কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ এ ০৭:৩৮ PM

Handout 22 May 2026

কন্টেন্ট: সকল নোট বিভাগ: তথ্যবিবরণী প্রকাশের তারিখ: ২২-০৫-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ২২-০৫-২০২৬

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৪০৭৯

নিরাপদ সড়ক গড়তে সরকার কাজ করছে

-- শেখ রবিউল আলম

কুমিল্লা, ৮ জ্যৈষ্ঠ (২২ মে)

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি, আনফিট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চেক বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০০০ থেকে ৪৫০০ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, শুধু জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেই হবে না, পরিবহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, নিরাপদ ইউটার্ন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র হয়তো হারিয়ে যাওয়া স্বজন ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হলে সেই পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার তা নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য সেবায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের মাঝে মোট ১১৯ টি চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন সড়কমন্ত্রী। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য এর আগে আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি টোল প্লাজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন এবং যাত্রীসেবা আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

#

নোবেল/শাহাদাত/ফেরদৌস/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/১৯২১ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৪০৭৬

যমুনার ভাঙন ঠেকাতে টাঙ্গাইলে স্থায়ী বেড়ি বাঁধের ঘোষণা পানিসম্পদ মন্ত্রীর

টাঙ্গাইল, ৮ জ্যৈষ্ঠ (২২ মে)

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষার্থে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আজ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

এ সময় নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাবৃন্দ।

#

নাছির/শাহাদাত/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/১৭৩৫ ঘণ্টা


Handout Number: 4074

Surprise inspections by State Minister for Shipping; 16 official's stand released

Dhaka, 22 May 2026:

State Minister for Shipping and Bridges, Md. Razib Ahsan, recently conducted surprise inspections at various offices under the Ministry of Shipping in Barishal and Dhaka.

During the inspections, several officers and staff were found absent from their workplaces without prior approval from the competent authority. In addition, many employees were observed arriving at their offices after the official reporting time.

Expressing strong dissatisfaction over the matter, the State Minister directed the concerned authorities to take immediate administrative action against those responsible for negligence of duty and violation of discipline.

Following the Minister’s directives, the Bangladesh Inland Water Transport Authority (BIWTA) immediately transferred (stand released) a total of 13 officials and employees from its Barishal office. Among them, 9 were from the Dredging Department, 2 from the River Conservancy and Operations Department, 1 from the Port and Transport Department, and 1 from the Accounts Department.

Additionally, the Bangladesh Inland Water Transport Corporation (BIWTC) has also immediately transferred 3 employees.

The State Minister instructed all employees of the Ministry and its subordinate offices to perform their duties with sincerity, responsibility and strict adherence to office hours. He further stated that such surprise inspections will continue in the future to ensure discipline, accountability, and improved service delivery in government offices.

#

Arif/ Shahadat//Rafiqul/Likhon/2026/1628 hours

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৪০৭৩

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ১৬ জনকে তাৎক্ষণিক বদলি

ঢাকা, ৮ জ্যৈষ্ঠ (২২ মে)

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান সম্প্রতি বরিশাল এবং ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখতে পান। এছাড়া অনেককে অফিসের নির্ধারিত সময়ের পরে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে দেখেন।

এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগ হতে ৯ জন, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ হতে ২ জন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ হতে ১ জন এবং হিসাব বিভাগ হতে ১ জনসহ মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বদলি করেছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

#

আরিফ/শাহাদাত/রফিকুল/সেলিম/২০২৬/১৬৪৫ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৪০৭২

আস্থা ও সমন্বয়ই পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি

-পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা, ৮ জ্যৈষ্ঠ (২২ মে)

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য পারস্পরিক আস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি।

মন্ত্রী গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

বৈঠকে মন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী ও সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এ চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস) সঙ্গে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে হবে। একই সাথে তিনি জানান, অচিরেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িএই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘোষণা করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে স্থবির করে রাখা কিংবা বিদেশি দাতা সংস্থাকে নিরুৎসাহিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পাহাড়ের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ সব বাহিনী অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থে পর্যটন খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে দাপ্তরিক সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

বিদেশি সাহায্য সংস্থা ও এনজিওগুলোর প্রতি নেতিবাচক বা সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে দীপেন দেওয়ান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের পাহাড়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি বা মনিটরিং না থাকার কারণে দারিদ্র্য বিমোচনের অনেক সরকারি-বেসরকারি অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচের কারণে জুমচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দেন তিনি। মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন ভাবার কোনো সুযোগ নেই; এর অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে একে দেশের মূলধারার অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। সেই সাথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী সময়েও যেন উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কুক্‌কুক্‌ পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান এবং এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও অসমতা দূরীকরণে ইইউর দৃ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা।

#

রেজুয়ান/কুতুব/আতিক/আলী/সফি/২০২৬/১২৪৫ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী নম্বর: ৪০৭১

ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
-ভূমি প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৮ জ্যৈষ্ঠ (২২ মে)
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ভূমি সেবা প্রোভাইডারদের গতিবিধি মনিটরিং করা হবে।

গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সেবা প্রদানকারীদের বারবার জনসেবা প্রদানের বিষয়ে সচেতন করেছি। এখন আমাদের দেখা উচিত জনসেবা ঠিকমতো নিশ্চিত হচ্ছে কী না। এজন্য আমরা একটি ড্যাশ বোর্ড তৈরি করেছি। ড্যাশ বোর্ডটি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে ভূমি সেবা প্রদানকারীদের গতিবিধি মনিটরিং করবে, যা ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এই ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটি প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল সেবকদের ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। তিনি এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন, অফিসগুলোর কার্যাবলী জিও লোকেটরিভাবে আমরা স্পট তৈরি করেছি। যখনই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জিও লোকেটরি করা মোবাইল ফোন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি সেবা প্রদান এলাকায় ঢুকবেন তখনই ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটিতে সবুজ সংকেত জ্বলে উঠবে। আবার যখনই ভূমি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ঐ জিও লোকেটরি এলাকা ত্যাগ করবেন তখন অ্যাপটিতে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। এভাবেই আমরা সেবা প্রদানকারীর সেবা প্রদানের মান নির্ণয় ও মনিটরিং করতে পারব। এর মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অফিসে সেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও সেবা প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মীর হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রান্তিক পর্যায় থেকে ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতিগুলোকে কমিয়ে এনে জনসেবা নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষি জমি, বনের জমি ও জলাশয় কোনো সম্পদকেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না। ল্যান্ড জোনিং পদ্ধতিতে স্ব-স্ব জোন নির্ধারণ করে এসকল সম্পদকে সুরক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এই ল্যান্ড জোনিং কার্যক্রমই রিজার্ভ ফরেস্টগুলো বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও ভূমি মামলা মোকদ্দমা কমিয়ে আনার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ভূমি মন্ত্রণালয় এবার ভূমি মেলার আয়োজন করে গণমানুষের সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক দুষ্টু ও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িতদের কারণে পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কোনোভাবেই বদনামের সম্মুখীন হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে কোনো সময়ই মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; এজন্য আমাদের চিন্তাধারার মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে, আমাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ধারার পরিবর্তন আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরো জানান, বর্তমানে দেশের ১৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নামমাত্র ফি দিয়ে অনলাইন ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ডিজিটাল সেবার আওতায় আসছে। ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ লেনদেন ইতোমধ্যে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও বনভূমি সংরক্ষণে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভূমি খাতে দুর্নীতি কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেবা সহজীকরণ এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ভূমিসেবাকে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা হবে।
ভূমিসেবা মেলার এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল-‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষিখাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান এবং মেলা উপলক্ষ্য আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক-অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাখাওয়াত জামিল সৈকত। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেবাগ্রহীতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় মোট ১২টি স্টলে ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা পরিবেশন করা হয়।
#
রেজুয়ান/কুতুব/আতিক/আলী/কামাল/২০২৬/১০১০ ঘণ্টা

ফাইল ১

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন