কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০৯:২৯ PM
কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ১০-০৪-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১০-০৪-২০২৬
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৭২
ফেনীর দাগনভুঞাতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখায় ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা
ফেনী, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
গতকাল ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার সততা ফিলিং স্টেশনে পরিচালিত এক মোবাইল কোর্ট অভিযানে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের এবং এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানে জানা যায়, উক্ত ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৭টা থেকে সারারাত জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি), দাগনভূঞা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ফিলিং স্টেশনে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
ফিলিং স্টেশনের মালিক প্রাথমিকভাবে দাবি করেন যে, ডিস্পেনসিং মেশিনটি নষ্ট ছিল। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনে মেশিনটি সচল অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসৎ আচরণের প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদানপূর্বক তা আদায় করা হয়।
উক্ত অভিযানে মোট ১টি মামলা দায়ের এবং ১ জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।
ফেনীর জেলা প্রশাসক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
#
আরিফ/শাহাদাত/মোশারফ/সেলিম/২০২৬/২১২০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৭১
হজযাত্রায় নিষিদ্ধ পণ্য বহন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
ঢাকা, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
হজযাত্রায় নিষিদ্ধ পণ্য বহন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ থেকে হজযাত্রীদেরকে হজ এজেন্সি কিংবা অন্য কারো প্ররোচনায় নিষিদ্ধ পণ্য বহনে নিষেধ করা হয়েছে।
সৌদি সরকারের আইনে হজযাত্রীর লাগেজে নেশা জাতীয় ঔষধ, তামাক পাতা, জর্দা, গুল, পানপাতা, শুঁটকি, রান্না করা খাবার ও পচনশীল দ্রব্যাদি বহন করা নিষিদ্ধ। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইনেও এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সৌদি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বারবার সতর্ক করার পরও এধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ বিষয়ে হজযাত্রীদেরকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সৌদিতে কোনো হজযাত্রীর লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সেদেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরূপ কাজে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর হজ পালনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এমনকি তিনি হজ করার সুযোগ নাও পেতে পারেন। এ কারণে কোনোভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বহন করা যাবে না।
উল্লেখ্য, এবছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীরা সৌদি গমন করবেন।
#
আবুবকর/শাহাদাত/পবন/মেহেদী/সঞ্জীব/কনক/সেলিম/২০২৬/১৮৫০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬৯
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬: নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু
আয়োজন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রীর
ঢাকা, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এবং এ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসমূহের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর কেন্দ্র সচিবদের সাথে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সভায় মন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও সহায়ক হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে পরীক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, খাতায় যা-ই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং একটি মেধাবী জাতি গঠনে সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
খালিদ/শাহাদাত/পবন/মেহেদী/সঞ্জীব/কনক/শামীম/২০২৬/১৭৫০ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬৮
ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সীমান্ত
এলাকাসহ সারাদেশে বিজিবির তৎপরতা জোরদার
ঢাকা, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অসাধু মজুতদার, কালোবাজারি ও পাচারকারী চক্রের অপতৎপরতা রোধ এবং সর্বোপরি ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকাসহ সারাদেশে অভিযানিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ রাত ১ টার দিকে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাবের একটি যৌথ দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় রাজু ও খোরশেদ নামক দুই ব্যক্তির গুদামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত মোট নয়টি ব্যারেলে প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। অভিযানে স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুত, বোতলজাতকরণ এবং ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামক স্টিকার ব্যবহার করে তা বাজারজাত করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট গুদাম সিলগালাসহ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে মাত্র তিন মাসেই ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করেছে বিজিবি। জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী ও কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়া গত ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৯২ লিটার সর্বমোট ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার ভোজ্য তেল জব্দের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুত ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোজ্য তেল পাচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত ও বিশেষ টহল বৃদ্ধি করেছে এবং চিহ্নিত চোরাকারবারি ও চোরাচালানে ব্যবহৃত রুট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তবর্তী গুদামসমূহে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করে অবৈধ মজুত জব্দ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটারের বাইরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সাথে সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভোজ্য তেল পাচারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং সবাইকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
#
শরীফুল/শাহাদাত/পবন/মেহেদী/সঞ্জীব/কনক/শামীম/২০২৬/১৭২৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬৭
বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে পাস
ঢাকা, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। গতকাল জাতীয় সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিল আকারে পাসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।
পাস হওয়া নতুন আইনে শ্রমিকদের স্বার্থে বেশকিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শতকরা হারের জটিলতা থাকছে না এবং সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন বা চার মাস করা হয়েছে। এছাড়া, বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিনে উন্নীত করা হয়েছে এবং ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন অথবা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘যৌন হয়রানি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং যৌথ দর-কাষাকষি প্রতিনিধি মনোনয়নের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া এ আইনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রম আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠনসহ শ্রমবিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসারে নাবিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইন পাস হওয়া কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয় বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতিফলন। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফার বাস্তবায়নে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সরকার আশা করছে, এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে ইতিবাচক ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।
#
বোরহান/পবন/মেহেদী/সঞ্জীব/কনক/আব্বাস/২০২৬/১৬৫৫ ঘণ্টা
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬৫
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে বক্তব্য প্রদানকালে
আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির চালচিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী
ঢাকা, ২৭ চৈত্র, (১০ এপ্রিল):
আজ সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে বক্তব্য প্রদানকালে আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির চালচিত্র তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসন, ভ্রান্ত নীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করানোর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অর্থনীতির মূল সূচকগুলো যেখানে ইতিবাচক ধারায় নিয়ে এসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করে গিয়েছিল, বিগত ১৬ বছরে তা অনেকটাই ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসমূহের বাস্তব চিত্র সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে অর্থাৎ ৭ দশমিক ১৭ শতাংশে। পরবর্তীতে দুর্বৃত্তায়ন ও ভ্রান্ত নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৫-০৬ সালে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩.৫১ শতাংশে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৭ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ সালে কমে হয়েছে ৩.৩০ শতাংশ। ২০০৫-০৬ সালে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩.৫১ শতাংশে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৭ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ সালে কমে হয়েছে ৩.৩০ শতাংশ।
কর্মসংস্থান সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, একটি অর্থনীতি যখন শিল্পের চালিকাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তখন কর্মসংস্থান সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। বিগত সময়ে এটি চরমভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি জানান, বিগত এক দশকে কৃষিখাতে মূল্য সংযোজনের অংশ কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ, আর শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতেই বেশি করে নিয়োজিত হয়েছে। এতে করে ছদ্ম-বেকারত্ব তীব্রতর হয়েছে এবং তরুণদের শ্রমশক্তি অপচয় হয়ে তাদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সীমিত করছে।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বিষয়ে জানান, ২০০১-২০০৬ সময়ে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যেখানে জাতীয় সঞ্চয় জিডিপির ২৯.৯৪ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ ছিল ২৮.৭৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এই চিত্র উল্টে গেছে। বিনিয়োগ সঞ্চয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাহিদা বৈদেশিক উৎস হতে সংস্থান করা হয়েছে। ফলে বহিঃখাতের উপর চাপ বেড়েছে।
টাকার বিনিময় হার সর্ম্পকে জানান, ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে সেটা হয়েছে ১১১ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকায়। ক্রমাগত অবচিতির কারণে ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ আমলে শুধু বাজেট ঘাটতি যে বেড়েছে তাই নয়, এ বৃদ্ধির মানও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্প ছিল অতিমূল্যায়িত এবং এগুলির সম্ভাব্যতা যাচাইও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করা হয়নি। তাদের বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। ফলশ্রুতিতে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল ভোগ করতে পারেননি। লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত 'শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি'র প্রতিবেদনে বিষদভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের সময় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভাতা প্রদান করা হলেও এর কাভারেজ ও ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি। এতে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে, যা ক্রমান্বয়ে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনেও দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন আর্থিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি, ঋণখেলাপি বৃদ্ধি এবং তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির ব্যাকবোন হিসেবে খ্যাত আর্থিক খাত ধ্বংসের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩.৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.২০ শতাংশে। খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিক ভাবে অনুসৃত সংজ্ঞাকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে ভুলভাবে প্রদর্শন করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে।
#
সিরাজ/কুতুব/মারুফা/সুর্বণা/আলী/শফি/২০২৬/১৪৫৫ ঘণ্টা
Handout No: 3266
‘Bangladesh Business Seminar’ held in Tokyo to expand market
For Bangladeshi export products and increase investment
Tokyo, 10 April:
A ‘Bangladesh Business Seminar’ was held today at the Bangladesh Embassy in Tokyo, Japan, aiming to expand the market for Bangladeshi export products and increase investment. The seminar was jointly organized by the Embassy and the Japan External Trade Organization (JETRO). Bangladesh’s Ambassador to Japan, Md. Daud Ali was present in the Seminer as Chief Guest.
