উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ বিতরণ শেষে আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্রগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এই অঞ্চলের ৫টি জেলায় আনুমানিক ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দুর্যোগ শুরুর প্রথম দিন থেকে প্রশাসনের জরুরি তৎপরতায় প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে কোথাও কোথাও বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মানুষ নিজ নিজ বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত ১৫ জুলাইয়ের সরকারি হিসাব অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন মাত্র ২ হাজার ২৯৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন; যার একটি বড় অংশই আজ বিকাল বা আগামীকালের মধ্যে ঘরে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, ‘১১ জুলাই আপনাদের এলাকায় এসে আমি চট্রগ্ৰাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার এবং বান্দরবানে গেছি। প্রতিটি জেলায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছি, কোথায় কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা আছে; তা শুনেছি এবং তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করেছি। বিশেষ করে যেসব এলাকার মধ্যবিত্ত মানুষ ত্রাণ কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়নি বা পানিবন্দি হয়ে থাকার কারণে খাবার পাচ্ছেন না; তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং প্রতিটি কাজ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থা গুলোর সাথে সমন্বয় করে তা চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যেখানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল; সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানো হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই মহতি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে বন্যাকবলিত মানুষের বিষয়ে তথ্য ও সহযোগিতা পেয়েছি।

বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করেছেন বলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগ ও কোম্পানি ইতিমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে তা বন্যার্তদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় সশস্ত্র বাহিনী, পেট্রোবাংলা ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ১৫ হাজার ২২৯ প্যাকেট শুকনো খাবার বিলি করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে ৩ হাজার প্যাকেট এবং জ্বালানি বিভাগ ৪ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্র্যাক, ইপসা ও জাগরণী ফাউন্ডেশনের মতো এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আরো ১১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার সুষমভাবে বিলিবণ্টন করা হয়েছে।

চলমান পাতা/২

--০২--

বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে এবং চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৯৫ জন, কক্সবাজারে ৩১০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২৯৩ জন এবং বান্দরবানে ২০০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।

দুর্গত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যার তীব্রতায় অত্র অঞ্চলের বেশকিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা; কক্সবাজারের রামু, পেকুয়া, চকরিয়া ও মাতামুহুরী; রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি ও কাউখালী; খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলা এবং বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও রুমা উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়েছিল।

পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ও নদীভাঙনে স্থানীয় গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ সচল করা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকবলিত অঞ্চলের একটি মানুষও যেন এই সংকটে অনাহারে কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৫টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১,২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮৫ লক্ষ টাকা; কক্সবাজারে ২৫৬ মেট্রিক টন চাল, ২০.৮৫ লক্ষ টাকা, ৭,৮৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৪,৫০০ জনের রান্না করা খাবার; রাঙ্গামাটিতে ২৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫ লক্ষ টাকা; খাগড়াছড়িতে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০.৫০ লক্ষ টাকা এবং বান্দরবানে ৫৫ মেট্রিক টন চাল, ৪ লক্ষ টাকা ও ৩,৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই দুর্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ। এছাড়া ঢাকা থেকে মাননীয় অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সার্বক্ষণিকভাবে ফোনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখে দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

বন্যা পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী কৃষি খাতে এ অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভাগের প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর আবাদী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এর ফলে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বৃহৎ সংখ্যক কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিশেষ কৃষি প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সাময়িক এই ক্ষতি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত সরকার দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সকল পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করবে।

#

আরিফ/শাহাদাত/সঞ্জীব/সেলিম/২০২৬/২২০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৩৮

পরিবেশমন্ত্রীর সাথে কোরিয়া রিসোর্স সার্কুলেশন এজেন্সির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সাথে আজ ঢাকায় সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে কোরিয়া রিসোর্স সার্কুলেশন এজেন্সি (কেওআরএ)-এর চেয়ারম্যান LEE MYUNG HWAN-এর নেতৃত্বে আগত ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কোরিয়ান প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে রিসোর্স সার্কুলেশন, ইপিআর সিস্টেমের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকায়ন, রিসাইক্লিং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কেওআরএ-এর চেয়ারম্যান লি মিয়ুং হোয়ান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী আগ্রহ সহকারে তাঁদের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

#

তোফাজ্জল/শাহাদাত/সঞ্জীব/সেলিম/২০২৬/২১৩০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৩৪

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার এবং কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। এছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ’৭১ ও ’২৪-এর শহিদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

#

ফয়সল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/শাহাদাত/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৯৩০ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৩২

