কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৮:৪৫ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ০৬-০২-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৬-০২-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৪০
যমুনার সামনে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি
ঢাকা, ২৩ মাঘ (৬ ফেব্রুয়ারি):
শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে বল প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। আজ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয় শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিবৃতিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরো জানানো হয় দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন। বিবৃতিতে দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
#
ইয়াকুব/খায়ের/মোশারফ/কনক/শামীম/২০২৬/২০৪৫ ঘণ্টা
Handout Number: 2439
Duty-Free Benefits for 7,379 Bangladeshi Products
Bangladesh and Japan signed historic EPA in Tokyo
Tokyo (Japan), 6 February:
In a landmark milestone for bilateral relations, Bangladesh and Japan officially signed the ‘Economic Partnership Agreement’ (EPA) today in Tokyo. This is the first time Bangladesh has signed an Economic Partnership Agreement (EPA) with any country.
The Advisor for Commerce of Bangladesh, Sk. Bashir Uddin and HORII Iwao, State Minister for Foreign Affairs of Japan, signed the agreement on behalf of their respective governments at a ceremony held at the Ministry of Foreign Affairs of Japan. The Commerce Secretary, Mahbubur Rahman, the Ambassador of Bangladesh to Japan, Md. Daud Ali, the Ambassador of Japan to Bangladesh, SAIDA Shinichi, and senior officials from the Japan and Bangladesh Government were also present during the signing ceremony. The final agreement is the outcome of seven rounds of intensive and constructive negotiations held in Dhaka and Tokyo respectively, focusing on trade in goods and services, investment and economic cooperation.
In his remarks at the ceremony, Advisor Sk. Bashir Uddin described the agreement as a reflection of the enduring and time-tested friendship between the two counties. He stated, this EPA is not merely a trade document; it is a manifestation of Bangladesh’s bright economic future and the profound mutual trust between our two countries. He expressed optimism that the effective implementation of this agreement would initiate a new chapter of mutual respect and prosperity.
Under this agreement, Bangladesh will gain significant advantages in trade of both goods and services. Approximately 7 thousand 379 Bangladeshi products, including ready-made garments, will enjoy hundred percent duty-free access to the Japanese market. In return, Bangladesh has also broadened its market for Japan, allowing one thousand 39 Japanese products duty-free or preferential access in a phased manner.
Notably, with the inclusion of the ‘Single Stage Transformation’ facility for the apparel sector, Bangladeshi garments can now be exported to Japan much more easily, without complex conditions regarding raw materials. Alongside this, opportunities will be created for Bangladeshi skilled professionals to work in approximately 120 service sectors across 16 categories in Japan-including IT, engineering, education, caregiving and nursing. This will ensure significant employment opportunities for Bangladeshis in Japan. In return, Bangladesh has agreed to open 98 sub-sectors under 12 categories for Japan.
Beyond increasing trade volume, it is expected to catalyze a new wave of Japanese Investment (FDI) in manufacturing, infrastructure, energy and logistics, etc. The integration of Japanese advanced technology and investment will enhance the quality of domestic products, making Bangladesh more competitive globally. Additionally, by fostering the growth of Small and Medium Enterprises (SMEs) and developing a skilled workforce, this agreement will serve as a powerful tool for inclusive economic growth and the socio-economic development of Bangladesh as a whole.
#
Shafi Ullah/Khadiza/Atik/Ali/Shafi/2026/1500 hrs.
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৩৮
৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক ইপিএ স্বাক্ষরিত
টোকিও (জাপান), ৬ ফেব্রুয়ারি:
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আজ টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মত কোনো দেশের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা নেগোসিয়েশনের ফলই এ চুক্তি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাঁর বক্তব্যে এ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এ ইপিএ চুক্তিটি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায়
সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
উল্লেখ্য, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। এর পাশাপাশি, জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা (Trade in service) খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হলে আমাদের দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। এছাড়াও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
#
শফি উল্লাহ/খাদীজা/আতিক/আলী/শফি/২০২৬/১২১০ ঘণ্টা