At the seminar, the Ambassador stated that Bangladesh is currently one of the fastest-growing economies in the world and a safe and attractive destination for investment. Referring to the recently signed Economic Partnership Agreement (EPA) as a milestone in bilateral trade relations, he noted that under this agreement, more than 7,000 Bangladeshi products will enjoy duty-free access to the Japanese market. He urged Japanese entrepreneurs to take advantage of this vast opportunity and invest in Bangladesh. He particularly highlighted Bangladesh’s capabilities and large skilled workforce in sectors such as ready-made garments, leather and leather goods, pharmaceuticals, agriculture and food processing, and information technology.
The speakers at the seminar discussed various strategic aspects of Bangladesh’s investment environment. JETRO Dhaka Country Representative Kazuyuki Kataoka delivered a presentation on Bangladesh’s economic progress and potential. Shota Paku, Team Leader of the Industrial Park Unit of Sumitomo Corporation, presented detailed information on the modern and investor-friendly facilities of the Bangladesh Special Economic Zone (BSEZ). Additionally, Iyoto Suzide, a representative of BJIT Inc., highly praised the large pool of skilled human resources in Bangladesh’s IT sector and emphasized the importance of utilizing this vast talent for global needs.
A question-and-answer session was held at the end of the seminar, where JETRO representatives responded to various queries from Japanese businessmen and investors regarding Bangladesh. The session was moderated by Yuji Ando, Senior Director of JETRO, while the welcome speech was delivered by Akiko Okumura, Executive Vice President of the organization. More than a hundred representatives and senior officials from leading Japanese business institutions attended the event.
#
Shafiullah/Qutub/Marufa/Subarna/Ali/Kamal/2026/1515 hours
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬৪
বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ
বৃদ্ধির লক্ষ্যে টোকিওতে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত
টোকিও, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূতাবাস ও জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী।
সেমিনারে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় গন্তব্য। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (EPA)-কে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সাত হাজারেরও বেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া জাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আইটি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিশাল দক্ষ জনশক্তির কথা তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আলোচকগণ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের নানা কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। JETRO ঢাকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। Sumitomo Corporation-এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ইউনিটের টিম লিডার শোতা পাকু বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (BSEZ)-এর আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া, BJIT Inc.-এর প্রতিনিধি ইওতো সুজিদে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত বিশাল দক্ষ জনগোষ্ঠীর ভূয়সী প্রশংসা করে এই বিপুল মেধাসম্পদকে বৈশ্বিক প্রয়োজনে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের শেষ অংশে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে JETRO-র প্রতিনিধিরা জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন JETRO-এর সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংস্থাটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিকো ওকুমোরা। অনুষ্ঠানে জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শতাধিক প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#
শফিউল্লাহ/কুতুব/মারুফা/সুবর্ণা/আলী/কামাল/২০২৬/১৪১৫ ঘণ্টা
Handout Number: 3263
There is no alternative to increasing competitive capacity by keeping LDC graduation in mind - Minister of Industries
Dhaka, 10 April:
The Minister of Industries Khandakar Abdul Muktadir has said that there is no alternative to making the Bangladesh economy more competitive by keeping LDC graduation in mind. In the current global context, effective steps must be taken quickly in this regard.
The Minister made these remarks yesterday in Dhaka at Hotel InterContinental while speaking as the chief guest at the agreement signing ceremony between 12 banks and 4 non-bank financial institutions under the Credit Wholesaling Program organized by the SME Foundation.
The Minister of Industries said that in the current global economic reality, it is essential to ensure easy-term and timely financing for the SME sector to advance the country’s industrial sector. To achieve this goal, the SME Foundation will be transformed into a stronger and more effective institution as the central coordinating body for the development of the SME sector in the country. He noted that low-cost energy had previously played a significant role in the growth of export-oriented industries. However, due to rising energy costs, maintaining competitiveness has become difficult in many cases. Alongside this, global uncertainty and various external challenges have also emerged.
Khandakar Abdul Muktadir stated that due to LDC graduation, many concessional loan opportunities from international development partners have already become limited and will further shrink in the future. Therefore, increasing internal capacity and improving skills are encatial to ensure sustainable economic progress. He added that approximately 2 to 2.2 million new working-age individuals enter the labor market every year. Sustaining consistent GDP growth is essential to ensure employment for them. “Not only for development, but also to maintain our current position, a certain level of growth is necessary,” he said.
Regarding competitive capacity, the Minister of Industries said that Bangladesh’s logistics cost is about 16% of GDP, whereas the global average is around 10%. If this gap is not reduced, it will be difficult to compete in the international market.
Secretary of the Ministry of Industries, Md: Obaidur Rahman, said that the government is working to support entrepreneurs so they can contribute to the country’s economic development, especially to the GDP growth.
It s worth noting that under this agreement, the SME Foundation will provide more than BDT 400 crore in loans to micro, small, and medium entrepreneurs. About BDT 300 crore will be distributed under the Credit Wholesaling Program from the Foundation’s revolving fund. An entrepreneur will be able to receive loans ranging from a minimum of BDT 100,000 to a maximum of BDT 2.5 million, with an interest rate of 8%. For this purpose, the SME Foundation has signed agreements with the mentioned banks and financial institutions.
Additionally, with the support of the Japan International Cooperation Agency (JICA), under an agreement with Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL), the SME Foundation will provide BDT 125 crore in loans at a 9% interest rate to cottage, micro, small, and medium (CMSME) entrepreneurs in agro-based industries and food processing sectors through 7 banks and financial institutions. Under this project, an entrepreneur can receive up to BDT 10 million in loans.
The Managing Director of the SME Foundation and the chief executives of 11 partner banks and 4 financial institutions signed the agreements. The banks and financial institutions include BRAC Bank, City Bank, Bank Asia, United Commercial Bank, Prime Bank, Bengal Commercial Bank, Bangladesh Krishi Bank, Bangladesh Development Bank, Karmasangsthan Bank, National Credit and Commerce Bank, Trust Bank, IPDC Finance, IDLC Finance, LankaBangla Finance, and United Finance.
The signing ceremony was presided over by the Chairperson of the SME Foundation and Secretary of the Ministry of Industries, Md Obaidur Rahman. Bangladesh Bank Deputy Governor Nurun Nahar and President of the Women Entrepreneurs Association of Bangladesh, Nasreen Fatema Awal, were also present. The welcome speech was delivered by SME Foundation Managing Director Anwar Hossain Chowdhury.
#
Kamal/Qutub/Marufa/Ali/Sofi/2026/1101 Hrs.
তথ্যবিবরণী নম্বর: ৩২৬২
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই
-শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা, ২৭ চৈত্র (১০ এপ্রিল):
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশ অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্ত্রী গতকাল ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো সংকুচিত হবে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য। ‘শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন’-উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মান প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে যোগ্য করে তুলতে কাজ করছে সরকার।
উল্লেখ্য , এ চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের রিভলভিং ফান্ড থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদের হার হবে ৮%। এ লক্ষ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি Japan International Cooperation Agency (JICA)-এর সহায়তায় সরকারি সংস্থা Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL)-এর সাথে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদেরকে ৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকরা ৯ ভাগ সুদে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে অংশীদার ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
#
কামাল/কুতুব/মারুফা/আলী/কামাল/২০২৬/০৯১৫ ঘণ্টা