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে

নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিবৃন্দের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত Jean Marc Sere Charlet, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত Sarah Cooke, স্পেনের রাষ্ট্রদূত Gabriel Sistiaga, জার্মান দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফের্য়াস Anja Kersten এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মিশনের ডিপুটি চিফ Beiba Zerina সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয়পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এয়ারবাস যুক্তকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশীয় স্বার্থ বজায় রেখে টেকসই মিক্সড ফ্লিট তৈরির ক্ষেত্রে এয়ারবাস ক্রয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে প্রতিনিধিগণ প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

#

তরিকুল/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৯০০ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৩১

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সরকার পুনর্বাসনের দিকে জোর দিচ্ছে

-- ত্রাণমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বন্যার পানি নেমে যাবার প্রেক্ষাপটে সরকার ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি পুনর্বাসনে জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরণের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোরকম দুর্নীতি স্বজনপ্রীতিকে বরদাস্ত করা হবে না।

আজ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বন্যা প্লাবিত মানুষের ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি নাই। যারাই দুর্গত তাদেরকে ত্রাণ দিতে হবে। আর এ ধরণের কোনো অভিযোগ যদি আসে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে খাল পরিদর্শন করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল যে, আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের এসমস্ত খালগুলোকে পুনঃখনন করব। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল কেটে যে বিপ্লব করেছিলেন। তখন খাদ্যে আমাদের ঘাটতি ছিল। এই খাল কাটার মাধ্যমে খাদ্য উদ্‌বৃত্ত হয়েছিল। সেই খাদ্য বিদেশে রফতানি করা হয়েছিল। আজকে আমি সরেজমিনে দেখলাম, খাল কাটার ফলে অনেকখানি পানি নিষ্কাশন হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘খালের বাকি অংশের কাজ যাতে সামনের শুকনা মৌসুমে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য আমি আমার মন্ত্রণালয় থেকেও বরাদ্দ দিব। খালটাকে আরো সুন্দর করার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়ে গেলাম। আমাদের বাংলাদেশের ৫০টি জেলায় একটি মডেল খাল আমরা চিহ্নিত করব। আশাকরি এই খালটাকেও আমরা মডেল খালের মধ্যে নিয়ে আসতে পারব। এরপর তিনি খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

#

তুহিন/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/লিখন/২০২৬/১৭২০ঘন্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর : ২২৯

ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে নিন্মোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

আজ ১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন শহিদ হয়েছিলেন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সকল শহিদের মাগফিরাত কামনা করছি।

১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ আমাদের সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।

রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেইসব অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

#

আশরোফা ইমদাদ/কামরুজ্জামান/রফিকুল/কনক/শামীম/২০২৬/১৮২০ ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ২২৮

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উদ্যোক্তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে

--- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে।

আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সাথে ভার্চুয়াল (জুম) সভায় অংশগ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারা দেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষিত উদ্যোক্তা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিক ভাবে খামারিদের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তিনি কর্মকর্তাদেরকে খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেন এবং এ বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইমাম উদ্দীন কবীর ও সৈয়দা নওয়ারা জাহানসহ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোঃ বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার এসময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকগণ ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

#

মামুন/কামরুজ্জামান/বিবেকানন্দ/রফিকুল/কনক/জয়নুল/২০২৬/১৭২০ঘণ্টা


Handout Number: 226

US Ambassador calls on the Housing and Public Works Minister

Dhaka, 15 July:

The United States Ambassador to Bangladesh, Brent T. Christensen, called on the Minister of Housing and Public Works, Zakaria Taher, at the Minister's office in the Bangladesh Secretariat today.

During the meeting, the both sides discussed on further strengthening the long-standing friendly relations between Bangladesh and the United States. They also exchanged views on wide range of issues of mutual interest, including the housing sector, the National Building Code, urban development, affordable housing for the general public, and the development of public spaces and parks.

In the meeting, the Minister sought the cooperation of the United States in establishing the Bangladesh Earthquake Safety and Research Institute (BESRI) to strengthen the country's earthquake disaster management capacity. In response, the Ambassador assured his support in facilitating contacts with experienced U.S. experts in the field. The Ambassador Christensen also expressed the interest of various U.S. organizations in contributing to the development of Bangladesh's housing sector.

The Meeting was attended by the Secretary of the Ministry of Housing and Public Works, along with other senior officials of the ministry and the Embassy.

