কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৯:৫৭ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১০-০২-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১১-০২-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৮১
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা আইল্যান্ড ইকোপার্ক উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম মৌজায় বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনাস্থ চনপাড়ায় আজ পরিবেশবান্ধব শীতলক্ষ্যা আইল্যান্ড ইকোপার্কের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় নদীভাঙন রোধে ব্যাংক প্রটেকশন ও কী-ওয়াল নির্মাণসহ প্রাথমিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে এলাকাটিকে জনবান্ধব ও পরিবেশসম্মত করে গড়ে তুলতে বিআইডব্লিউটিএ-এর নিজস্ব অর্থায়নে ইকোপার্কের নির্ধারিত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, নদী আমাদের জীবন ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীতীর সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব, অন্যদিকে জনগণের জন্য নিরাপদ ও মনোরম বিনোদনস্থল সৃষ্টি করা যায়। চনপাড়ার এই ইকোপার্ক তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
উপদেষ্টা আরো বলেন, নদী বন্দর এলাকার উন্নয়নকে শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, পরিবেশ ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন যে, এই ইকোপার্ক শহরের উপকণ্ঠে স্হাপিত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের অবকাশ যাপন ও বিনোদনের পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
#
আরিফ/পবন/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২০০০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৮০
নৌখাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি
বন্দর উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ সম্প্রসারণ ও শিপিং খাতে
রেকর্ড সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সময়কালের সামগ্রিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিকায়নমূলক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের নৌখাত আজ একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লালদিয়া এলাকায় হেভি লিফট কার্গো জেটি নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি PPP মডেলে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য APM Terminals BV-এর সঙ্গে ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে অপারেশনে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা, ব্যয় ৮৩৭ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪০ দশমিক শূন্য আট কোটি টাকা। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বকালের সর্বোচ্চ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা (PRF) প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার একটি মাইলফলক। পায়রা বন্দরে দেশি ও বিদেশি জাহাজ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিএফটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক, ব্রিজ ও মোবাইল হারবার ক্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী, ভাসানচর ও অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলে সি-ট্রাক ও ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় দুর্গম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরাপদ, সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে। নতুন লঞ্চঘাট, পন্টুন ও জেটি স্থাপনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যাত্রী সাধারণের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ৩০ এর অধিক লঞ্চঘাট এবং পঞ্চাশ (৫০) এর অধিক পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে বলে উপদেষ্টা জানান। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩০৬ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে এবং নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দেশের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আদায়ও সরকারের সাফল্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে GMDSS, কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটহাউজ স্থাপনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় নৌনিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মেরিন একাডেমি ও ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটসমূহে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাবিক ও মেরিটাইম জনবল তৈরিতে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা যায়।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, নৌখাত কেবল পরিবহন ব্যবস্থাই নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। আমাদের লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেরিটাইম হাবে পরিণত করা। এই অর্জনগুলো সেই লক্ষ্যে আমাদের দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
#
আরিফ/পবন/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/মোশারফ/সেলিম/২০২৬/১৯২০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৯
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরসনে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে
-- নারী ও শিশু উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরসনে ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের মাধ্যমে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করে সর্বক্ষণিক সেবা, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আজ ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বৈরশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্যহীন, মানবিক, উদার ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সংস্কারমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। জুলাই কন্যাদের শনাক্তকরণ ও সংখ্যা নিরূপণ, তাদের জীবনের গল্প সংরক্ষণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিদ্যমান কাঠামো রূপান্তর করে জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়েছে। এর খসড়া আইন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ দ্বারা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ আইনি কাঠামো, কর্মপরিধি প্রদান করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ দ্বারা পরিবারের নারী ও শিশুর অধিকার মর্যাদা ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির বাস্তব প্রতিফলন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ভোটারগণের সচেতনতার কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভাতাভোগীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, অসহায়, দুস্থদের ভাতা, মাদ্রাসার গরিব ছেলে-মেয়েদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট, ক্যান্সার রোগীদের ভাতা বৃদ্ধি, জুলাই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে যে সকল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যারা আসবেন তারা এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
#
রফিকুল/পবন/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/মোশারফ/সেলিম/২০২৬/১৮৪০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৮
চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো এর উদ্বোধন
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
আজ চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ (Port Single Window-CPA SKY) এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর একটি পূর্ণাঙ্গ Smart Port এবং Paperless ব্যবস্থার দিকে যাত্রা শুরু করল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম.এ. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই সিস্টেম চালুর ফলে বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমের গতি ৩ থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
উল্লেখ্য, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (CPA SKY) এর মাধ্যমে Single Sign-On (AIS 2.0) ব্যবহারকারীরা একটি মাত্র লগইন এর মাধ্যমে সকল সেবা পাবেন। Real-time Monitoring এর জন্য ডিজিটাল রাডার এবং অটোমেটেড ভেসেল ট্র্যাকার সুবিধা পাবেন। Automated Vessel Tracker এর মাধ্যমে জাহাজের অবস্থান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া, Faster Customs & Port Clearance এর মাধ্যমে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক বিভিন্ন দপ্তরে না গিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব অনুমোদন ও Cargo Clearance সম্পন্ন করার সুবিধা পাবেন। এতে প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা ব্যবসা সহজীকরণ বা Ease of Doing Business এ সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী দিনে ড্যাশবোর্ড থেকে দেখা যায়, বর্তমানে বন্দরের Berth Utilization ৬৭%, যেখানে ২১টির মধ্যে ১৪টি বার্থ সচল রয়েছে। এছাড়া, সিস্টেমে ১২৮-টি জাহাজ (Vessels Discovered) ট্র্যাক করা হচ্ছে। এটি মূলত ম্যানুয়াল কাজের চাপ কমিয়ে একটি দক্ষ ও Digital Transformation নিশ্চিত করবে।
#
জসীম/পবন/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/২১২২ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৭
২০২৬ সালে হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন
-- ধর্ম উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় হোটেল ভাড়া সবমিলিয়ে প্রায় এক হাজার সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। হজযাত্রী প্রতি পরিবহন ভাড়া ১০০ সৌদি রিয়াল কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন।
আজ দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় ধর্ম সচিব মোঃ কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আয়াতুল ইসলাম, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফজলুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিলো সেটি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে বারবার যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমান ভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টিকে উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। এই প্যাকেজের হাজিদের বাড়িভাড়া ও হোটেল টু হারাম শরীফ যাতায়াত পরিবহন বাবদ ধার্যকৃত টাকা এবং সাশ্রয়কৃত সার্ভিস চার্জ একত্রিত করে তাদের আবাসন হারাম শরীফের কাছাকাছি এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলে হাজিদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবে।
ড. খালিদ বলেন, গত দেড়বছর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করেছি। এর ফলে গত দেড়বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এছাড়া, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০তম হতে ২০তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
#
আবুবকর/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/মোশারফ/সেলিম/২০২৬/১৮৩০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৬
ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফরিদপুর, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
উপদেষ্টা আজ ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক, বিজিবি'র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনের তিনটি নতুন বৈশিষ্ট্য অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অনন্য। এগুলো হলো- সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, তাদের প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রণীত 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ' ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও আনসার সদস্যরা নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেলে এটি চালু করা হবে।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে কিনা নির্বাচনের পূর্বে তা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেসব ভোটকেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করতে হবে, প্রয়োজনে বাঁশ দিয়ে হলেও বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় বিভিন্ন প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখতে হবে। কেননা, কোনো কোনো আসনে পোস্টাল ব্যালট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সচেতন থাকার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু রিজার্ভ ফোর্স রাখতে হবে। তিনি বলেন, ফজরের সময় থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করবে, সে সময় থেকে শুরু করে ফলাফল গণনা ও প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। ভোট গণনা দেরি হলে তা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেজন্য রিজার্ভ ফোর্স রাখতে হবে এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার সুবন্দোবস্ত করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ, অনৈতিক সুবিধা ও খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টার কম সময় রয়েছে। তাই সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারে টহল বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, স্ট্রাইকিংয়ের ম্যাপ আগে থেকে নির্ধারণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এমনভাবে হতে হবে যাতে দ্রুত ঘটনা ঘটলে সাড়া দেওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ভূরাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই এদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রতি বহির্বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে। নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সহিংসতার হার খুব কম। তিনি এ সময় সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
#
ফয়সল/পবন/তাহমিনা/খায়ের/ফেরদৌস/মেহেদী/মোশারফ/সেলিম/২০২৬/১৯১০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৫
গণভোট ও নির্বাচন উপলক্ষ্যে মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধন
গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় আমরা সবসময় পাশে আছি
-নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়ির সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, মিডিয়াকর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা সব সময় পাশে আছি। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঠিক তথ্য তুলে ধরব।
সিনিয়ির সচিব আজ গণভোট-২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত কাজে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তথ্য অধিদপ্তরের মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বিদেশি সাংবাদিকদের সহায়তায় বিমানবন্দরে একটি হেল্প ডেস্কও খোলা হয়েছে। এসময় অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে তথ্য ও সম্পচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর উপস্থিত ছিলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, নির্ভুলভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা এবং নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ইত্যাদি কাজগুলো এবার খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা পর্যায়ক্রমে এগুলো সম্পন্ন করেছি। ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা তৈরি আছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অপপ্রচার ও অপতথ্য রোধ করে আপনারা সঠিক তথ্য তুলে ধরুন । ভোটের ফলাফল গণনার সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফলাফল প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘায়িত হবে না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা সভাপতির বক্তৃতায় বলেন, এ মুহূর্তে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ পর্যন্ত নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১৯টি দেশ থেকে আমাদের এখানে সাংবাদিকরা এসেছেন। তাদেরকে সহায়তা করা ও নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব। মিডিয়া সেন্টার থেকে তাদেরকে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হবে। সচিব বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মিডিয়া সেন্টারে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট রাখা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে একটি গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। তারা তা অনুসরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মাধ্যমে নির্বাচন বিষয়ে সকল তথ্য আন্তর্জাতিক মাধ্যমে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। প্রায় ৫৪০জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এখানে আসবেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীরা রয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সহায়তাপূর্ণভাবে কাজ করে আসছে যাতে তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর দপ্তর সংস্থার প্রধানগণসহ নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
#
ফাতেমা/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আতিক/সুবর্ণা/সাঈদা/আলী/জোহরা/২০২৬/১৫৫৭ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৪
দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
উপদেষ্টা আজ ঢাকায় ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, ঢাকা সেনানিবাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি) কে দুর্যোগ সক্ষমতা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সকলের কাছে সমাদৃত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এসব সরঞ্জাম সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্যোগকালীন সময়ে আরো দ্রুত, কার্যকর ও নিরাপদ করবে। বিশেষ করে দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আজকের এ সরঞ্জামাদি হস্তান্তরের মাধ্যমে আমরা তাঁদের সক্ষমতাকে আরো উন্নত শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছি।
উপদেষ্টা আরো বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সংস্কার করা হচ্ছে। এ সংস্কারের আওতায় দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম এ মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রেখে সমন্বয় করা হবে। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম চলমান আছে পরবর্তী সরকার এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করবে।
এবারের প্রকল্পের আওতায় যে যন্ত্রপাতিগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তিনটি হেভি ডোজার (৪৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন), তিনটি ডোজার (২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন) এবং তিনটি ফর্কলিফট। এ যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত KOMATSU কোম্পানির নির্মিত। এসব যন্ত্রপাতি উচ্চ সক্ষমতা, টেকসই গঠন এবং দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এসময় উপদেষ্টা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত গাড়িসমূহের চাবি হস্তান্তর করেন এবং হস্তান্তরিত যন্ত্রপাতিসমূহ পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বক্তৃতা করেন।
#
এনায়েত/খাদীজা/মারুফা/তানভীর/আতিক/আলী/আসমা/২০২৬/১৫৪৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ২৪৭৩
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
ঢাকা, ২৭ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই টেকসই উৎপাদন, সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থরক্ষায় একাধিক আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য খাতে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও ২০২৬’ জারীর মাধ্যমে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, ইলেক্ট্রোফিশিং নিষিদ্ধকরণ এবং অন্যান্য এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় মৎস্য নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা, ২০২৬’, ‘মৎস্যখাদ্য বিধিমালা, ২০২৪’, ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা, ২০২৪’ এবং ‘মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং গভীর সমুদ্র ব্যতীত বাণিজ্যিক ট্রলারে SONAR ব্যবহার দুই বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে ‘জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২৬’, ‘প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা, ২০২৬ (খসড়া)’ এবং ‘ভেটেরিনারি ঔষধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ (খসড়া)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট সুবিধা এবং এ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা বলেন, জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত উপকারভোগী জেলের সংখ্যা ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৬ জন থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আসছেন।
তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ছয়টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিলুপ্তপ্রায় দেশিয় মাছ সংরক্ষণে দেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭টি অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। তবে এই হ্রদটি এখনো অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নদীর প্রজননক্ষেত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৬টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে হালদা থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। হালদা নদী জাতীয় অর্থনীতিতে আটশত কোটি টাকার অধিক অবদান রাখছে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, পশুর প্লেগ রোগ (PPR) নির্মূলে তিন কোটি ৬১ লাখ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬ লাখ এর অধিক ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে তিন কোটি ছয় লাখ ৬২ হাজার চারশত ৬২ ডোজ গবাদিপশুর টিকা এবং ৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার ছয়শত ডোজ হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স প্রতিরোধে স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন প্রণয়ন, স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন চালু এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে জুনোটিক রোগ নির্ণয় ও নজরদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রমজান মাসে ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৪৫ টাকা কেজি দামে ড্রেসড ব্রয়লার, ৮০ টাকা লিটার দামে দুধ, ৮ টাকা পিস দামে ডিম এবং ৬৫০ টাকা কেজি দামে গরুর মাংস সুলভ মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্হানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য স্হায়ীস্হান নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও জলবায়ু প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত COP30 সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে। এতদিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণভাবে খরা, বন্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন তার সীমা অনেক দূর ছড়িয়ে গেছে। বিশেষকরে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদের ওপর তীব্র প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ওপর ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, প্রাণিজ আমিষের যোগান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখার পরও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট এ খাতকে পূর্ণাঙ্গ খাতের মর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খামারিদের সুরক্ষা এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের-এর উপস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব
মোঃ ইমাম উদ্দীন কবীর, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুর রউফ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
#
মামুন/বিবেকানন্দ/তানভীর/আতিক/সাঈদা/সুবর্ণা/জোহরা/২০২৬/১৬৩০ঘণ্টা