#

Alamgir/Khadiza/Marufa/Tarana/Tanvir/Mahfuz/Ali/Zohora/2026/1435

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২২০

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পাচার ও চোরাচালান রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে

-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কর্তৃক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ (National Dissemination) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক, বিজিবি'র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬” এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আরো বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

মন্ত্রী আরো বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে; এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যাতে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

#

ফয়সল/খাদীজা/মারুফা/তারানা/তানভীর/আলী/জোহরা/২০২৬/১৩৩৮ ঘণ্টা


তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১৯

খাল খনন করে চট্টগ্রামবাসীকে বন্যামুক্ত করা হবে

-আসাদুল হাবিব দুলু

চট্টগ্রাম, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, সমতল সমৃদ্ধ এ নগরীর খালগুলো পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে নগরবাসীকে বন্যার দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দেয়া হবে।

আজ সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ অন্যান্যরা বক্তৃতা করেন।

#

তুহিন/খাদীজা/মারুফা/তারানা/তানভীর/আলী/জোহরা/২০২৬/১৩৩৮ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১৮

তথ্য অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

নিবন্ধনকৃত গণমাধ্যমসমূহকে নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, সরকারি নিবন্ধন ও ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টসহ অসত্য খবর পরিবেশন করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইতোমধ্যে অসত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য কোনো কোনো গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে। যেকোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, পেশাদারী দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাক্ট চেক (Fact Check) করা গণমাধ্যমের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য উৎসকে সংবাদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কারণে অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ফলে অপতথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট মূলধারার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণেই যেকোনো সংবাদ প্রচারের আগে ফ্যাক্ট চেক করা বৈধ গণমাধ্যমের জন্য অপরিহার্য ও অবশ্য পালনীয় বলে তথ্য অধিদফতর মনে করে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে প্রচলিত বিধি-বিধানের আওতায় আনতে সরকার বাধ্য। তাই বেনামী, ভুয়া কিংবা অনিবন্ধিত কোনো মাধ্যমকে সংবাদের উৎস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকল বৈধ গণমাধ্যমকে তথ্য অধিদফতর সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

দেশের সকল গণমাধ্যমকে (সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, আইপি টিভি) তাদের স্বাক্ষরিত ডিক্লারেশন ও নিবন্ধনের নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

#

খাদীজা/মারুফা/তারানা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/১১৪৫ ঘণ্টা

আজ বিকালপাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১৭

জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“আজ ‘জুলাই শহিদ দিবস’। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই বেদনাবিধুর দিনে আমি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহিদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করি। তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আন্দোলনে আহত সেই সব সাহসী তরুণ-তরুণী, যুবপ্রজন্মকে যাঁদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যাঁরা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। আমি জুলাই যোদ্ধা ও গণ‌-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদতবরণ; এক‌ই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে দেয় এক নতুন মোড়, দেয় তীব্র মাত্রা। এরপর আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আপামর জনতার রাজপথে নেমে সক্রিয় ও সুতীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় গণ‌-অভ্যুত্থান।

এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন‌ নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। জুলাই শহিদদের আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাই-এর চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।

শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

আসুন, শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ-একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক সৌহার্দপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

আমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করি।

আমি ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।”

#

রাহাত/খাদীজা/মারুফা/তারানা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/১২০০ ঘণ্টা

আজ বিকাল পাঁচটার আগে প্রচার করা নিষেধ

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১৬

ত্রাণ বিতরণে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আনা হচ্ছে না এবং কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, সরকারি ত্রাণ সরকারি চ্যানেলে বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এরপর শুর হবে পুনর্বাসন কার্যক্রম।

গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সাথে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আসাদুল হাবিব দুলু আরো বলেন, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কৃষিখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উঁচু স্থানে বীজতলা তৈরির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আসন্ন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না হয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলার চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে স্বাস্থ্য সেবার প্রস্তুতির বিষয়ে নিয়মিত তথ্য দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

#

তুহিন/খাদীজা/মারুফা/তারানা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/১০০০ ঘন্টা

Handout Number: 215

Adviser Titumir seeks stronger UN support for smooth LDC graduation and SDG acceleration

New York, 15 July:

Adviser to the Prime Minister for the Ministry of Finance and the Ministry of Planning Rashed Al Mahmud Titumir has called for stronger United Nations support to ensure Bangladesh's smooth and sustainable graduation from the Least Developed Country (LDC) category, accelerate SDG implementation and advance the country's reform agenda.

The Advisor had separate meetings with UN Under-Secretary-General for Economic and Social Affairs Li Junhua, UN Under-Secretary-General & Executive Secretary of UN-ESCAP Armida Salsiah Alisjahbana and UNDP Assistant Secretary-General & Regional Director for Asia and the Pacific Kanni Wignaraja yesterday. During these meetings Titumir explained the rationale behind Bangladesh's request for a three-year extension of the LDC graduation preparatory period in order to make the graduation irreversible.

The Adviser said the Government's democratic mandate had strengthened its reform agenda, with a focus on institutional reform, accountable governance and people-centred development. He also highlighted the Government's 3R Strategy-Recovery, Restoration and Reconstruction for Acceleration-as the roadmap for restoring economic stability and advancing long-term development.

USG Li Junhua reaffirmed UN DESA's support for Bangladesh's development journey, pledged cooperation on the LDC transition process and praised the Government's Universal Social Security Protection System.

Executive Secretary of UN-ESCAP Alisjahbana reaffirmed UN-ESCAP's support for Bangladesh’s LDC transition, regional connectivity and climate resilience, while UNDP Director Wignaraja reiterated UNDP's commitment to supporting democratic governance, institutional reforms and Bangladesh's sustainable development priorities.

#

Press NYPM/Khadiza/Marufa/Tanvir/Ali/Asma/2026/1000 hours

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১৪

এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

নিউইয়র্ক, ১৫ জুলাই:

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরো জোরালো সহযোগিতার আহ্বান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল পৃথক বৈঠকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহব্বান জানান।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন ডেসার প্রধান লি জুনহুয়ার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ইউএন ডেসার অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল ও টেকসই করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানার সঙ্গে বৈঠকে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি সরকারের থ্রি-আর কৌশল অর্থাৎ- রিকভারি, রিস্টোরেশন এন্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সেলারেশন- এর কথা তুলে ধরে বলেন, এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউএন-এসক্যাপের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সরকারের সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে বৈঠকে উপদেষ্টা গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কান্নি উইগ্নারাজা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং এসডিজি অর্জনে ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

#

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্ক/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/১০০০ ঘন্টা

Handout Number: 213

Bangladesh calls for stronger global partnerships and technology transfer to accelerate SDGs at UN

New York, 15 July:

State Minister for Planning Zonayed Abdur Rahim Saki has called for increased grants, concessional financing, technology transfer and stronger international partnerships to accelerate implementation of the Sustainable Development Goals (SDGs).

Delivering Bangladesh's national statement at the General Debate of the High-Level Political Forum on Sustainable Development (HLPF) 2026 at United Nations Headquarters yesterday, the State Minister highlighted the Government's Recovery, Restoration and Reconstruction (3R) Strategy to restore economic stability and strengthen institutions following the February 2026 elections.

He also outlined key national initiatives, including increased public investment in education and health, dredging 20,000 kilometres of rivers and canals, planting 250 million saplings, expanding renewable energy and green industries, developing a carbon market, strengthening domestic resource mobilization, introducing a universal life-cycle-based social protection programme and launching the Farmers Card to enhance rural livelihoods, food security and agricultural productivity.

Reaffirming Bangladesh's commitment to sustainable development, the State Minister said the Government is pursuing key reforms and investments to advance inclusive and sustainable development. He emphasized the need for stronger global partnerships to accelerate implementation of the 2030 Agenda.

#

Press NYPM/Khadiza/Tanvir/Ali/Asma/2026/1000 hours

তথ্যবিবরণী নম্বর: ২১২

এসডিজি বাস্তবায়নে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

নিউইয়র্ক, ১৫ জুলাই:

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

গতকাল জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের (এইচএলপিএফ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন (থ্রি-আর) কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্পের সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, জীবনচক্রভিত্তিক সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ডচালুর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

টেকসই উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি এসডিজি বাস্তবায়ন এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

#

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্ক/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/১০০০ ঘন্টা

টিভি স্ক্রল নম্বর: ১২

টেলিভিশন চ্যানেলে স্ক্রল আকারে প্রচারের জন্য

সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া

ঢাকা, ৩১ আষাঢ় (১৫ জুলাই):

সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিম্নোক্ত বার্তাটি স্ক্রল আকারে প্রচারের জন্য অনুরোধ করা হলো:

মূলবার্তা:

‘চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সকল কেন্দ্র বর্তমানে পরীক্ষার উপযোগী, সর্বক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার-মাহ্‌দী আমিন।’

#

খাদীজা/তানভীর/আলী/আসমা/২০২৬/৯.৩০ ঘণ্টা

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন